কুরআনের ভুল খুঁজতে গিয়ে মুসলমান হলে কানাডার খ্রিষ্টান ধর্ম প্রচারক

বিশেষ করে সূরা নিসার ৮২ নম্বর আয়াতটি আমাকে গভীর ভাবনায় নিমজ্জিত করে। সেখানে আল্লাহ বলেন, ‘এরা কী লক্ষ্য করে না কুরআনের প্রতি?

এটা যদি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও পক্ষ থেকে নাযিল হ’ত, তবে এতে অবশ্যই বহু বৈপরিত্য দেখতে পেত’। খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারক গ্যারি মিলার এভাবে ইসলামের দোষ খুঁজতে গিয়ে মুসলিম হয়ে যান।

তিনি বলেছেন, ‘আমি খুব বিস্মিত হয়েছি যে, কুরআনে ঈসা (আঃ)-এর মাতা মারিয়ামের নামে একটি বড় পরিপূর্ণ সূরা রয়েছে। আর এ সূরায় তাঁর এত ব্যাপক প্রশংসা ও সম্মান করা হয়েছে যে, এত প্রশংসা বাইবেলেও দেখা যায় না।

পবিত্র কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বিশ্বনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর নাম মাত্র ৫ বার এসেছে। কিন্তু ঈসা (আঃ)-এর নাম এসেছে ২৫ বার। আর এ বিষয়টি ইসলাম ধর্ম গ্রহণের ক্ষেত্রে আমার ওপর ব্যাপক প্রভাব রেখেছে’।

ড. গ্যারি মিলার ছিলেন কানাডার একজন খ্রিষ্ট ধর্ম প্রচারক। তিনি পবিত্র কুরআনের ভুল খোঁজার চেষ্টা করেছিলেন, যাতে ইসলাম ও কুরআন বিরোধী প্রচারণা চালানো সহজ হয়।
কিন্তু ফল হয়েছিল বিপরীত।

তিনি বলেন, আমি কোন একদিন কুরআন সংগ্রহ করে তা পড়া শুরু করলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম কুরআন নাযিল হয়েছিল আরবের মরুচারীদের মধ্যে। তাই এতে নিশ্চয় মরুভূমি সম্পর্কে কথা থাকবে।

কুরআন নাযিল হয়েছিল ১৪০০ বছর আগে।
তাই খুব সহজেই এতে অনেক ভুল খুঁজে পাব ও সেসব ভুল মুসলিমদের সামনে তুলে ধরব বলে সংকল্প করেছিলাম। কিন্তু কয়েক ঘণ্টা ধরে কুরআন পড়ার পরে বুঝলাম আমার এসব ধারণা ঠিক নয়, বরং এমন একটা গ্রন্থে অনেক আকর্ষণীয় তথ্য পেলাম।

টাঙ্গাইলে তাবলিগের দু’পক্ষের সংঘর্ষ; বিছানাপত্র ফেলে দিয়ে মসজিদে তালা

টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে মসজিদে অবস্থান নিয়ে তাবলিগ জামাতের দু’পক্ষের সংঘর্ষের পর বিছানা ও আসবাবপত্র ফেলে দিয়ে মসজিদে তালা লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। বুধবার (১৫ মে) সকালে উপজেলার বেতডোবা বায়তুল করিম কোর্ট জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে।

টাঙ্গাইলের কালিহাতিতে তাবলিগের দু’পক্ষের সংঘর্ষের পর মসজিদে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। গতকাল সকালে কয়েকজন এসে তাদের কয়েকজনকে মারধর করে বিছানা ও আসবাবপত্র মসজিদ থেকে ফেলে দেন।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, মসজিদে অবস্থান করা নিয়ে বিশ্ব মারকাজ দিল্লি নিজাম উদ্দিন (সাদ) অনুসারী ও মাওলানা জুবায়ের হোসেন ওলামা পরিষদ অনুসারীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে হাতাহাতি শুরু হয়।

বুধবার সকালে কয়েকজন এসে তাদের কয়েকজনকে মারধর করে বিছানা ও আসবাবপত্র মসজিদ থেকে ফেলে দেন, যোগ করেন তিনি।

মাওলানা জুবায়ের অনুসারী ওলামা পরিষদের থানা সূরার সাথী মোখলেছুর রহমান মারধরের বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, সাদপন্থীরা মঙ্গলবার মসজিদে প্রবেশ করেন। তাদের অনুমতিপত্রে কালিহাতী উল্লেখ না থাকায় তাদেরকে চলে যেতে বলা হয়।

অস্বীকৃতি জানালে তাদের মালামাল বাইরে ফেলে দেন স্থানীয় মুসল্লিরা। কালিহাতী থানার ওসি মীর মোশারফ হোসেন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, তাবলিগের দুই পক্ষের মধ্যে মসজিদে থাকা নিয়ে তর্কবিতর্ক ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। পরে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমিত দেবনাথ জানান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সাদপন্থীদের বিষয়ে নির্দেশনা থাকায় বুধবার দুপুরে দু’পক্ষকে ডেকে শান্তির জন্য মিমাংসা করে দিয়ে বিশ্ব মারকাজ দিল্লি নিজাম উদ্দিন (সাদ) অনুসারীদের ওই মসজিদে থাকার জন্য বলা হয়েছে।

এক পর্যায়ে সাদপন্থীদের বিছানাপত্র মসজিদের বাইরে ফেলে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ ঘটনার জেরে কালিহাতীতে উত্তেজনা শুরু হলে সাদ গ্রুপের অনুসারীরা থানায় অবস্থান নেন।

এ বিষয়ে বিশ্ব মারকাজ দিল্লি নিজাম উদ্দিন সাদ অনুসারী হুমায়ন বাঙ্গাল ঢাকা ট্রিবিউনকে জানান, মঙ্গলবার বিকেলে বায়তুল করিম কোর্ট জামে মসজিদে ঢুকতে গেলে তারা বাধার শিকার হন। পরে পুলিশের সহায়তায় মসজিদে প্রবেশ করেন।

সুত্র: নয়াদিগন্ত

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে