ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে নাস্তানাবুদ তবুও মাথা নত করবে না ইরানিরা !

আমেরিকার কঠোর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার কারণে নাস্তানাবুদ ইরানের অর্থনীতি।এতে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি আর জীবনযাত্রার অত্যধিক ব্যয়ে হিমশিম খাচ্ছে ইরানিরা।তবুও তারা আমেরিকার কাছে মাথা নত করতে নারাজ।

বিদেশি পণ্যের পরিবর্তে দেশীয় ব্র্যান্ডের পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে অর্থনীতিকে সচল রাখতে মরিয়া দেশটির সাধারণ মানুষ।বৃহস্পতিবার এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কারণে চলতি বছরে সরকারি হিসাব অনুযায়ী দেশটিতে মূদ্রাস্ফীতি বেড়েছে ৩৭ শতাংশ।

প্রায় সাড়ে আট কোটি মানুষের দেশ ইরানে বেকারের সংখ্যা এরই মধ্যে ত্রিশ লাখ ছাড়িয়েছে।এ পরিস্থিতির জন্য আমেরিকাকে দায়ী করছে সাধারণ ইরানিরা। ইরানিদের অভিযোগ,আমেরিকা পরিকল্পিতভাবে অবরোধ আরোপ করে ইরানের স্থিতিশীলতা নষ্ট করতে চাইছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে তারা বিদেশী পণ্যের পরিবর্তে দেশী ব্রান্ডের পণ্যের দিকে নজর দিচ্ছে বেশিরভাগ সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ী।

ক্রেতারা এখন ইরানি ব্রান্ডের পণ্য ব্যবহারে আগ্রহী হয়েছে উঠেছে। কারণ এর মূল্য তুলনামূলক অনেক কম। আর এসব পণ্যের গ্রহণযোগ্যতাও অনেক বেশী। বিষয়টি খুবই ইতিবাচক। ইরানের তেল বিক্রি বেড়েছে! আমেরিকার নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের তেল বিক্রি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর আব্দুল নাসের হেম্মাতি।

তিনি বলেন, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও ইরানের তেল রপ্তানি বাড়ছে।এতে করে তেহরানের ওপর ওয়াশিংটনের চাপিয়ে দেয়া নিষেধাজ্ঞা অকার্যকর হয়ে পড়েছে।বুধবার এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। হেম্মাতি বলেন,ইরান মার্কিন চাপ ও হুমকির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ পর্যায়ের প্রতিরোধ সংগ্রাম চালিয়ে আসছে।

ইরানের তেল বিক্রি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার ব্যাপারে আমেরিকা দাবি করলেও তেল বিক্রির মাত্রা বাড়ছে। ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে কথা বলেন না কেন? ট্রাম্পকে রুহানি ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্র নিয়ে কথা বলেন না কেন বলে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি।বুধবার এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম।

আমেরিকার কঠোর সমালোচনা করে হাসান রুহানি বলেন, ট্রাম্প যদি সত্যিকারভাবেই পরমাণু অস্ত্র নিয়ে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে থাকেন তাহলে তার উচিত ইসরাইলের অধীনে থাকা শত শত পরমাণু অস্ত্রের মজুদ নিয়ে কথা বলা।

যেখানে জাতিসংঘের পরমাণু পর্যবেক্ষণ সংস্থা নিয়মিতভাবে ইরানের পরমাণু স্থাপনা পরিদর্শন করছে এবং তেহরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির স্বীকৃতি দিচ্ছে সেখানে ট্রাম্প কেন উদ্বিগ্ন?

মুসলমানরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে শত্রুদের মোকাবেলায় অবশ্যই বিজয়ী হবে: জার্মান নওমুসলিম

ইসলামের বিরুদ্ধে নানা প্রচারণা, ষড়যন্ত্র এবং সামরিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পদক্ষেপ সত্ত্বেও এই ধর্মের অগ্রগতি দিনকে দিন বাড়ছে। বর্তমানে ইসলাম ইউরোপসহ পাশ্চাত্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্ম। ইসলামের শিক্ষাগুলোই পাশ্চাত্যের মানুষকে এ ধর্মের দিকে আকৃষ্ট করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।

যেমন, মুসলমানদের উন্নত সামাজিক জীবন, ভ্রাতৃত্ব ও সব ধরনের বৈষম্য বা অন্যায় বিরোধী অবস্থান পশ্চিমাদেরকে এ ধর্মের দিকে আকৃষ্ট করছে। নারীর প্রতি ইসলামের সম্মানজনক স্বীকৃতি পাশ্চাত্যের শিক্ষিত নারী সমাজকেও আকৃষ্ট করছে এই মহান ধর্মের দিকে। এইসব নারী ব্যাপক গবেষণার মাধ্যমেই এ ধর্ম গ্রহণ করেছেন।

তাদের কেউ কেউ গবেষণা প্রতিষ্ঠানেরই কর্মী ছিলেন। গবেষণার মাধ্যমে ইসলামের সত্যতাকে উপলব্ধি করে এই মহান ধর্ম গ্রহণ করেছেন এমন নারীদের মধ্যে জার্মান নারী ক্যাথেরিন হুফারও অন্যতম। তিনি বলেছেন, “আমি জন্ম নিয়েছিলাম ১৯৬৮ সালে জার্মানির স্টুটগার্ট শহরে এক ক্যাথলিক পরিবারে। আমার পরিবার খ্রিস্ট ধর্মের অনুষ্ঠানগুলো পালনকে বেশ গুরুত্ব দিত এবং প্রতি রোববার গির্জার প্রার্থনা অনুষ্ঠানে যোগ দিত।

কিন্তু আমি যখন ১৪ বছর বয়সে পা দেই তখন দেখলাম যে ধর্মীয় অনুষ্ঠানগুলো পালনে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আর ধর্ম বিষয়ে যেসব জ্ঞান অর্জন করতাম সেগুলোকে আধুনিক বা বর্তমান জীবন-যাত্রার সঙ্গে মিলাতে পারতাম না এবং এইসব জ্ঞান আমার কাছে বোধগম্য ছিল না। ধর্মীয় বিষয়ের প্রতি আগ্রহহীনতার কারণে কিছুকাল এক জ্যোতিষী বা গণকের কাছে যেতাম।

কিন্তু সেই গণক আমার আধ্যাত্মিক চাহিদার কোনো সদুত্তর দিতে পারেনি। কয়েক বছর পর আমি একজন মুসলমানের সঙ্গে পরিচিত হই। তার চিন্তাধারা ও জীবন-যাপনের পদ্ধতি আমাকে ইসলামের দিকে আকৃষ্ট করে। ফলে এ ধর্ম সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের জন্য সক্রিয় হয়ে উঠি।”

ইসলাম সম্পর্কে কিছুকাল পড়াশোনার পর এ ধর্মের প্রতি গভীর আকর্ষণ অনুভব করতে থাকেন জার্মান নওমুসলিম নারী ক্যাথেরিন হুফার। এ অবস্থায় তিনি হিজাব ও নামাজ সম্পর্কে গবেষণা করতে থাকেন। এসব বিষয়ে কিছুদিন গবেষণার পর মিসেস হুফার ইসলামের প্রতি ঈমান আনেন। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেছেন, “যখন হিজাব পরলাম তখন আগের চেয়েও বেশি নিরাপত্তা অনুভব করলাম।

হিজাব আমাকে ব্যক্তিত্ব ও বিশেষ মর্যাদা দান করে। কিন্তু যখন আমার মা আমাকে হিজাব-পরা অবস্থায় দেখলেন তখন তিনি অসন্তুষ্ট হলেন এবং এর বিরোধিতা করলেন। আমি আমার মাকে খুব ভালোবাসতাম বলে ইসলামের গণ্ডীর মধ্যে থেকেই কিছু সময় পর্যন্ত হিজাবহীন থাকব বলে মনে মনে সিদ্ধান্ত নেই। কিন্তু আমার বিবেক আমাকে এ কাজে বাধা দিল।

ফলে আমার নিজের মধ্যেই শুরু হল দ্বন্দ্ব। প্রায় এক বছর পর হিজাব পরিহিতা দু জন জার্মান নও-মুসলিমের দেখা পেলাম। নানা সমস্যা ও বাধা সত্ত্বেও হিজাব রক্ষার ব্যাপারে তাদের বেপরোয়া ভাব দেখে বিস্মিত হলাম এবং আমি অন্তর থেকে তাদের বেশ প্রশংসা করলাম। ফলে আমি আবারও হিজাবের মধ্যে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারে দৃঢ়-প্রতিজ্ঞ হলাম।

এ ব্যাপারে মহান আল্লাহর সাহায্য চেয়ে ও তাঁর ওপর ভরসা করে বেশ দৃঢ়তার সঙ্গে হিজাব পরলাম। মহান আল্লাহর স্মরণ এবং তাঁর সহায়তা আমাকে জুগিয়েছে জোরালো আত্মবিশ্বাস ও মনোবল। আমার মা যখন আমার দৃঢ়-প্রতিজ্ঞা ও অনমনীয়তার বিষয়টি দেখলেন তখন তিনি বিরোধিতা বন্ধ করে ব্যাপারটিকে মেনে নিলেন।”

ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পরের অনুভূতি প্রসঙ্গে হুফার বলেছেন, “ইসলাম ধর্ম গ্রহণের পর আগের চেয়েও বেশি প্রশান্তি অনুভব করলাম। কারণ, আমি এখন এই বিশ্ব জগতের স্রস্টার ওপর নির্ভর করছি এবং তাঁর ওপর বিশ্বাস রাখছি। আমার জীবনে এখন রয়েছে স্পষ্ট লক্ষ্য। তাই ব্যক্তিগতভাবে খুবই প্রশান্তি ও আস্থা অনুভব করছি। এখন বিশ্ব জগতের স্রস্টা সম্পর্কে আমার বিশ্বাস ও জ্ঞান অনেক বেশি পরিপূর্ণ।

আমি বুঝতে পেরেছি যে, জীবনের পরিপূর্ণ কল্যাণ রয়েছে ঐশী নবী-রাসূলগণের নির্দেশ মানার মধ্যেই। ইসলামকে জানতে পারায় আমি এখন জীবনের গভীর অর্থ ও লক্ষ্য খুঁজে পেয়েছি। আমার জীবন এখন বস্তুবাদীদের জীবনের মত অর্থহীন নয়। দুঃখজনকভাবে পশ্চিমাদের সমাজ জীবনের ওপর ধর্মের খুব কম প্রভাব রয়েছে।

আসলে পাশ্চাত্যে ও বিশেষ করে আমেরিকায় ধর্ম তার অর্থ হারিয়ে ফেলেছে। অথচ মুসলমানরা ব্যক্তিগত ও সামাজিক দিক থেকে পশ্চিমাদের চেয়ে অনেক ভিন্ন। কারণ, তারা কুরআনের এ বাক্যটিতে বিশ্বাসী যেখানে বলা হয়েছে- প্রত্যেক মুসলমান হল ভাই ভাই। তাদের পারস্পরিক সম্পর্ক খুবই হৃদ্যতা ও আন্তরিকতাপূর্ণ।

(সুরা হুজুরাত-১০) তারা একে-অপরকে দেখতে যায় এবং বন্ধু ও প্রতিবেশীদের সমস্যাগুলোর সমাধান করে।” জার্মান নওমুসলিম নারী ক্যাথেরিন হুফার ইসলাম প্রচারের পদ্ধতি ও বিশ্বের মুসলমানদের অবস্থা প্রসঙ্গে কিছু বলেছেন। তিনি বলেন, “বই-পুস্তক পড়ে সত্যকে জানা যায়। কিন্তু ইসলাম প্রচারের আরেকটি পদ্ধতি হল আমল তথা বাস্তবে ধর্মের চর্চা বা অনুশীলন।

কথা কখনও কাজের চেয়ে বেশি কার্যকর নয়। মুসলমানরা যেসবে বিশ্বাস করে তা যদি বাস্তবে চর্চা করে তাহলে বিশ্বের অন্যদের ওপর তার প্রভাব হবে অনেক বেশি। দুঃখজনকভাবে মুসলমানরা এখন অনেক সংকটের শিকার। পাশ্চাত্য ইসলামের গুরুত্ব বুঝতে পেরেছে এবং এটা জানে যে ইসলাম এগিয়ে গেলে অনেকেই এতে আকৃষ্ট হবে।

তাই পাশ্চাত্য নানা কূট-কৌশলে ইসলামের অগ্রগতিকে ঠেকিয়ে রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু আমার বিশ্বাস, মুসলমানরা যদি একে-অপরকে সাহায্য করে এবং ঐক্যবদ্ধ থাকে তাহলে তারা শত্রুদের মোকাবেলায় বিজয়ী হবে।

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে