রাশিয়ার সাথে যৌথভাবে এস-৫০০ তৈরির ঘোষণা এরদোগানের !

রাশিয়ার সাথে যৌথভাবে এস-৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।শনিবার ইস্তাম্বুলে এক অনুষ্ঠানে এরদোগান এ ঘোষণা দেন।এ খবর জানিয়েছে এএফপি।

এরদোগান বলেন, ‘তুরস্কের এস-৪০০ কেনা থেকে ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এ ব্যাপারে চুক্তি হয়ে গেছে।এস-৪০০ পর যৌথভাবে এস-৫০০ তৈরি করা হবে।’ রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র একই সঙ্গে ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।

তুরস্কের ক্ষেপণাস্ত্র কেনা নিয়ে উত্তেজনার ভেতর এরই মধ্যে দেশটির সঙ্গে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান-সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে আমেরিকা। আমেরিকা চায়, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে তুরস্ক তাদের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় করুক। সম্প্রতি আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের ফলে তুরস্ক রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করছে।।

সূত্র : এএফপি কেন এস-৪০০ এতো গুরুত্ব? রাশিয়ার তৈরী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষ ব্যবস্থা এস-৪০০তে সর্বাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম স্থাপন করা রয়েছে, যা ইতিপূর্বে পশ্চিমা বিশ্ব কোনো দেশকে দিতে পারেনি।

এস-৪০০’র রাডার, সেন্সর এবং মিসাইল একটি বিরাট এরিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এর রাডারে ক্ষমতা প্রায় ৬০০ কিলোমিটার আর মিসাইলের ক্ষমতা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় একত্রে একাধিক লক্ষ্যে নজর রাখতে পারে।

এছাড়া এটি এক মিনিটের মধ্যেই স্থান পরিবর্তন করতে পারে। এটা এমনটি একটি সিস্টেম যা একের মধ্যে সব রয়েছে। এটি একত্রে দূরবর্তী, মধ্যবর্তী বা নিকটবর্তী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে। এটি নির্ভর করে এর ব্যবহারের ওপর।এস-৪০০ যে কোনো দেশের জন্য উপযোগী।

কারণ এই সিস্টেমটি স্থানান্তর বা চলাচলের জন্য যেমন কোনো জটিলতা নেই। রুশ ও মার্কিন অস্ত্র পেতে তুরস্কের কৌশল রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও আমেরিকার তৈরি এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান পেতে তুরস্ক দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিশ্রুতি পালনের চেষ্টা করছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী হুলুসি আকার।

শুক্রবার তুরস্কের পশ্চিম মালাতিয়া প্রদেশে একটি বিমানঘাঁটি সফরে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।এ খবর জানিয়েছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। তিনি বলেন, এস-৪০০ এবং এফ-৩৫ উভয় বিষয়ে আমরা নিজেদের শর্ত পরিপূর্ণ করার চেষ্টা করছি।

ভবিষ্যতেও আমরা প্রতিশ্রুতি নিখুঁতভাবে পালন করবো। মালাতিয়া প্রদেশের ওই বিমানঘাঁটিতে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান রাখার পরিকল্পনা রয়েছে

উল্লেখ করে তিনি বলেন,আমরা এই এলাকায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমানের কার্যক্রম পরিচালনা করব। এ সময় তিনি ওই বিমানের কিছু যন্ত্রাংশ তুরস্ক তৈরি করছে বলে জানান।

সুত্র: arabianjournal

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে