একজন নেক্কার স্ত্রী পাওয়া, দুনিয়া ও পরকালের অর্ধেক সফলতা অর্জণ করে ফেলা!

রাসূলুল্লাহ ﷺ- এরশাদ করেছেন, তোমরা মেয়েদের মা-বাবার নাম ধরে গালি দিওনা কেননা আমি রাসূলুল্লাহ্ ﷺ- সকল মেয়েদের বাবা। রাসূলুল্লাহ্ ﷺ-আরো এরশাদ করেছেন, দুনিয়াতে যতকিছু আছে সব তোমাদের জন্য সম্পদ কিন্তু তার মধ্যে উত্তম সম্পদ হলো একজন নেক্কার স্ত্রী।

একজন আদর্শ স্ত্রী তার স্বামীকে মানসিক ও শারীরিক তৃপ্তি দেয় । এমনকি ব্যভিচারের মত জগন্য কাজ থেকেও বাঁচিয়ে রাখে। স্বামীর পোশাক ধুয়ে দেয়, রান্না করে খাওয়ায়, ঘর সাজিয়ে রাখে।

বাড়ি-ঘর পরিষ্কার রাখে, বাড়িতে আসা মেহমানদের আপ্যায়ন করে, বৃদ্ধ মা, বাবার সেবা যত্ন করে, বাবা হতে সাহায্য করে। ছেলে মেয়ের প্রাথমিক শিক্ষা দেয়। স্বামীর অসুস্থতার সময় পাশে থাকেন তিনি।

বিপদের সময় সান্তনা দেয় স্ত্রী। স্বামী যখন কোনো বিষয় নিয়ে চিন্তিত থাকেন তখন স্বামীকে আলতো ভালোবাসা দিয়ে চিন্তা দূর করেন স্ত্রী । এতসব কিছু ই তো স্বামীর জন্য করে স্ত্রী।

এর পরেও স্ত্রী কোনো বিষয় নিয়ে একটু রাগ বা অভিমান করলে একটু ভালোবেসে তার রাগ না ভাঙ্গিয়ে চুলের মুঠি ধরে গালমন্দ করে পিঠায় অনেক স্বামী। নিজ সম্পদ নিজেই মারধর করে নষ্ট করা মোটেও ঠিক না, বরং সোনা রুপা গয়নার মত হেফাজত করা উচিৎ।

সূরা বাকারার ১৮৭ নং আয়াতে আল্লাহ্ সুবহানাহু-তা’লা বলেছেন যে, “রোযার রাতে তোমাদের স্ত্রীদের সাথে সহবাস করা তোমাদের জন্য হালাল করা হয়েছে। তারা তোমাদের পরিচ্ছদ এবং তোমরা তাদের পরিচ্ছদ।”

স্ত্রীরা স্বামীদের জামা অর্থাৎ পোষাক এবং স্বামীরা ও স্ত্রীদের পোষাক। আর পোষাক শরীরের এতটাই জড়িয়ে থাকে যে কখনও শরীর থেকে আলাদা করে ফেলে দেওয়া যায় না। যেসব পুরুষরা মেয়েদেরকে বিনাপরাধে কিংবা সামান্য ভুলে স্ত্রীকে পিটিয়ে নিজের পুরুষত্ব জাহির করে , তারা প্রকৃত সুন্নাহ্ বিরোধী ও কাপুরুষ। সুত্র: সাহাবা নিউজ

শিশু মুর্তজার মৃত্যুদন্ড কার্যকর না করতে সৌদির প্রতি আহ্বান অ্যামনেস্টির

সৌদি আরবের ইস্টার্ন প্রদেশে ১০ বছর বয়সে সরকারবিরোধী স্লোগান দেওয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহের অপরাধে মৃত্যুদণ্ড হতে যাওয়া মুর্তজা কুরেইরিসকে মুক্তি দিতে সৌদি আরবের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল।

তার ফাঁসি কার্যকর হলে সৌদি আরবের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী কারও মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। মুর্তজাকে সৌদির দাম্মাম শহরের পূর্বে অবস্থিত একটি কিশোর কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।

আটকের পর চার বছরের মধ্যে তার সঙ্গে কোনো আইনজীবীর দেখা করার সুযোগ দেওয়া হয়নি। অ্যামনেস্টি জানিয়েছে, আটকের পর কুরেইরিসের ওপর চরম নির্যাতন চালানো হয়। তাকে মিথ্যা প্রলোভন দেখানো হয় যে, যদি সে নিজের অপরাধ স্বীকার করে নেয় তবে ছেড়ে দেওয়া হবে। তবে এখনো এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি সৌদি সরকার।

২০১১ সালে ইসলামি গণজাগরণের উত্তাল সময়ে সৌদি রাজতন্ত্রের নিপীড়ন-নির্যাতনের বিরুদ্ধে এবং গণতন্ত্র দাবিতে সেসময় দেশজুড়ে যে গণবিক্ষোভের সূচনা হয়েছিল, তার অংশ হিসেবেই মুর্তাজা কুরেইরিস তার বন্ধু-বান্ধবদের নিয়ে সাইকেল রাইডে নেমেছিল।

এই অল্পবয়সী বালকদের জড়ো হওয়ার বিষয়টি সেসময় ‘পর্যবেক্ষণ’ করে সৌদি সরকার। ওই বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে তিন বছর পর মুর্তাজাকে ১৩ বছর বয়সে গ্রেফতার করে রাজতন্ত্রের বাহিনী।

পরিবারের সঙ্গে প্রতিবেশী দেশ বাহরাইনে চলে যাওয়ার সময় সীমান্তে তাকে গ্রেফতার করা হয়। সৌদি আরবের ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী ‘রাজনৈতিক বন্দী’ হিসেবে মুর্তাজাকে নিয়ে যাওয়া হয় কারাগারে।

তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, মুর্তাজার ভাই আলী কুরেইরিস মোটরসাইকেলেযোগে পূর্বাঞ্চলীয় শহর আওয়ামিয়াতে গিয়ে থানায় পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করেন, সেসময় তার সঙ্গে ছিল মুর্তাজাও। মুর্তাজার ভাইকে পরে নির্মমভাবে হত্যা করে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী।

গত এপ্রিলে সৌদি আরব প্রায় ৩৭ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, মৃত্যুদণ্ড যাদের কার্যকর হয়েছে, তাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিয়া সম্প্রদায়ের। সৌদি রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে শিয়া মুসলমানদের ওপর দমন-পীড়নের অভিযোগ দীর্ঘদিনের।

ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৬৯১ বন্দীকে ক্ষমা করলেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা

প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ৬৯১ জন বন্দীকে ক্ষমা করেছেন। গত বুধবার ইরানে পবিত্র ঈদুল ফিতর উদযাপিত হয়েছে। ইরানের বিচার বিভাগের প্রধান হুজ্জাতুল ইসলামি রায়িসি’র পাঠানো তালিকা অনুযায়ী সর্বোচ্চ নেতা আজ (রোববার) এসব বন্দীর প্রতি সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন।

ইরানের স্থানীয় আদালত, ইসলামি বিপ্লবী আদালত, দেশটির সামরিক বাহিনীর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আদালত এবং সরকারের বিভিন্ন সংস্থার সংশোধন কেন্দ্রে দোষী সাব্যস্ত ৬৯১ জন বন্দী এই ক্ষমার আওতায় এসেছেন।

এর ফলে এদের অনেকের শাস্তি কমে গেছেন। আবার কেউ কেউ শাস্তি থেকে পুরোপুরি মুক্তি পেয়েছেন। প্রতি বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ক্ষমা পাওয়ার যোগ্য বন্দীদের তালিকা গ্রহণ করেন এবং বিচার বিভাগের প্রধানের সুপারিশ অনুযায়ী তাদেরকে ক্ষমা করেন।

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে