মিয়ানমারে বাংলাদেশের বিমান বিধ্বস্ত; আহত ১৫

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় দুর্ঘটনায় পড়েছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট। গতকাল সন্ধ্যা ৬ টা ২২ মিনিটে ঢাকা থেকে ইয়াঙ্গুনগামী ফ্লাইটটি ইয়াঙ্গুন বিমানবন্দরে অবতরণের সময় রানওয়ে থেকে ছিটকে পড়ে।

খারাপ আবহাওয়ার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে মিয়ানমারে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মঞ্জুরুল করিম খান চৌধুরী এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, পাইলটসহ প্রায় সব যাত্রীই কমবেশি আহত হয়েছেন।

তাদের মধ্যে ১৫ জনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দুর্ঘটনার পর বিমানটি বিধ্বস্ত হলেও এতে আগুন ধরে নি। ফলে যাত্রীরা নিরাপদে নেমে আসতে সক্ষম হয়েছেন।

বিমানবন্দর সূত্র থেকে পাওয়া ছবিতে দেখা যায়, রানওয়ের পাশে ঘাসে আছড়ে পড়া বিমানটির সামনের অংশ ভেঙে গেছে এবং মাঝ বরাবর ফটল ধরেছে। দুর্ঘটনা কবলিত বিমানটি ড্যাশ-৮ মডেলের।

সুত্র: পার্সটুডে

স্যাটেলাইট চিত্রে ধরা পড়লো তিন বছরে ৩১ মসজিদ উপড়ে দিয়েছে চীন

গত তিন বছরে চীনের জিনজিয়াং প্রদেশে ৩১টি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছে। ২০১৬ সালের পর থেকে এই অঞ্চলের বেশ কয়েকটি ইসলামি ধর্মীয় স্থাপনাকে আংশিকভাবেও ধ্বংস করা হয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদপত্র দ্য গার্ডিয়ান এবং ওপেন সোর্স সাংবাদিকতার ওয়েবসাইট বেলিংক্যাটের কার তদন্তে এমন তথ্যই ওঠে আসে।

গবেষণায় চীনের উত্তর পশ্চিমের এই স্বায়ত্বশাসিত অঞ্চলটিতে উপগ্রহের ছবি ব্যবহার করে পরীক্ষা করা হয়েছে। সেখানে ৯১টি ধর্মীয় স্থাপনা পরীক্ষা করেন তারা। গবেষকরা দেখেন, ৩১টি মসজিদ এবং দু’টি প্রধান মন্দিরের কাঠামো ধ্বংস করা হয়েছে।

এই ৩৩টি ধর্মীয় স্থাপনার অর্ধেক বা পুরোপুরি অংশ ধ্বংস করা হয়েছে। আর এই অঞ্চলটির অন্যান্য ধর্মীয় স্থাপনাগুলোরও বিশেষ বিশেষ আকৃতিগুলো ধ্বংস করা হয়েছে। বিশেষ আকৃতি বলতে গেটহাউস, গম্বুজ এবং মিনারেটগুলোকে ধ্বংস করা হয়েছে।

তদন্তে ওঠে আসে, এই অঞ্চলে নয়টি স্থাপনা মসজিদ হিসেবে ব্যবহার করা হতো। তবে স্থাপনাগুলোর ধর্মীয় স্থাপনার কোনো বৈশিষ্ট্য ছিলো না। আর এই স্থাপনাগুলোও ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা পায়নি। স্থাপনাগুলোর বিশ্লেষণ করা হয় অধিবাসীদের এবং গবেষকদের ম্যাপিং সরঞ্জাম সমন্বয় করে।

ধ্বংস করা মসজিদগুলোর মধ্যে ইউটিউয়ান আইতিকা মসজিদটি অন্যতম। এইটি চীনের সীমান্তের উত্তরে হটানের কাছে অবস্থিত। মসজিদটি ১২০০ খ্রিস্টাব্দে স্থাপন করা হয়। এটি স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় ধর্মীয় স্থান হিসেবে পরিচিত ছিলো।

এই অঞ্চলের সবচেয়ে বৃহত্তম মসজিদ কারগিলিক মসজিদ এবং ইমাম আসিম কমপ্লেক্সও ধ্বংস করা হয়। চীনের জিনজিয়াং প্রদেশটিতে তুর্কিক উইগুরসহ অনেক সংখ্যালঘু গোষ্ঠী বসবাস করে। উইগুরদের সাথে অন্যান্য তুর্কী মুসলিম গোষ্ঠীগুলো অত্যাচারের শিকার হচ্ছে বলে এই তদন্তে ওঠে আসে।

যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্টের পরিসংখ্যান অনুসারে, আট লাখ এবং দুই মিলয়ন মুসলিম সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর অধিবাসিগণ চীনের শিক্ষা শিবিরগুলোতে অবস্থান করছে। বলা হয়, ওই শিবিরগুলোতে তাদের শিক্ষার নামে নির্মম অত্যাচার করা হয়।

তবে বেইজিং বলেছে, সন্ত্রাসবাদকে মোকাবেলা করার জন্য ওই শিবিরে তাদের শিক্ষা দেওয়া হচ্ছে। এই শিক্ষা শিবিরগুলোর ব্যাপকভাবে সমালোচনা করছে বিশ্ববাসী।

এর আগেও এই অঞ্চলটিতে গণনার নামে ধর্মীয় স্থাপনাগুলোকে ধ্বংস এবং মুসলিম সংস্কৃতিকে ধ্বংস করার অভিযোগ ওঠে।

নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাসবিদ রিয়ান থুম জানান, ইমাম আসিমের ধ্বংসের ছবিগুলো হতাশাদায়ক। আর নিবেদিত তীর্থযাত্রীদের জন্য এটি আরো মর্মঘাতী।

থুম আরো জানান, চীনা কর্তৃপক্ষ চায় উইঘুরদের সংস্কৃতি ধ্বংস করতে এবং তাদের নিজেদের জমি থেকে তাদের উৎখাত করতে। তবে বেইজিং এই দাবি অস্বীকার করেছে। ধর্মীয় স্বাধীনতা দেশটির একটি স্তম্ভ হিসেবেই রয়ে গেছে বলে দাবি চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালযয়ের।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র গিয়ং শুয়াং জানান, চীন সবসময় ধর্মীয় স্বাধীনতাকে সাধুবাদ জানায়। তবে ধর্মীয় চরমপন্থীদের দৃঢ়ভাবে বিরোধিতা করে।

গিয়ং আরো বলেন, চীনের ২০ মিলিয়নেরও বেশি মুসলমান এবং ৩৫ হাজারেরও বেশি মসজিদ রয়েছে। দেশের আইন অনুসারে অধিকাংশই ধর্মীয় ক্রিয়াকলাপে অবাধে যোগ দিতে পারে।

সুধু গরুর মাংস না, হিন্দুদের ছাগলের মাংসও খাওয়া উচিত না: বিজেপি নেতা চন্দ্র কুমার বোস

ক্ষমতাসীন ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) পশ্চিমবঙ্গের নেতা চন্দ্র কুমার বোস বলেছেন, হিন্দুদের ছাগলের মাংস খাওয়া উচিত না। ভারতজুড়ে গরুর মাংস খাওয়া নিয়ে সহিংসতা এবং গোমুত্র নিয়ে বিজেপির নেতাদের নির্বাচনী প্রচার বিষয়ে বিতর্কের মধ্যে এমন মন্তব্য করলেন চন্দ্র কুমার বোস।

তিনি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের নেতা সুভাষ চন্দ্র বোসের প্রপৌত্র। চন্দ্র কুমার বোস টুইটারে লেখেন, ‘গান্ধীজি কলকাতার উডবার্ন পার্কে আমার দাদা শরৎ চন্দ্র বোসের বাড়িতে মাঝে মাঝে এসে থাকতেন।

সেখানে এসে তিনি ছাগলের দুধ খেতে চাইতেন। তার জন্য দুটি ছাগল নিয়ে আসা হতো। হিন্দুদের রক্ষক গান্ধী ছাগলকে মায়ের মতো দেখতেন এবং তার দুধ খেতেন।’ তবে তার এ টুইটারের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ত্রিপুরার গভর্নর তথাগত রায়।

তিনি পাল্টা টুইটারে জানান, ‘না গান্ধীজি না আপনার দাদা ছাগলকে কখনো মা বলে সম্বোধন করেছেন- এটাই ছিল আপনার সার কথা। না গান্ধীজি (অথবা অন্য কেউ) কখনো দাবি করেছে যে তিনি হিন্দুদের রক্ষাকর্তা। আমরা হিন্দুরা গরুকে মা বলে মর্যাদা দিই, ছাগলকে না।’

টয়লেট ব্রাশের পর এবার বাজারে এলো ট্রাম্প টয়লেট টিস্যু পেপার

এর আগে নিউজিল্যান্ড থেকে তৈরিকৃত ডোনাল্ড ট্রাম্প টয়লেট ব্রাশ অনলাইন বিক্রয় মাধ্যম ‘ইটিএসওয়াই’তে পাওয়া যায়। তখন ওই ডোনাল্ড ট্রাম্প টয়লেট ব্রাশ কিনতে অনলাইন বাজারে ক্রেতারা হুমড়ি খেয়ে পড়ে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প টয়লেট ব্রাশের পর এবার বাজারে এলো ট্রাম্প টয়লেট টিস্যু পেপার। সাদা কালো রঙের ছাড়াও অনলাইন বাজারে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন রঙের ট্রাম্প টয়লেট টিস্যু পেপার।

সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব টয়লেট পেপার পাওয়া যাচ্ছে অনলাইন শপিং রিটেইলার আমাজন ডটকমে। এর মূল্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে বাংলাদেশি মুদ্রায় ১ হাজার ৯৫ টাকা।

এর বিবরণে বলা হয়েছে, ‘মেক টয়লেট পেপার গ্রেট এগেইন’। এছাড়া এতে বলা হয়েছে এটি অসাধারণ এবং চতুর রাজনৈতিক গিফট। ট্রাম্প টয়লেট পেপার!

পাক সীমান্তে ৪ শতাদিক ট্যাংক মোতায়েনের সিদ্ধান্ত ভারতের

ভারতের ৬৭টি সাঁজোয়া রেজিমেন্টের কাছে বর্তমানে টি-৯০ ট্যাংক রয়েছে ১০৭০টি। পাশাপাশি রয়েছে ১২৪টি অর্জুন ট্যাংক, ২৪০০টি পুরানো টি-৭২ ট্যাংক।

পাকিস্তান সীমান্তে রাশিয়ার তৈরি আরও ৪৬৪ ট্যাংক মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। পাকিস্তানের সঙ্গে বিরাজমান অভিন্ন সীমান্তে অতর্কিতে হামলা চালানোর সক্ষমতা জোরদার করার অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

২০২২ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে এ সব ট্যাংক মোতায়েন করা হবে। এ সব ট্যাংক ক্রয়ে ভারতের ব্যয় হবে ১৩,৪৪৮ কোটি রুপি । এ সব ট্যাংকের নৈশ যুদ্ধর সক্ষমতা থাকবে।

পাকিস্তান যখন রাশিয়ার কাছ থেকে ৩৬০টি একই ট্যাংক কেনার জন্য আলোচনা অব্যাহত রেখেছে তখন এ পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। আগামী ৩০ থেকে ৪১ মাসের মধ্যে ভারতকে প্রথম চালানে ৬৪টি ট্যাংক সরবরাহ করা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সুত্র: পার্সটুডে

“কাফের ও শয়তানি শক্তিগুলোর ষড়যন্ত্র ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে”

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেছেন, গত ৪০ বছরে পবিত্র কুরআনের দিক-নির্দেশনা অনুযায়ী কাজ করা এবং পাশ্চাত্যের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তোলার মাধ্যমে তার দেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন ও অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

কাজেই বর্তমানেও কাফের ও শয়তানি শক্তিগুলোর মোকাবিলায় বিজয়ের একমাত্র উপায় তাদের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলা। পবিত্র মাহে রমজানের শুরুতে সোমবার সন্ধ্যায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের এক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে সর্বোচ্চ নেতা এ প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

অনুষ্ঠানে ইরানের বিশিষ্ট ক্বারীদের পাশাপাশি শিক্ষানবিশ ক্বারী ও সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। একজন ক্বারীর তেলাওয়াতের সঙ্গে কুরআনের আয়াত মিলিয়ে দেখছেন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী বলেন,

বিশ্ব মানবতা বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোর জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন কুরআনের শিক্ষা উপলব্ধি করে তা দৈনন্দিন জীবনে বাস্তবায়ন করা। তিনি বলেন, এই কুরআনের শিক্ষা অনুযায়ী সাম্রাজ্যবাদী, কাফের ও শয়তানি শক্তিগুলোর ষড়যন্ত্র ও আগ্রাসনের বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেন, মুসলিম বিশ্বের বর্তমান সমস্যা ও সংকটের প্রধান কারণ কুরআনে কারিমের শিক্ষা না জানা এবং সে অনুযায়ী আমল না করা।

তাঁর মতে, যারা রাজা-বাদশা কিংবা প্রেসিডেন্টের আসনে বসে জাতিগুলোকে ভয় দেখায় পবিত্র কুরআন তাদের বিরুদ্ধে সরাসরি রুখে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে। তাদের ওপর আস্থা রাখা যাবে না বলে কুরআনে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে।

একজন ক্বারীর সঙ্গে কথা বলছেন সর্বোচ্চ নেতা
আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী কয়েক বছর আগে মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার কিছু দেশে প্রচণ্ড গণআন্দোলন ও ইসলামি জাগরণের কথা স্মরণ করে বলেন,

ওই আন্দোলনের মর্যাদা উপলব্ধি না করা এবং আমেরিকার ও ইহুদিবাদী ইসরাইলের প্রতি নির্ভরতার কারণে সেই জাগরণ পুরোপুরি চুপসে গেছে।

কিন্তু ইরানি জনগণ পবিত্র কুরআনের শিক্ষা অনুসরণ করে নিজেদের ইসলামি বিপ্লবের মর্যাদা উপলব্ধি করে প্রথম থেকেই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোকে বিশ্বাস না করে তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছে।

সুত্র: পার্সটুডে

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে