টহলরত অবস্থায় ভারতীয় যুদ্ধবিমান মিগ২৭ বিধ্বস্ত

আবারো ভেঙে পড়ল ভারতীয় বিমানবাহিনরি যুদ্ধবিমান মিগ ২৭। রোববার পাকিস্তান সীমান্তবর্তী রাজস্থানের সিরোহিতে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। রুটিন টহল দেওয়ার সময় ভেঙে পড়েছে যুদ্ধবিমান মিগ ২৭, এমনটাই জানা গেছে ভারতের বিভিন্ন সংবাদসংস্থা সূত্রে।

যোধপুরে বিমানবাহিনীর ঘাঁটি থেকে বেরিয়ে ১৮০ কিলোমিটার ওড়ার পর রাজস্থানেরই শিরোহি এলাকায় ভেঙে পড়ে মিগ ২৭। গত ফেব্রুয়ারিতেই রাজস্থানের জয়শলমিরে ভেঙে পড়েছিল আরো একটি মিগ ২৭ যুদ্ধবিমান।

গত মাসে পাকিস্তানের সাথে ভারতের আকাশযুদ্ধে পাকিস্তানি বাহিনীর আঘাতে অন্তত একটি মিগ ২১ বিমান বিধ্বস্ত হয়েছিল। ওই বিমানের পাইলটও পাকিস্তানে গ্রেফতার হয়েছিল। পরে পাকিস্তান ওই পাইলটকে মুক্তি দেয়।

প্রশিক্ষণের কাজ চলার সময়ই সেই দুর্ঘটনাটি ঘটেছিল। সেই দুর্ঘটনাতেই নিরাপদে ভেঙে পড়া যুদ্ধবিমান থেকে বাইরে বেরিয়ে আসতে পেরেছিলেন যুদ্ধবিমানের পাইলট।

আরো পড়ুন: ভারতীয়দের ছোড়া মিসাইলেই বিধ্বস্ত ভারতীয় হেলিকপ্টার!

প্রায় এক মাস আগে ভারতে বিধ্বস্ত হওয়া একটি হেলিকপ্টারের বিষয়ে তদন্ত করতে গিয়ে বেশ কিছু চমকপ্রদ খবর পাওয়া যাচ্ছে।রসেখানে বলা হচ্ছে, ওই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার আগ মুহূর্তে সেখানে ইসরাইলের তৈরি ভারতের বিমানবাহিনীর একটি মিসাইল ছোড়া হয়েছিল।

এতে বিমানবাহিনীর ছয় সদস্যসহ মোট সাতজন মারা যায়। সে সময় ভারতীয় গণমাধ্যম জানিয়েছিল, পাকিস্তানের সাথে মধ্যে গুলি বিনিময়ের সময় রাশিয়ার তৈরি এমআই-১৭ মডেলের হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়।

ধারণা করা হচ্ছে এ কারণেই ওই হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হয়েছে। গত শুক্রবার ভারতের দ্য ইকোনমিক টাইমসে এ তথ্য দেয়া হয়। জানা গেছে, ভারত অধিকৃত জম্মু-কাশ্মিরের বুদগাম এলাকায় গত ২৭ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় বিমান বাহিনীর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছিল।

শেষ মুহূর্তে আসলেই কী হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে বিমানবাহিনী এটি নিশ্চিত করেছে যে, যদি কোনো সদস্য দ্বারা এ কাজটি হয়েছে বলে জানা যায়, তাহলে অবশ্যই তাকে কড়া শাস্তির মুখোমুখি হতে হবে।

বিভিন্ন ছবিতে দেখা গিয়েছিল, হেলিকপ্টারটির ভাঙা অংশ বেশকিছু গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সেগুলোতে আগুন জ্বলছে। তদন্তকারীরা এখন পাকিস্তানের সাথে লড়াইয়ের সেই মুহূর্তগুলো আবারো তদন্ত করে দেখছেন।

তদন্তে এটিও দেখা যে, ‘ফ্রেন্ডলি ফায়ার’ প্রতিরোধক ব্যবস্থাগুলো অকার্যকর হয়ে গেছে কি না এবং ভবিষ্যতে এ ব্যবস্থা আরো কতটা উন্নত করতে হবে, তাও দেখা হচ্ছে।

সূত্রের উদ্ধৃতি দিয়ে ইকোনমিক টাইমসে বলা হয়, যে মিসাইল দিয়ে হামলাটি চালানো হয় তা ইসরাইলের তৈরি। পাকিস্তান-ভারতের পাল্টা পাল্টি হামলার জেরে ২৭ ফেব্রুয়ারি সীমান্তে পাকিস্তানের ২৫টি যুদ্ধবিমান দেখা গেলে ভারতের বিমানবাহিনী বিশেষ সতর্কতা জারি করে। এরপরই এ মিসাইলটি সক্রিয় করা হয়েছিল।

সূত্র জানায়, যখন বিমানবাহিনীর ওই সতর্কতা জারি করা হয়, তখন সাধারণত পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টারগুলোকে কয়েকটি জিনিস মেনে চলতে হয়। নির্ধারিত রুট কড়াকড়িভাবে অনুসরণ করতে হয় এবং ফ্রেন্ডলি ফায়ার এড়াতে বিশেষ সংকেতগুলো চালু করতে হয়।

ওই সতর্কতা জারির দ্বারা ধারণা করা হয় যে, পাকিস্তানি বিমানবহর হয়তো সীমান্ত অতিক্রম করে ভারতে হামলা চালাতে পারে। এর প্রেক্ষিতে দেশজুড়ে ইউএভি চালু করা হয়। কিন্তু সেক্ষেত্রে এমআই-১৭ মডেলের হেলিকপ্টারের মতো তুলনামূলক ধীরে চলমান বাহন ওই ইউএভির শিকারে পরিণত হয়।

জানা গেছে, হেলিকপ্টারটি যাত্রা শুরু করার ১০ মিনিটের মধ্যে মিসাইল হামলার শিকার হয়ে বিধ্বস্ত হয়। সে সময় নওশেরা অঞ্চলের লাইন অব কন্ট্রোলে ভারতীয় যুদ্ধবিমানগুলো পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর সাথে যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার সাথে সাথে সেখানে সতর্কতার মাত্রা বাড়িয়ে দেয়া হয়।

ওই হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ভারতীয় পক্ষ যে বিবৃতিতে দেয় তাতে বিধ্বস্ত হওয়ার কথা স্বীকার করা হয়। কিন্তু আকাশযুদ্ধ এবং পাকিস্তানের সাথে বর্তমান সঙ্ঘাতের কথা উল্লেখ করা হয়নি। অন্যদিকে পাকিস্তানের দেয়া বিবৃতিতে আকাশযুদ্ধের কথা স্বীকার করা হয়। তবে তারা জানায়, হেলিকপ্টার দুর্ঘটনার সাথে তারা জড়িত ছিল না।

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে