বিজেপি এমপির সাথে তসলিমার ‘অবৈধ’ সম্পর্ক ফাঁস করলেন মেয়ে!

জীবনে তিন বার বিয়ে করেছেন তিনি। বিয়ের বাইরেও যে তার বিভিন্ন জনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল- সে বিষয়টিও খোলাখুলি জানিয়েও দিয়েছেন।

তসলিমা নাসরিনকে ঘিরে নানাবিধ বিষয় নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। যার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ধর্মীয় বিষয় নিয়ে বিরূপ মন্তব্য। এজন্য তিনি বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিতও হয়েছেন। আর অন্য একটি হল তার জীবনযাপন।

এবার ভারতের বিজেপির এমপির সঙ্গে তসলিমা নাসরিনের সম্পর্কের বিষয়টি সামনে চলে আসলো। আর বিষয়টি জানিয়েছেন তাদের মেয়ে দাবিকারী অঙ্কিতা ভট্টাচার্য (!)। ভারতের অনলাইন পোর্টাল কলকাতা২৪x৭ এর এক প্রতিবেদনে বিষয়টি জানা গেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, লোকসভার এমপি জর্জ বেকার আসামের এক গ্রিক পরিবারে জন্ম নেয়। বেকার পেশায় অভিনেতা। অসমীয় ভাষার পাশাপাশি অনেক বাংলা এবং হিন্দি ছবিতে অভিনয় করেছেন।

যাত্রার মঞ্চ এবং টেলিভিশনেও তাকে দেখা গেছে। ২০১৪ সালে রাজনীতির ময়দানে আসেন জর্জ বেকার। লোকসভা ভোটে হাওড়া থেকে লড়াই করলেও জিততে পারেননি। তবে রাষ্ট্রপতির মনোনয়ন পেয়ে তিনি অ্যাংলো ইন্ডিয়ান হিসেবে লোকসভার সদস্য হয়েছেন।

এই জর্জ বেকারের সঙ্গেই নাকি সম্পর্ক ছিল তসলিমা নাসরিনের। এদের সন্তানই হচ্ছে বর্ধমানের ভাতার থানা এলাকার নারায়ণপুর গ্রামের বাসিন্দা অঙ্কিতা ভট্টাচার্য।

আমার স্বামীর নাম ইন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য। আমার বাবার নাম জর্জ বেকার। মায়ের নাম তসলিমা নাসরিন।’ জন্মের পরে বেশ কয়েক বছর জন্মদাতা বাবা-মা জর্জ বেকার এবং তসলিমা নাসরিনের সঙ্গেই কাটিয়েছিলেন অঙ্কিতা।

দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলার বেহালায় গৌরী ভট্টাচার্য নামের এক নারীর কাছে বড় হয়েছেন অঙ্কিতা। গৌরী ভট্টাচার্য জর্জ বেকারের স্ত্রী অর্পিতার বোন। গৌরীদেবীর মৃত্যু হয়েছে। তবে তার এই পালিত কন্যা এই সম্পর্কে আগেই জানতেন বলে জানা যায়।

স্মৃতিচারণের সুবিধার্থে দিয়েছেন কয়েকটি ছবি। একই সঙ্গে তার জন্ম বৃত্তান্ত সম্পর্কে আরও তথ্য-প্রমাণ কোথায় রয়েছে তাও জানিয়েছিলেন। তিনি স্পষ্টই বলেছেন, ‘আমি অঙ্কিতা ভট্টাচার্য।

সেই সময়ের বেশ কিছু ছবি গৌরীদেবী তাকে দিয়েছে বলে দাবি করেছেন তিনি। একই সঙ্গে সেই ছোটবেলার স্মৃতি আবছা হলেও তার মন থেকে মুছে যায়নি বলেও জানিয়েছেন অঙ্কিতা।

আরও অনেক ছবি এবং প্রমাণ গৌরীদেবীর দাদা রণজিতের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন অঙ্কিতা। গৌরীদেবীর জীবদ্দশায় ভাতারের বাসিন্দা ইন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যের সঙ্গে বিয়ে হয় অঙ্কিতার।

অঙ্কিতা ভট্টাচার্য আরও জানিয়েছেন, নিজের প্রকৃত বাবা-মায়ের বিষয়ে জানার পরে জর্জ বেকারের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেন। নিরাশ হতে হয়নি তাকে।

অঙ্কিত বলছেন, ‘জর্জ বেকারের কাছে আমি পিতৃস্নেহ পেয়েছি।’ যদিও তা খুব বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। অঙ্কিতার অভিযোগ স্ত্রী অর্পিতার চাপেই কন্যা অঙ্কিতাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন জর্জ বেকার। বন্ধ করে দিয়েছেন সমস্ত যোগাযোগ।

বাবার সম্মানের কথা ভেবেই সমগ্র বিষয়টি চেপে গিয়েছিলেন বলে জানিয়েছেন অঙ্কিতা। তবে যাতে তিনি চুপ থাকেন তার জন্য অনেক হুমকিও এসেছে। প্রাণনাশের হুমকিও দেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি।

কিন্তু ‘নিজের প্রাপ্য আদায়ের জন্য একপ্রকার বাধ্য হয়েই আর চুপ থাকতে পারলাম না’ বলছেন অঙ্কিতা। মা তথা লেখিকা তসলিমা নাসরিনের যোগাযোগ হয়েছিল? এই বিষয়ে কিছু বলেননি অঙ্কিতা।

নাগরিকত্ব না থাকলেও বর্তমানে ভারতের জাতীয় রাজধানী দিল্লিতে রয়েছেন তসলিমা নাসরিন। ওই শহরেই অবশ্য রয়েছে ভারতের সংসদ ভবন। দেশটি সংসদ সদস্যরাও ওই শহরেই থাকেন। এর পর প্রশ্ন তো থেকেই যায়।

খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য জোর আন্দোলন কর্মসূচি চায় ২০ দল

বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বলছেন, আইনি প্রক্রিয়ায় খালেদা জিয়ার জামিন সম্ভব নয়। আন্দোলনের মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে হবে।

নেতাদের বারবার এমন বক্তব্য দেয়ার পরও আন্দোলন কর্মসূচিতে বিএনপি যাচ্ছে না কেন? এর জবাবে খালেদা জিয়ার আইনজীবী ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক দল।

এই দলের পক্ষে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে কিছু করার সুযোগ নেই। আমরা কোনোভাবেই আইনি প্রক্রিয়া লঙ্ঘন করতে পারি না। চেষ্টা করছি, আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তাকে মুক্ত করতে।

বিএনপি চেয়ারপার্সন দীর্ঘ ১৫ মাস ধরে কারাবন্দি। গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতির মামলায় দন্ডিত হয়ে তিনি কারাবন্দী হন। দলীয় প্রধানের মুক্তির জন্য আইনি পথে হাঁটছে বিএনপি।

তবে এতে তারা খুব একটা সফল হতে পারছে না। আর খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথের আন্দোলনও জোরদার হচ্ছে না। দলের নেতারা অনেক সময় আইনি ও আন্দোলন দুটো পথেই অগ্রসর হওয়ার কথা বললেও এখন পর্যন্ত কাক্সিক্ষত ফল পায়নি বিএনপি।

গত বছর ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে খালেদা জিয়াকে ছাড়া অংশ নিয়ে বিএনপির ভরাডুবির পর দলের নেতাকর্মী, সমর্থকদের কাছে চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবি আবার জোরালো হয়।

তার মুক্তির জন্য বিএনপির সর্বস্তরে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার দাবি ওঠে। তবে বিএনপির অধিকাংশ সিনিয়র নেতা মনে করেন, আইনি পথে খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব নয়। তারা সে কথা প্রকাশ্যে বলেছেনও।

এ প্রসঙ্গে আইনজীবী ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান খন্দকার মাহবুব হোসেন ইনকিলাবকে বলেন, সরকার চাইলেই কেবল খালেদা জিয়ার মুক্তি সম্ভব।

বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলন নিয়ে কেন্দ্রীয় নেতারা প্রচন্ড চাপে। দলের তৃণমূল নেতারা চান চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে দ্রুত রাজপথে আন্দোলন কর্মসূচি।

নেতারা বারবার আন্দোলনের আশ্বাস দিলেও এখন পর্যন্ত কোনো কর্মসূচি দিতে পারেননি। এতে তৃণমূলে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ছে। দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের পাশাপাশি বিএনপির চেয়ারপার্সনের মুক্তির দাবিতে এবার সোচ্চার হয়েছে ২০ দলীয় জোটের শরিক দলগুলো।

সম্প্রতি ২০ দলীয় জোটের সভায় শরিক দলগুলো বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য জোর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণার দাবি জানায়।

খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিএনপির নেতারা প্রতীকী অনশন, মানববন্ধন, সেমিনার, বিদেশি কূটনীতিকদের অবহিত করতে বৈঠক করা ছাড়া রাজপথে কোনো আন্দোলন করতে পারেননি কিংবা একটি বিক্ষোভ মিছিল করে সরকারের মনোভাব বোঝারও চেষ্টা করেননি।

কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ না হলে মামলা হবে, এমন ধারণা দলটিকে রাজপথ থেকে দলীয় কার্যালয়ে আবদ্ধ করে ফেলেছে। এ অবস্থায় খালেদা জিয়ার মুক্তি দাবিতে রাজপথে আন্দোলন শুরু করতে চায় ২০ দলীয় জোট।

এ বিষয়ে ২০ দলীয় জোটের শরিক লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টি- এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমেদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি ঠেকাতে বিভিন্নভাবে ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

তার মুক্তির জন্য এলডিপি সারা দেশে জনমত গড়ে তুলবে। আন্দোলনের মাধ্যমে তাকে মুক্ত করতে হবে। এ বিষয়ে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ২০ দলীয় জোট নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘ দিন ধরে কারাগারে বন্দি আছেন।

কার্যত গোটা দেশই আজ বন্দি। তাই খালেদা জিয়া এবং বন্দি দেশটাকে মুক্ত করার জন্য সবাইকে একসঙ্গে আন্দোলন সংগ্রাম করতে হবে। তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার এ বিষয়ে কিছুটা দ্বিমত পোষণ করেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা রিভিশন আবেদনের রুল যথাযথ ঘোষণা করে হাইকোর্ট খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে দেন। এ ছাড়াও খালেদা জিয়ার নামে আরো ৩২টি মামলা রয়েছে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, সরকারের কাছে কাকুতি-মিনতি করে বেগম জিয়ার মুক্তি আসবে না। রাজপথের আন্দোলন সংগ্রামই বেগম জিয়ার মুক্তির একমাত্র পথ।

আর আন্দোলন সংগ্রামে রাজপথে নেমে জেল-জুলুমের ভয় করলে চলবে না। আন্দোলন করতে গেলে জেল আসবে, জুলুম আসবে। এসব মোকাবেলা করেই সামনে এগিয়ে যেতে হবে।

জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও অর্থদন্ড দেন। পরে ওই বছরের ৩০ অক্টোবর খালেদা জিয়ার সাজা বাড়িয়ে ১০ বছরের কারাদন্ড দেন হাইকোর্ট।

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে