ভেনিজুয়েলা নিয়ে যুদ্ধের মুখোমুখি হতেপারে রাশিয়া-আমেরিকা

ভেনিজুয়েলা নিয়ে যে কোন মুহুর্তে বড় সড় যুদ্ধে জড়াতে পারে বিশ্বের দুই শক্তিশালি রাষ্ট্র আমেরিকা ও রাশিয়া। ইতিমধ্যে রাশিয়ার একটি সেনাদল ভেনিজুয়েলা পৌঁছেছে। মঙ্গলবার বিভিন্ন আন্তর্জেতিক গনমাধ্যম এ খবর প্রকাশ করে।

আন্তর্জাতিক ভিবিন্ন গনমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, সম্প্রতি ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের সাইমন বলিভার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রুশ সেনারা পৌঁছার পর তাদেরকে স্বাগত জানায় ভেনিজুয়েলার উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা।

এসময় তারা ৩৫ হাজার টন ত্রাণ সামগ্রী সাথে করে নিয়ে এনেছে। তবে এই ত্রাণবহরে কী কী আছে সে সম্পর্কে ভেনিজুয়েলা কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য জানায়নি।

এর আগে ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ঘোষণা করে দেশটিতে হস্তক্ষেপের ব্যাপারে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে রাশিয়া।

ভেনিজুয়েলার বিরোধী দলীয় নেতা জুয়ান গুইদো সম্প্রতি দাবি করেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর আর কোনো পৃষ্ঠপোষক নেই। তার ওই বক্তব্যের পর রাশিয়া ভেনিজুয়েলায় সেনা সদস্যসহ দুটি বিমান পাঠালো।

ফ্লাইট ট্র্যাকিংয়ের সাথে যুক্ত একটি ওয়েবসাইটে দেখা গেছে, শুক্রবার রাশিয়ার মিলিটারি এয়ারপোর্ট থেকে ভেনিজুয়েলার রাজধানী কারাকাসের উদ্দেশে যাত্রা করে দুটি বিমান। আরেকটি ফ্লাইট ট্র্যাকিং সাইটে দেখা গেছে, শনিবার রাশিয়ার একটি বিমান কারাকাস ছেড়েছে।

ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর প্রতি সমর্থনের বার্তা দিতে তিন মাস আগে দেশটিতে যৌথ সামরিক মহড়ায় অংশ নেয় রুশ বাহিনী। তবে ওই মহড়াকে অঞ্চলটিতে রাশিয়ার অনধিকার চর্চা হিসেবে আখ্যায়িত করে এর সমালোচনা করেছিল আমেরিকা।

শনিবার টুইটারে দেয়া পোস্টে জেভিয়ার মেয়র্কা নামের একজন সাংবাদিক লিখেছেন, রাশিয়ার পাঠানো প্রথম বিমানটিতে অন্যদের সাথে দেশটির সামরিক বাহিনীর চিফ অব স্টাফও ছিলেন। আর দ্বিতীয় বিমানটি ছিল একটি কার্গো বিমান। এতে ৩৫ টন সামগ্রী বহন করা হয়।

আরো পড়ুন: নরেন্দ্র মোদিকে হিংস্র ব্যক্তি বলে বোমা ফাটালেন ইমরান খান

ভারতের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে একজন হিংস্র ব্যক্তি বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গত মঙ্গলবার ব্রিটিশ দৈনিক ফিনান্সিয়াল টাইমসকে দেয়া ব্যাক্তিগত সাক্ষাৎকারে ইমরান খান এ মন্তব্য করেন।

সাক্ষাৎকারে তিনি পুলওয়ামা হামলাসহ বিভিন্ন ইস্যুতে কথা বলেন। খবর জিও নিউজ ও এক্সপ্রেস নিউজের। ইমরান খান বলেন, ভারতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী যুদ্ধ নেশায় মত্ত। লোকসভা নির্বাচনের আগ মুহূর্তে আমি এখনো যেকোনো পরিস্থিতির আশঙ্কা করছি।

ফের তারা কোনো উসকানি দিতে পারে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি একজন হিংস্র ব্যক্তি। তিনি উভয় দেশকে যুদ্ধক্ষেত্রে নিয়ে এসেছিলেন।

পুলওয়ামার ঘটনাকে ব্যবহার করে মোদি সরকার যুদ্ধ পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল অভিযোগ করে ইমরান বলেন, পুলওয়ামার হামলা মোদির মুসলিম বিরোধী মনোভাব এবং কাশ্মীর বিষয়ে তাদের কঠোর পলিসির অবধারিত ফল।

জঙ্গি সংগঠন জইশে মোহাম্মদের সঙ্গে পাকিস্তানের কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই বলে দাবি করে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, জঙ্গিসংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে অতীতের যে কোনো সময়ের চেয়ে পাকিস্তান এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

নয়া পাকিস্তানে জঙ্গিদের কোনো ঠাঁই হবে না। পাকিস্তানে জঙ্গিদের নির্মূলে ক্রেকডাউন চলছে। জঙ্গি দমনে এখন আমরা যত পদক্ষেপ নিয়েছি, অতীতের কোনো সময় এমন হয়নি।

ব্রিটিশ দৈনিককে দেয়া সাক্ষাৎকারে ইমরান খান পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়েও মন্তব্য করেন। ইমরান বলেন, দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করতে আমরা বদ্ধপরিকর।

চীন সবসময় পাকিস্তানকে সহযোগীতা করছে। এ জন্য আমরা তাদের ধন্যবাদ জানাই, তবে পাকিস্তান চীনের ক্লায়েন্ট হয়ে গেছে এ ধারণা ঠিক নয়।

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে