সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জীবন দিয়ে লড়াইয়ের ঘোষণা এরদোগানের !

বিদেশি শক্তির অর্থনৈতিক সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে জীবন বাজি রেখে লড়াইয়ের ঘোষনা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।

তিনি বলেন,পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে গিয়ে হয় বাঁচব, নইলে মরব। কিন্তু আমরা আত্মসমর্পণ করব না। আমাদের জনগণের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করবে তাদের সঙ্গে আমরা লড়াই করবই।রোববার আঙ্কারায় এক সমাবেশে এরদোগান এসব কথা বলেন।এ খবর জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যম পার্সট্যুডে।

এরদোগান বলেন,‘যেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করছি তা থেকে আমরা একথা বুঝেছি যে,বৃহৎ ও শক্তিশালী তুরস্ক গড়তে গেলে আমাদের সামনে আবারো অনেক চ্যালেঞ্জ আসবে।আমরা এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করবোই। এতে হয় আমরা বাঁচব না হয় মরব; অন্য কোনো পথ নেই।’

ম্যাক্রোর প্রতি এরদোগানের আহ্বান
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোকে রাজনীতিতে সৎ হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।শনিবার আঙ্কারার কিজিলকাহামাম জেলায় এক অনুষ্ঠানে এরদোগান এসব কথা বলেন। রোববার এ খবর জানিয়েছে তুর্কি সংবাদ মাধ্যম ডেইলি সাবাহ।

ম্যাক্রোকে ইঙ্গিত করে তুর্কি প্রেসিডেন্ট বলেন,প্রথমে রাজনীতিতে সৎ হতে শিখেন তা না হলে আপনি জয়ী হতে পারবেন না।

তিনি বলেন,তুরস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেয়ার আগে পশ্চিমা বিশ্বের আর্মেনিয়ার গণহত্যার কথা মনে রাখা উচিৎ। যা এক শতাব্দী আগে অস্বস্তিকর অবস্থার সৃষ্টি করেছিল।

তিনি আরো বলেন, আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সত্য হলে- ইউরোপ, আমেরিকা, উত্তর আফ্রিকা, ককেশাসজুড়ে লাখ লাখ আর্মেনিয়ান বাস করত না।

তিনি বলেন, বলকান যুদ্ধের সময় ২০ লাখ বেসামরিক তুর্কি মানুষ নিহত হয়েছেন, যেখানে রাশিয়ান ও আর্মেনিয়ান আক্রমণের সময় পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব আনাতোলিয়ায় ২০ লাখ বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করা হয়েছিল।

এরদোগান বলেন,ঔপনিবেশিক যুগে ফরাসি সেনারা যে গণহত্যা চালিয়েছিলো তার ওপর ম্যাক্রোর মনোযোগ দেয়া উচিৎ।

তুরস্ক-আমেরিকার যৌথ সামরিক মহড়া
আমেরিকা,তুরস্ক ও কাতার যৌথ সামরিক মহড়া চালিয়েছে। শনিবার কাতারের রাজধানী দোহায়

এই বিমান মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। এতে কাতারের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ জেনারেল ঘানেম বিন শাহিন আল ঘানেম এ মহড়া পরিদর্শন করেন।রোববার এ খবর জানিয়েছে তুর্কি সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি।

আনাদোলু এজেন্সি জানিয়েছে,মহড়ায় কাতারের কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী ও দেশটির বিশেষায়িত বাহিনীগুলো অংশ নিয়েছে।

চলতি মাসের ২৩ এপ্রিল থেকে শুরু হয়েছে তিন দেশের এ মহড়া যা চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।

মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার মিত্র হিসেবে কাতারের পরিচিতি থাকলেও তুরস্কের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠতা আরো বেশী।

এ ঘনিষ্ঠতার কারণ হলো ২০১৭ সালে ৫ জুন কাতারবিরোধী অবরোধ আরোপ করে সৌদি জোট এতে কাতার চরম বিপদে পড়ে।কিন্তু তুরস্ক সেই অবরোধ একাই ব্যর্থ করে দেয়।

ওই সময় তুর্কি অর্থমন্ত্রী নিহাদ জিবেকজি ঘোষণা দেন, কাতারের চাহিদা পূরণে তুরস্কই যথেষ্ট। এরপর কাতারে তুর্কি রফতানির পরিমাণ বৃদ্ধি পায় প্রায় তিনগুণ।তুরস্কের সহায়তায় সৌদি জোটের চাপ কাঠিয়ে উঠতে সক্ষম হয় কাতার।

এরপর ২০১৬ সালে তুরস্কে ব্যর্থ সেনা অভ্যুত্থানের সময় দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগানের পাশে দাঁড়ান কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল-থানি।

অভ্যুত্থান চেষ্টার পর এরদোগানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কাতারের বিশেষ বাহিনীর ১৫০ সদস্যের একটি ইউনিট তুরস্ক পাঠানো হয়। এরপর থেকে তুরস্কের সাথে কাতারের সম্পর্ক আরো বৃদ্ধি পায়।

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে