টাঙ্গাইলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে তিনটি স্থানে পালাক্রমে ধর্ষণ, ৬জন গ্রেপ্তার।

টাঙ্গাইলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে তিনটি স্থানে পালাক্রমে ধর্ষণ, ৬জন গ্রেপ্তার।

টাঙ্গাইলে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে (২৫) তিনটি স্থানে নিয়ে গিয়ে মধ্যরাত পর্যন্ত পালাক্রমে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (১২ এপ্রিল) রাতে শহরের নতুন বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন নাভানা সিএনজি স্টেশনের পাশে জঙ্গলে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওই নারীর স্বামী বাদী হয়ে আটজনকে আসামি করে টাঙ্গাইল সদর মডেল থানায় ধর্ষণ মামলা দায়ের করেছেন।

ধর্ষিতার স্বামীর বাড়ি সখীপুর উপজেলায় এবং বাবার বাড়ী কালিহাতী উপজেলায়। ধর্ষিতা নারী মির্জাপুরের গোড়াইয়ের একটি গার্মেন্টসে চাকুরী করেন আর তার স্বামী ওই এলাকায় রডমিস্ত্রীর কাজ করেন।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে- টাঙ্গাইলের সদর উপজেলাধীন কোদালিয়ার আলম মিয়ার ছেলে ইউসুফ রানা (২৫), একই এলাকার রশিদের ছেলে রবিন (২৫), দেওলার আবুল হোসেনের ছেলে জাহিদুল ইসলাম (২১), নাগরপুর উপজেলার ধুবরিয়ার মৃত মজনু মিয়ার মফিজ (২১), কোদালিয়ার রফিকুল ইসলামের ছেলে তানজীরুল ইসলাম তাসিন (২২), দেওলার আল বেরুনীর ছেলে ইব্রাহিম ইবনে আলবেরুনী (২০)। এঘটনায় অপর দুই পলাতক আসামী হলো- দেওলার হাসান সিকদার (২২) ও উজ্জল মিয়া (২৫)।

শনিবার (১৩ এপ্রিল) বিকেলে টাঙ্গাইলের পুলিশ সুপার সঞ্জিত কুমার রায় সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এসব তথ্য জানান। এসময় পুলিশ সুপার বলেন, শুক্রবার রাতে ওই নারী তার স্বামীকে নিয়ে মির্জাপুরের উদ্দেশ্যে কালিহাতীর এলেঙ্গা থেকে টাঙ্গাইল নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তাদের আটক করে। পরে তার স্বামীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নতুন বাসস্ট্যান্ডের নাভানা সিএনজি পাম্পের পেছনে জঙ্গলে নিয়ে স্বামীকে আটকে রেখে ওই নারীকে তিনজনে মিলে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। এসময় তার স্বামী পর্যায়ে ছুটে গিয়ে হাসপাতালের সামনে টহলরত পুলিশ সদস্যদের জানান। এসময় আসামিরা পুলিশের অবস্থান টের পেয়ে ওই নারীকে মোটরসাইকেলে নিয়ে পালিয়ে যায়। তারা শহরের চোরজানা এলাকা ও এর পাশে একটি পরিত্যাক্ত ভবনে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে।

পরে থানা পুলিশ ও টহল পুলিশ গিয়ে ওই নারীকে সাবালিয়ার চোরজানা এলাকার একটি পরিত্যক্ত ভবন থেকে তাকে উদ্ধার করে টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। বর্তমানে ওই নারী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, এঘটনায় বিভিন্নস্থানে অভিযান চালিয়ে ওই রাতেই ছয় জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের ১০ দিনের রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হবে। অপর দুই পলাতক আসামীদের গ্রেফতারের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ সুপার আরও বলেন, আসামী ইউসুফের বিরুদ্ধে এরআগেও ৪টি, রবিনের নামে ২টি ও মফিজের নামে ৫টি মামলা রয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে একজন পরিবহন শ্রমিক রয়েছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. নারায়ন চন্দ্র সাহা বলেন, ‘ওই নারীর শারীরিক পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষ হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। বর্তমানে ঔ মেয়েটি বিপদমুক্ত আছে।’

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে