৩২ বছর ধরে অন্যের বাড়িতে কুলির কাজ করে হজ্ব করতে গেলেন আব্দুস সোবহান

বগুড়া জেলার শেরপুর উপজেলাধীন হাটগাড়ী গ্রামের আব্দুস সোবহান পবিত্র হজ্জব্রত পালনের উদ্দেশ্যে গতকাল রওনা দিয়েছেন।
জানা যায় যে তিনি একজন গরীব মানুষ। কিন্তু তিনি অনেক আগে থেকেই এই চিন্তা করে ছিলেন। তিনি বলেন ১৯৮৮ সালে বন্যায় সর্বস্ব হারিয়ে যখন শেরপুরে আসি শুধু ৪ শতাংশ জমি ক্রয় করে বাড়ি করি।

৩ টি কন্যা সন্তানকে সৎ পাত্রস্থ করেন। তিনি বলেন হজ্বের টাকা জমানের জন্য দিনের বেলা অন্যের বাসায় কাজ করতেন এবং সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত শেরপুর বাসস্ট্যান্ডে কুলির কাজ করতেন। যখন একটু টাকা জমতো তা দিয়ে তিনি গরু কিনতেন।এক সময় গরু বিক্রি করে জমি এগ্রিমেন্ট নিতেন।

উক্ত জমিতে যা ফসল ফলতো তা তিনি না খেয়ে বিক্রি করতেন। এভাবে তিনি মোট ৩ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা জমিয়েছেন। এভাবে তিনি তিলে তিলে টাকা গুলো জমিয়ে তার মনের আকাঙ্খা পুরনার্থে পবিত্র হজ্ব পালনের উদ্দেশ্য রওনা দিয়েছেন। এলাকা বাসি তথা দেশ বাসির নিকট আবেদন করেছেন যে, আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন আল্লাহ যেন আমার হজ্ব কবুল করেন। সুস্থ শরীরে হজ্জের সকল হুকুম আহকাম সঠিকভাবে পালন করার তাওফিক দান করেন।

আরো পড়ুন

মরক্কোয় সাগরে ভাসছে মসজিদ, প্রতি ৩ মিনিটে যান্ত্রিকভাবে খুলে যায় ছাদ

মরক্কোয় বাদশাহ দ্বিতীয় হাসান কাসাব্লাঙ্কা শহরে মহাসাগরে পানির ওপর ভাসমান একটি মসজিদটি তৈরি করেছেন। মসজিদটিতে প্রায় এক লাখ মানুষ একসঙ্গে নামাজ পড়তে পারেন। মসজিদটির নাম গ্র্যান্ড মস্ক হাসান–২ বা দ্বিতীয় হাসান মসজিদ।

দৃষ্টিনন্দন এ মসজিদটির নির্মাণ কাজ করেছেন ফরাসি কোম্পানি বয়গিসের প্রকৌশলীরা। এটির নকশা তৈরি করেছিলেন ফরাসি স্থপতি মিশেল পিনচিউ।

মসজিদটির তিনভাগের একভাগ আটলান্টিক মহাসাগরের ওপর অবস্থিত। ভাসমান এই মসজিদটি দূরের কোনো জাহাজ থেকে দেখলে মনে হবে ঢেউয়ের বুকে যেন মসজিদটি দুলছে। আরো মনে হবে মুসল্লিরা নামাজ পড়ছেন পানির ওপর।

২২.২৪ একর জায়গার ওপর অবস্থিত এ মসজিদটির মিনারের উচ্চতা ২০০ মিটার। আর মেঝে থেকে ছাদের উচ্চতা ৬৫ মিটার। ২৫০০ পিলারের ওপর স্থাপিত এ মসজিদের ভেতরের পুরোটাই টাইলস বসানো। মসজিদ এলাকার আশপাশে সাজানো আছে ১২৪টি ঝরনা এবং ৫০টি ক্রিস্টালের ঝাড়বাতি।

মসজিদের ছাদটি প্রতি ৩ মিনিট পরপর যান্ত্রিকভাবে খুলে যায় বলে এর ভেতরে আলো-বাতাস প্রবেশ করতে পারে। তবে বৃষ্টির সময় ছাদটি খোলা হয় না।

মসজিদের মূল ভবনের সঙ্গেই আছে লাইব্রেরি, কোরআন শিক্ষালয়, ওজুখানা এবং কনফারেন্স রুম।

উল্লেখ্য, ১৯৮৭ সালের আগস্ট মাসে মসজিদটির নির্মাণকাজ শুরু হয়। প্রায় ২৫ হাজার শ্রমিক ও কারুশিল্পীর পরিশ্রমে এটি প্রায় সাত বছরে নির্মিত হয়। মসজিদটির নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৮০ কোটি ডলার।

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে