শেষ মুহূর্তে অাবরার আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে, কালিমা পড়তে পড়তে ই’ন্তেকাল করেন !

0

ভারত বিরোধী পোস্ট দেয়ায় ছাত্রলীগ নেতাদের হাতে খু’ন হওয়া বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ মৃ’ত্যুর আগ মুহূর্তে পানি পান চাইলেও খু’নিরা তাকে পানি দেয়নি।

এ কথা জানিয়েছেন আবরারের সহপাঠীরা। আজ বুধবার বেলা দেড়টার দিকে ছাত্র বি’ক্ষোভে অংশ নিয়ে আবরার ফাহাদকে নি’র্যাতনের বর্ণনা দেন ওই দিনের প্রত্যক্ষদর্শী বুয়েটের শিক্ষার্থীরা।

আবরারের সহপাঠীরা জানান, আবরার মৃ’ত্যুর আগ মুহূর্তে পানি পান করতে চায়। কিন্তু খু’নিরা তাকে পানি দেয়নি। শেষ মুহূর্তে সে আল্লাহর কাছে নিজের ক্ষমা চেয়ে নেয়, এবং কালিমা পড়তে পড়তে ই’ন্তেকাল করে। সেদিনের নিষ্ঠুর ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বুয়েটের শিক্ষার্থীরা মহিউদ্দিন বর্বরতার বর্ণনা দিতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন তিনি।

বুয়েটের শেরেবাংলা হলের শিক্ষার্থী মহিউদ্দিন কান্নায় ভেঙে পড়ে জানান, আবরার তখনও কাতরাইতেছে, জিয়ন বললো, ফেলে রাখ ও নাটক করতেছে। মহিউদ্দিন বলেন, আমার আছে অনুতাপবোধ। আমি খাইতে বের হইছি, তখন আড়াইটা বাজে। আমি চিন্তাও করতে পারিনি হলে এমন কিছু হইছে। আমার রুমমেটরে বলতেছি মনে হয় মৃগীরোগ, হাসপাতালে নিতে হইবো।

জিয়ন ওইখানে বসে বলতেছে, ও নাটক করতাছে। ওরে ওইখানে ফেলে রাখ। নিষ্ঠুরতার লেভেল আছেরে ভাই! আমি তিন রাত খাইতে পারি নাই। আমি ওরে বাঁচাতে পারি নাই। আমারে মাফ কইরাদিস ভাই। আমি তোরে রাইখা ওই অবস্থায় খাইতে চলে আসছি। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়াই কী আমার ভাইয়ের অপরাধ?

ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে হ’ত্যাকাণ্ডের শিকার বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তেন জানিয়ে তার ছোট ছোট ভাই আবরার ফাইয়াজ প্রশ্ন করেছেন নামাজ পড়াই কী তার ভাইয়ের অ’পরাধ?

তিনি বলেন, আজ সকাল ১০টার দিকে বাবার কাছে ফোন করেন ফাহাদ ভাইয়ের এক রুমমেট। প্রথমে ফোন করে অসুস্থতার কথা জানালেও কিছুক্ষণ পর ফোন দিয়ে আবরার ফাহাদের মৃ’ত্যুর খবর দেন তিনি।

স্কুল জীবন থেকেই আমার বড়ভাই খুব মেধাবী। ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বিদেশ যাওয়ার স্বপ্ন ছিল তার। কোন রাজনৈতিক দল বা কোনো সংগঠনের সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ পড়তো। নামাজ পড়াই কী আমার ভাইয়ের অপরাধ? ছোট ভাই ফাইয়াজ আরও বলেন, ছুটিতে বাড়িতে এলেই সবসময় বই পড়া নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন।

মাঝে মাঝে দুই ভাই একসাথে হয়ে রিকশা করে কুষ্টিয়া শহরের অলিগলিতে ঘুড়াঘুড়ি করতাম। এখন আর দুই ভাই একসাথে ঘুড়াঘড়ি করা হবে না ভাবতে বুক ফেটে যাচ্ছে। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে বিদেশে পাড়ি দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন ছিল ফাহাদ ভাইয়ের। মৃ’ত্যু তার সেই স্বপ্নকে পূরণ হতে দিল না। কি অপরাধ ছিলো আমার ভাইয়ের?

কেনোই বা ছাত্রলীগের নেতাকমীরা আমার ভাইকে হত্যা করলো? জানি সবকিছুই ম্যানেজ হয়ে যাবে। বিচার আর হবে না বলে সংশয় প্রকাশ করে হু হু কেদেঁ ফেলেন তিনি। নিহত আবরার ফাহাদ কুষ্টিয়া শহরের পিটিআই রোড এলাকার বরককউল্লাহ ছেলে।

উল্লেখ্য, সোমবার বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শেরে বাংলা হলের আবাসিক ছাত্র আবরার ফাহাদ ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের হাতে হ’ত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। তিনি ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক্স ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বষের ছাত্র।

মহাকাশ জয়ী গর্বিত ১১ মুসলিম নভোচারী !

মহাকাশ নিয়ে মানুষের জানার আগ্রহ অনেক বেশি। সে কারণেই মহাকাশ নিয়ে মানুষের গবেষণার শেষ নেই। মৃ’ত্যুকে নিশ্চিত জেনেও মানুষ এ মহাকাশ ভ্রমণের দুঃসাহসিক অভিযানে অংশগ্রহণ করে। মহাকাশ জয়ের এ অভিযানে অন্যদের পাশাপাশি অবদান রেখেছে গর্বিত ১১ মুসলিম নভোচারী। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর মহাকাশ ভ্রমণে গিয়ে ৩ অক্টোবর ফিরে এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুসলিম নভোচারী হাজ্জা আল-মানসুরি। তারা মুসলিম বিশ্বের জন্য গর্ব।

গর্বিত ১১ জন মুসলিম মহাকাশ নভোচারির সদস্যরা হলেন- >> সুলতান বিন সালমান আল-সৌদি (সৌদি আরব) সুলতান বিন সালমান প্রথম মুসলিম নভোচারী। যিনি মহাকাশ ভ্রমণের সৌভাগ্য অর্জন করেন। তিনি প্রথম মুসলিম ও আরব নাগরিক হিসেবে ১৯৮৫ সালের ১৭ জুন ‘এসটিএস-৫১ জি’ মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৫৬ সালের ২৭ জুন জন্ম নেয়া সুলতান বিন সালমান ২৯ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করেন।

>> মোহাম্মদ ফরিস (সিরিয়া) মোহাম্মাদ ফারিস দ্বিতীয় মুসলিম মহাকাশ নভোচারী। যিনি ১৯৮৭ সালের ২২ জুলাই ‘মীর ইপি-১’ মহাকাশযানে প্রথম সিরীয় নাগরিক ও দ্বিতীয় আরব হিসেবে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৫১ সালের ২৬ মে জন্ম নেয়া ৩৬ বছর বয়সী ফারিস নভোচারীর খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি অর্ডার অব লেলিন ও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

মুসা মানারোভ (আজারবাইজান(আজারবাইজান) তৃতীয় মহাকাশ নভোচারী গর্বিত মুসলিম সদস্য হলেন মুসা মানারোভ। যিনি সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ২ বার মহাকাশ ভ্রমণে অবস্থান করেন। ৫৪১ দিন মহাকাশে অবস্থান করেন তিনি। তিনি ১৯৮৭ সালে ‘মীর নিউ-৩’ মহাকাশযানে প্রথম বার এবং দ্বিতীয়বার ১৯৯০ সালে ‘সুয়েজ টিএম-১১’তে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ১৯৫১ সালের ২২ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমবার মহাকাশ ভ্রমণের সময় তার বয়স হয়েছিল ৩৬ বছর। তিনিও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন ও অর্ডার অব লেলিনসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

>> আবদুল আহাদ মোহামান্দ (আফগানিস্তান) আবদুল আহাদ মোহামান্দ ৪র্থ মুসলিম এবং প্রথম আফগান হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ১৯৮৮ সালের ২৯ আগস্ট ‘মীর ইপি-৩’মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মহাকাশ ভ্রমণের সময় তার বয়স হয়েছিল ২৯ বছর। তিনি মহাকাশে ৯ দিন অতিবাহিত করেন। তিনিই প্রথম মহাকাশ নভোচারী যিনি মহাকাশে পবিত্র কুরআনুল কারিম নিয়ে ভ্রমণ করেন।

>> তোক্তার আউবাকিরভ (কাজাখাস্তান) কাজাখাস্তানের প্রথম ও পঞ্চম মুসলিম হিসেবে তোক্তার আউবাকিরভ মহাকাশ নভোচারী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তিনি ১৯৯১ সালের ২ অক্টোবর ‘সুয়েজ এম-১৩’মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৪৬ সালের ২৭ জুলাই জন্ম নেয়া তোক্তার ৪৫ বছর বয়সে এ ভ্রমণ করেন। তাকে হিরো অব দ্য কাজাখাস্তান ও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন পুরস্কারসহ আরও বেশ কিছু সংস্থা কর্তৃক মহাকাশবিষয়ক সম্মাননায় ভূষিত হয়।

>> তালগাত মুসাবায়েভ (কাজাখাস্তান) তালগাত মুসাবায়েভ। কাজাখাস্তানের দ্বিতীয় নভোচারী ও ৬ষ্ঠ মুসলিম হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময় মহাকাশে অবস্থান করেন। ৩ বারের মহাকাশ ভ্রমণে তিনি ৩৪১ দিন ৯ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট অবস্থান করেন। মুসাবায়েভ প্রথমবার ১৯৯৪ সালের ৪ নভেম্বর, দ্বিতীয়বার ১৯৯৮ সালের ২৫ অগস্ট এবং তৃতীয় বার ২০০১ সালের ৬ মে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। ১৯৫১ সালের ৭ জানুয়ারি জন্ম নেয়া এ নভোচারী ৪৩ বছর বয়সে প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি কাজাখাস্তান জাতীয় মহাকাশ সংস্থার প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

>> সালিজান শারিপভ (রাশিয়া) সপ্তম মুসলিম নভোচারি হিসেবে রাশিয়ার সালিজান শারিপভ মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ১৯৯৮ সালের ২০ জানুয়ারি ‘এসটিএস-৮৯’মহাকাশযানে প্রথমবার এ ভ্রমণ করেন। তিনি ২ বারের মহাকাশ ভ্রমণে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০১ দিন মহাকাশে অবস্থান করেন। দ্বিতীয়বার ২০০৪ সালের ১৪ অক্টোবরে তিনি মহাকাশ ভ্রমণ করেন। ১৯৬৪ সালের ২৪ আগস্ট জন্ম নেয়া এ নভোচারী সর্বপ্রথম ৩৪ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করেন।

তিনি হিরো অব দ্য রাশিয়ান ফাউন্ডেশন পুরস্কার লাভ করেন। কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের উজবেক জাতীয়তাবাদী প্রথম মহাকাশ নভোচারীর তালিকায়ও তিনি নাম লেখান। নুশেহ আনসারি অষ্টম ব্যক্তি হিসেবে প্রথম মুসলিম নারী ইরানি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক আনুশেহ আনসারি মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি প্রথম ইরানি-আমেরিকান মুসলিম হিসেবে ‘সুয়েজ টিএমএ-৯’ মহাকাশযানে ২০০৬ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর এ ভ্রমণ করেন।

তিনি ব্যক্তিগত খরচে মহাকাশ ভ্রমণকারী প্রথম নারী ও চতুর্থ ব্যক্তি। ১৯৬৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ইরানে জন্ম নেয়া আনুশেহ ৪০ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোক্তা অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ও ইয়াং এন্টারপ্রেনিয়ার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডসসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।

>> শেখ মুসজাফার শুকুর (মালয়েশিয়া) মহাকাশ নভোচারী মালয়েশিয়ান নাগরিক শেখ মুসজাফর। নবম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ২০০৭ সালের ১০ অক্টোবর ‘সুয়েজ টিএমএ-১১’ মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। নভোচারী মুসজাফার শুকুর মহাকাশে সর্বপ্রথম নামাজ আদায় করেন এবং নামাজের সে দৃশ্য ভিডিও প্রচার করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। ১৯৭২ সালে জন্ম নেয়া এ মালয়েশিয়ান মহাকাশে ১০ দিন ২০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট অবস্থান করেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৫ বছর।

>> আইদিন আইমবেটোভ (কাজাখাস্তান) কাজাখাস্তানের তৃতীয় নাগরিক হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন দেশটির এয়ার ফোর্সের মেজর জেনারেল আইদিন আইমবেটোভ। তিনিই প্রথম মহাকাশে কাজাখাস্তানের পতাকা বহন করেন। ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর ‘সুয়েজ টিএমএ-১৮এম’মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। নভোচারী আইদিন মহাকাশে ৯ দিন ২০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট অবস্থান করেন। ১৯৭৮ সালের ২৭ জুলাই জন্ম নেয়া এ নভোচারীর মহাকাশ ভ্রমণের সময় বয়স ছিল ৩৭ বছর।

>> হাজ্জা আল মানসুরি (সংযুক্ত আরব আমিরাত) মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ নভোচারী সংযুক্ত আরব আমিরাতে নাগরিক হাজ্জা আল-মানসুরি। তিনি ‘সুয়েজ এমএস-১৫’ নামক মিশনে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহাকাশ ভ্রমণ করেন। মহাকাশ ভ্রমণে তিনি পবিত্র কুরআন সঙ্গে নিয়ে যান। মহাকাশ থেকে তিনি পবিত