নারীদের নিরাপত্তায় দুই দরজা বিশিষ্ট গণপরিবহন চায় কওমী ফোরাম।

শহরকেন্দ্রিক গণপরিবহন গুলোকে দুই দরজা বিশিষ্ট করে সামনের দরজাকে কেবল নারীরা আরোহন ও অবতরণের জন্য নির্ধারিত করার প্রস্তাব দিয়েছে কওমী ফোরাম।

ফোরামে আয়োজিত ‘শিক্ষাঙ্গনে অনৈতিকতা রোধে করণীয়’ শীর্ষক সেমিনার থেকে এই দাবী করা হয়। এটিসহ মোট দফা দাবী উত্থাপন করা হয় সেমিনার থেকে। আজ (২৩ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে অনুষ্ঠিত হয় এই সেমিনারটি।

সেমিনারে ঘোষিত সাত দফা দাবীর ষষ্ঠ দফায় বলা হয় ‘শহরকেন্দ্রিক গণপরিবহন গুলো দুই দরজা বিশিষ্ট হতে হবে। সামনের দরজা দিয়ে কেবল নারীরা আরোহন ও অবতরণ করবেন। পেছনের দরজা বরাদ্দ থাকবে পুরুষদের জন্য। প্রয়োজনে গণপরিবহনের মধ্যখানে পার্টিশনের ব্যবস্থা করে নেয়া যেতে পারে। যাতে নারীদের চলাফেরা নির্বিঘ্ন ও নিষ্কণ্টক হয়।’

অনান্য দাবীগুলো হচ্ছে,

নারীদের জন্য পৃথক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করতে হবে। যেখানে পাঠদান এবং পাঠগ্রহণ সহ যাবতীয় কার্যক্রম নারীরাই পরিচালনা করবেন।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা কমিটি গঠনে রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি পরিহার করতে হবে। অর্থাৎ শিক্ষিত ও শিক্ষানুরাগী এবং শিক্ষার মূল্য অনুধাবন করতে সক্ষম এমন ব্যক্তিরাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক বিবেচনার মূলোৎপাটন করতে হবে। শিক্ষার জন্য নিবেদিত প্রাণ, মেধাবী ও নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত এমন লোকদেরকেই শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।

যারা শিক্ষকতাকে পেশা হিসেবে গ্রহণ করেছে অর্থাৎ শিক্ষকতার মেজাজ নেই, কেবল জীবিকা নির্বাহের খাতিরে এ পেশায় আত্মনিয়োগ করেছে, তাদেরকে শিক্ষকতা থেকে দূরে সরিয়ে দিতে হবে। (পাঁচ) ছাত্র, শিক্ষক ও প্রতিষ্ঠান বিষয়ক সমস্যা সরাসরি সরকার প্রধানকে অবহিত করা যায় এমন কোন পথ খুলতে হবে। প্রয়োজনে এর জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর তত্ত্বাবধানে কোন সেল গঠন করা যেতে পারে।

মহান আল্লাহ তাআলার ফরজ বিধান পর্দার প্রতি নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকে উদ্বুদ্ধ ও উৎসাহিত করতে হবে। ধর্ম ও নৈতিকতার শিক্ষা বাধ্যতামূলক করতে হবে শিক্ষার সকল স্তরে। যৌন উত্তেজনা ও উম্মাদনা সৃষ্টিকারী সমস্ত আয়োজন যথা অশ্লীল নাটক, সিনেমা, ম্যাগাজিন, ওয়েবসাইট ইত্যাদি বন্ধ করে দিতে হবে।

কওমি ফোরামের সমন্বয়ক মাওলানা মামুনুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সেমিনারে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, মুফতি সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মাওলানা হাসান জামিল, মুফতি

এনায়েতুল্লাহ, মাওলানা ওয়ালী উল্লাহ আরমান, মুফতি মুরতাজা হাসান ফয়েজী মাসুম, মাওলানা আতাউল্লাহ আমীন, মুফতি তোফায়েল গাজালী, মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা ইয়াকুব উসমানি, মুফতি দ্বীন মুহাম্মদ, মাওলানা মাহবুব নবাবগঞ্জী, মুফতি আবুল কালাম তৈয়্যবি, মুফতি রিজওয়ান রফিকী প্রমুখ।

সুত্রঃ ইনসাফ ২৪

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে