ইরান-বিরোধী মিশনে আমরিকার সঙ্গে যোগ দিল ব্রিটেন

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের কথিত হুমকি মোকাবেলার জন্য মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বাহিনীর সঙ্গে গোপনে যোগ দিয়েছে ব্রিটিশ সেনারা। ব্রিটেনের দ্যা সানডে এক্সপ্রেস এ খবর দিয়েছে।

পত্রিকাটি বলছে, ব্রিটেনের স্পেশাল ফোর্স পারস্য উপসাগরে মোতায়েন মার্কিন স্ট্রাইক গ্রুপের সঙ্গে যোগ দিয়েছে। দাবি করা হচ্ছে- বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর ইরানের সম্ভাব্য হামলা ঠেকাতে এই চরম গোপন মিশনে যোগ দিয়েছে ব্রিটিশ সেনারা।

ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল বোট সার্ভিসের সদস্যরা পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ পানিসীমা দিয়ে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকারী ব্রিটিশ রেজিস্টার্ড তেল ট্যাংকারে অবস্থান করছে। স্পেশাল বোট সার্ভিসের সদস্যদেরকে কেশ্‌ম দ্বীপে ইরানের সামরিক তৎপরতা নজরদারি করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ দ্বীপে ইরান সাধারণত তার নৌবাহিনীর গানবোটগুলো রাখে।

মার্কিন যুদ্ধজাহাজ আব্রাহাম লিংকন
সানডে এক্সপ্রেসের খবরে বলা হয়েছে, হরমুজ প্রণালীর ওপর দিয়ে সামরিক হেলিকপ্টার ওড়া নিষিদ্ধ হলেও ব্রিটিশ সেনারা ওমান সাগরে পৌঁছালে ব্রিটেনের রয়্যাল নেভি মারলিন হেলিকপ্টারে করে তাদেরকে আবার তুলে আনা হবে।

ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সাম্প্রতিক উত্তেজনায় ব্রিটেন সরাসরি কোনো পক্ষ না নিলেও বিভিন্ন সময় মার্কিন বাগাড়ম্বরের পক্ষেই তারা কথা বলেছে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা সম্পর্কেও ব্রিটেন বলেছে, পারস্য উপসাগরে ইরানের হুমকির বিষয়ে লন্ডনও আমেরিকার মতো একই মনোভাব পোষণ করে।

আরো পড়ুন

নিরাপত্তা আক্রমণ ব্যর্থ করে দিচ্ছে তুরস্ক

তুরস্কের প্রতিনিয়িত নিরাপত্তা ফাঁদগুলো ব্যর্থ করে দিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান। রোববার তুরস্কের স্বাধীনতার শতবছর উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।খবর ইয়েনি শাফাকের।

এরদোগান বলেন,আমরা প্রতিদিন নিজেদের উন্নত ভবিষ্যতের জন্য নতুন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগিয়ে চলি।অতচ সিরিয়ার ভাইয়েরা কত অসহায়।তাদের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন। প্রসঙ্গত,১৯ মে তুরস্কের ইতিহাসে একটি মাইলফলক।

যেদিন মোস্তফা কামাল হয়েছিলেন মোস্তফা কামাল আতাতুর্ক। তিনি কৃষ্ণ সাগরের সামসুন শহরে ইস্তানম্বুল থেকে এসেছিলেন যুদ্ধ সংগঠনের জন্য, যা চার বছর পরে উসমানীয় সাম্রাজ্যের অবশিষ্টাংশ আধুনিক তুরস্কে রূপান্তরিত হয়েছিল।

এস-৫০০ তৈরির ঘোষণা এরদোগানের রাশিয়ার সাথে যৌথভাবে এস-৫০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ঘোষণা দিয়েছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যিপ এরদোগান।শনিবার ইস্তাম্বুলে এক অনুষ্ঠানে এরদোগান এ ঘোষণা দেন।এ খবর জানিয়েছে এএফপি।

এরদোগান বলেন, ‘তুরস্কের এস-৪০০ কেনা থেকে ফিরে আসার কোনো সম্ভাবনাই নেই। এ ব্যাপারে চুক্তি হয়ে গেছে।এস-৪০০ পর যৌথভাবে এস-৫০০ তৈরি করা হবে।’ রাশিয়ার এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র একই সঙ্গে ৮০টি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করতে সক্ষম।

তুরস্কের ক্ষেপণাস্ত্র কেনা নিয়ে উত্তেজনার ভেতর এরই মধ্যে দেশটির সঙ্গে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান-সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ করে দিয়েছে আমেরিকা। আমেরিকা চায়, রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে তুরস্ক তাদের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্র ক্রয় করুক।

সম্প্রতি আমেরিকা ও ইউরোপের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপড়েনের ফলে তুরস্ক রাশিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করছে।।সূত্র : এএফপি কেন এস-৪০০ এতো গুরুত্ব? রাশিয়ার তৈরী ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষ ব্যবস্থা এস-৪০০তে সর্বাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম স্থাপন করা রয়েছে, যা ইতিপূর্বে পশ্চিমা বিশ্ব কোনো দেশকে দিতে পারেনি।

এস-৪০০’র রাডার, সেন্সর এবং মিসাইল একটি বিরাট এরিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এর রাডারে ক্ষমতা প্রায় ৬০০ কিলোমিটার আর মিসাইলের ক্ষমতা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত। এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় একত্রে একাধিক লক্ষ্যে নজর রাখতে পারে। এছাড়া এটি এক মিনিটের মধ্যেই স্থান পরিবর্তন করতে পারে।

এটা এমনটি একটি সিস্টেম যা একের মধ্যে সব রয়েছে। এটি একত্রে দূরবর্তী, মধ্যবর্তী বা নিকটবর্তী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে। এটি নির্ভর করে এর ব্যবহারের ওপর।এস-৪০০ যে কোনো দেশের জন্য উপযোগী।কারণ এই সিস্টেমটি স্থানান্তর বা চলাচলের জন্য যেমন কোনো জটিলতা নেই

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে