ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধের উত্তেজনা !

পারমানবিক চুক্তি থেকে বের হয়ে যাওয়ার এক বছর হলো যুক্তরাষ্ট্রের। সম্প্রতি ২০১৫ সালে করা আন্তর্জাতিক পারমাণবিক চুক্তির কিছু শর্ত থেকে ইরানের সরে দাঁড়ানোয় আবারো ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মাঝে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, ৬০ দিনের মধ্যে স্বাক্ষরকারী অন্য দেশগুলোকে চুক্তিতে থাকা অর্থনৈতিক ও তেলের বিষয়ে দেওয়া প্রতিশ্রুতি পূরণের জন্য আহবান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে আরো বলেন, যদি তারা প্রতিশ্রুতি পূরণে ব্যর্থ হয়, তবে ইরান পুনরায় ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার কাজ শুরু করবে।

উল্লেখ্য যে, ইরানের পারমাণবিক শক্তি সঞ্চয়ের আকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ ও তেহরানের ওপর থাকা অর্থনৈতিক অবরোধ তুলে নেওয়ার লক্ষ্যে ২০১৫ সালে ওই পারমাণবিক চুক্তিটি করা হয়। ইরানের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিটি করেছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য। এই দেশগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, চীন ও রাশিয়া।

এর সঙ্গে জার্মানিও ছিল। গত বছর ওই চুক্তি থেকে বের হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। সেই সঙ্গে ইরানের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ শুরু করে ট্রাম্প সরকার। এতে ইরানের অর্থনীতি নতুন করে ধাক্কা খায় এবং ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকে।

ইরানের বের হয়ে যাওয়ার এমন ঘোষণার পরে এক প্রতিক্রিয়ায়, রাশিয়া এবং চীন এ অবস্থার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছে।
অন্যদিকে, এমন উত্তেজনায় যুক্তরাষ্ট্র উপসাগরীয় অঞ্চলে ইউএসএস আরলিংটন নামের একটি যুদ্ধজাহাজ এবং পেট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মোতায়েন করার ঘোষণা দিয়েছে।

যদিও যুদ্ধ জাহাজটি অনেক আগে থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের দিকে যাওয়ার কথা ছিল কিন্তু ইরানের সঙ্গে সাম্প্রতিক উত্তেজনার পরিপ্রেক্ষিতে জাহাজটি সেখানে অনেক আগেই পাঠানো হচ্ছে।

এছাড়াও ইরানের অর্থনীতিতে বিশেষ করে তেল রপ্তানীতে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান আবরোধের মুখে ইরান অনেক আগে থেকেই হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেবে বলে হুমকি দিয়ে আসছে। বিশ্বে প্রতি বছর যত জ্বালানি তেল ব্যবহৃত হয়, তার এক পঞ্চমাংশ সরবরাহ হয় এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে।

আরো পড়ুন

ফিলিস্তিনের গাজা থেকে প্রতিদিন ১,০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে আসার আতঙ্কে ইসরাইল।

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা থেকে প্রতিদিন ১০০০ ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে আসতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ইসরাইল।সোমবার এ খবর জানিয়েছে ইরানি সংবাদ মাধ্যম পার্সট্যুডে। ইসরাইলি ওয়েব সাইট ‘ওয়ালা’ জানিয়েছে,ইসরাইল কর্মকর্তাদের আশঙ্কা অবরুদ্ধ গাজা থেকে প্রতিদিন ইসরাইলের দিকে এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছুটে আসতে পারে।

শুধু তাই নয় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠনগুলো ক্ষেপণাস্ত্র শক্তির দিক থেকে লেবাননের হিজবুল্লাহর পর্যায়ে পৌঁছে যাচ্ছে ধারণা তাদের। ইসরাইলি সেনাবাহিনীরি একজন শীর্ষ কর্মকর্তা মেজর জেনারেল হেরযি হালেভি আশঙ্ক প্রকাশ করে বলেছেন,

ফিলিস্তিনের সাথে নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে গাজার হামাস ও ইসলামি জিহাদের পক্ষ থেকে প্রতিদিন এক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তাদের দিকে ছুটে আসবে।এছাড়া গাজা থেকে ট্যাংক বিধ্বংসী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোনও আসতে পারে।

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে