কল রেকর্ডেই মিলবে জাবি ভিসির দুর্নীতির প্রমাণ : ছাত্রলীগ নেতা অন্তর !

0

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হামজা রহমান অন্তর। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হামজা রহমান অন্তর দাবি করে বলেন, ‘উপাচার্য ফারজানা ইসলাম, ছেলে প্রতীক, স্বামী আখতার হোসেন

এবং জাবি ছাত্রলীগের প্রেসিডেন্ট মো. জুয়েল রানা, সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান চঞ্চল, জয়েন্ট সেক্রেটারি সাদ্দাম হুসেইন, ভাইস প্রেসিডেন্ট নিয়ামুল হাসান তাজের ৮, ৯, ১০ আগস্টের কল রেকর্ড সিম কোম্পানির থেকে বের করলেই দুর্নীতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়া যাবে।’

বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের কাছে হামজা রহমান অন্তর এসব কথা বলেন। হামজা রহমান অন্তর আরো বলেন, ‘এসব বের করা তো আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য ১০ মিনিটের ব্যাপার। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার সুনাম নষ্টকারী জাবি ভিসি ও ভিসিলীগের সব অপকর্মের প্রমাণ আছে এসব কল রেকর্ডে।’

বৃহস্পতিবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁর কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘উপাচার্যের বিরু’দ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে আন্দোলনকারীদের বিরু’দ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে ছাত্রলীগ নেতা হামজা রহমান অন্তর এসব কথা জানান।

এর আগে একটি ফেসবুক স্ট্যাটাসে হা’মলার দায় ছাত্রলীগের নয়, শুধু ভিসিলীগ জুয়েল রানার বলে দাবি করেন তিনি। গত মঙ্গলবার আন্দোলকারীদের ওপর ছাত্রলীগের হা’মলার ঘটনার পর পরই একটি স্ট্যাটাস দেন অন্তর। পাঠকের সুবিধার্থে স্ট্যাটাসটি তুলে হুবহু তুলে ধরা হলো- ‘এই হা’মলার দায় ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের নয়, ভিসিলীগের সভাপতি জুয়েল রানার একার।

এই নারকীয় হা’মলার মাধ্যমে সবচেয়ে জনপ্রিয় সংগঠন বাংলাদেশ ছাত্রলীগ জাবি শাখার সভাপতি পদে থাকার নৈতিক ও গঠনতান্ত্রিক অধিকার হারিয়েছে জুয়েল। সে এখন একটা ভিসিলীগ। জাবি ছাত্রলীগকে সারাবাংলার ছাত্রসমাজের কাছে বিতর্কিত করার শিবিরীয় এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নেমেছে অবৈধ সভাপতি জুয়েল রানা।

সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল যেখানে বহু মাস ধরে ক্যম্পাসে থাকে না, লাপাত্তা হয়ে আছে সেখানে জুয়েল কি করে বৈধ সভাপতি থাকে? সংগঠন কি এক জুয়েলের বাপের? জুয়েলের বাবার রাজনৈতিক পূর্ব পরিচয় এবং জুয়েলের কলেজজীবনের পূর্ব পরিচয় তদন্ত করে জাতীর সামনে তুলে ধরা হোক।

কুলাঙ্গার জুয়েল ভিসির দুর্নীতির টাকায় ব্যক্তিগত সুযোগ সুবিধা নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ছন টিনের ঘর রাতারাতি পাকা করে ফেলেছে। বাড়িতে রেট দিলে নিশ্চিতভাবে টেন্ডারবাজির কোটি কোটি অবৈধ টাকা পাওয়া যাবে। সাধারণ নেতাকর্মীরা পাঁচ-ছয় বছর রাজনীতি করেও পরিচয় দেওয়ার মতো কোনো পদ তো পায় না বরং সকল প্রকার সুযোগ সুবিধা থেকে বঞ্চিত।

জাবি ছাত্রলীগের ইতিহাসের সবচাইতে ব্যর্থ কমিটির সফলতা শুধুমাত্র টেন্ডারবাজিতে ও নিয়োগ বাণিজ্যে। সেসবও সভাপতি আর সম্পাদক একাই করত। বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৬টি আবাসিক হল ইউনিটের একটি হলের কমিটিও দিতে পারেনি। শত শত নেতাকর্মী বঞ্চিত-অবহেলিত।

আজ জুয়েল শুধুমাত্র জাবির উন্নয়ন প্রকল্পের সহস্রাধিক কোটি টাকা থেকে আরও বড় অংক হাতানোর জন্য তিন বছর নির্লজ্জভাবে সভাপতির পদ দখলের পর আরও দুই-তিন বছর পদে থাকার জন্য প্রকাশ্যে ভিসির গুন্ডা সেজেছে, জাবি ছাত্রলীগকে কলঙ্কিত করেছে। সাধারণ নেতাকর্মীরা পরিস্থিতির শিকার, তাদের কোনো দোষ নেই।

বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এই হা’মলার দায় নিবেন না। তারা এই ঘটনা ঘটার আগে থেকে জুয়েলকে নানাভাবে সতর্ক করেছেন। ছাত্রলীগ কখনোই সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিরোধী কোনো সংগঠন নয়। ছাত্রলীগ জন্মগতভাবে একটি ঐতিহ্যবাহী ছাত্রবান্ধব ছাত্রসংগঠন।

শিক্ষার্থীদের যেকোন নৈতিক দাবির সঙ্গে ছাত্রলীগ অতীতের মতো সবসময় পাশে আছে। ভুল নেতৃত্বের দায় কখনই ছাত্রলীগের সাধারণ নেতাকর্মীদের নয়। এ দায় শুধুমাত্র নির্দেশদাতা জুয়েলের একার।’

শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের ওপর ভিসিলীগের হামলার তীব্র নিন্দা এবং দুর্নীতিবাজ ভিসির সঙ্গে জুয়েলের বহিষ্কার দাবি করেন বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সহসভাপতি হামজা রহমান অন্তর