আগে মুসলিমদের খুন হওয়া আটকান, মোদীকে হুঁশিয়ারী দিয়ে বলললেন: ওয়াইসি

বিজেপি দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ঠিক পরেই ফের ‘গোরক্ষকদের’ তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছে মধ্যপ্রদেশে। সিওনীতে গোমাংস নিয়ে যাওয়ার ‘অপরাধে’ এক দম্পতি-সহ তিন জনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পাঁচ জন ‘গোরক্ষকে’র বিরুদ্ধে।

বিজেপি জমানা নিয়ে সংখ্যালঘুদের মিথ্যে ভয় দেখানো হচ্ছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জানিয়েছেন, তাঁর সরকার সকলকে সঙ্গে নিয়ে চলার পক্ষপাতী। কিন্তু আজ তথাকথিত ‘গোরক্ষকদের’ তাণ্ডব নিয়ে মোদীকে বিঁধলেন এআইএমআইএম নেতা আসাদুদ্দিন ওয়াইসি। তাঁর প্রশ্ন, মোদী এই ধরনের গোষ্ঠীর তাণ্ডব রুখতে কী পদক্ষেপ করছেন?

বিজেপি দেশে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়ার ঠিক পরেই ফের ‘গোরক্ষকদের’ তাণ্ডবের অভিযোগ উঠেছে মধ্যপ্রদেশে। সিওনীতে গোমাংস নিয়ে যাওয়ার ‘অপরাধে’ এক দম্পতি-সহ তিন জনকে মারধর করার অভিযোগ উঠেছে পাঁচ জন ‘গোরক্ষকে’র বিরুদ্ধে। তার পরে আক্রান্ত তিন জনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। কারণ, মধ্যপ্রদেশে গোম‌াংস রাখা বা বিক্রি করা বেআইনি।

আজ ওয়াইসি বলেন, ‘‘সংবিধানে মানুষের জীবনের অধিকার স্বীকৃত, পশুর নয়। প্রধানমন্ত্রী যদি মনে করেন সংখ্যালঘুরা ভয়ে ভয়ে আছেন তাহলে তাঁর জানা উচিত উত্তরপ্রদেশের দাদরিতে যারা মহম্মদ আখলাককে পিটিয়ে মেরেছিল তারা একটি নির্বাচনী জনসভার প্রথম সারিতে বসেছিল।’’

২০১৫ সালে দাদরিতে বাড়িতে গোমাংস রাখার ‘অপরাধে’ মহম্মদ আখলাককে পিটিয়ে মারার অভিয‌োগ উঠেছিল। সেই ঘটনায় ১৪ জন গ্রেফতার হয়। তাদের মধ্যে ১২ জন জামিন পেয়েছে।

ওয়াইসির প্রশ্ন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী এই ধরনের গোষ্ঠীগুলিকে রুখতে কী ব্যবস্থা নিচ্ছেন? এই গোষ্ঠীগুলি মুসলিমদের পিটিয়ে খুন করছে। সেই ঘটনার ভিডিয়ো পর্যন্ত তুলে রাখছে। আমাদের চূড়ান্ত অপমান করা হচ্ছে। মধ্যপ্রদেশের ঘটনাই এর সাম্প্রতিক নজির।’’

তাঁর বক্তব্য, ‘‘সংসদে মুসলিমদের প্রকৃত প্রতিনিধিত্বের বিষয়ে কি বিজেপি উদ্যোগী হয়েছে? প্রধানমন্ত্রীর নিজের দলের সাংসদের সংখ্যা এখন ৩০০ জনের বেশি। কিন্তু তাঁদের মধ্যে ক’জন মুসলিম?’’ লোকসভা ভোটে গেরুয়া ঝড়ের মধ্যে হায়দরাবাদ কেন্দ্রে ফের জয়ী হয়েছেন ওয়াইসি।

আরো সংবাদ

বিজেপি হিন্দুত্বের কার্ড খেলে সফল হয়েছে: ওয়াইসি

অল ইন্ডিয়া মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন (মিম) প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেছেন, দেশে হিন্দুদের থেকে নয়, হিন্দুত্ববাদ থেকে বিপদ রয়েছে। লোকসভা নির্বাচনে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির বিপুল জয়ের পরে আজ (শুক্রবার) এক বেসরকারি টিভি চ্যানেলে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ওই মন্তব্য করেছেন।

ওয়াইসি বলেন, ‘ইলেকট্রনিক ভোট যন্ত্রে (ইভিএম) নয়, হিন্দু মনের সঙ্গে কারচুপি হয়েছে। এই নির্বাচনে জাতপাত ও ধর্ম মুখ্য বিষয় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে। বিজেপি হিন্দুত্বের কার্ড খেলেছে এবং তারা সফল হয়েছে। গোটা নির্বাচনে উন্নয়নের ইস্যু অনুপস্থিত ছিল।’

তিনি বলেন, ‘আমি কোনো হিন্দু ভাইয়ের বিরোধী নই, আমি হিন্দুত্বের বিরোধী ছিলাম, আছি এবং থাকব ইনশাআল্লাহ্‌ যতদিন বেঁচে থাকব।’

ওয়াইসি বলেন, ‘মোদি গেরুয়া নিকাব পরে দেশের জনতার মনে রিগিং করেছেন। আমি মনে করি বিজেপির সফলতার মধ্যে রাজনৈতিক মুসলিম নির্মূলকরণ আরও বাড়বে। কারণ ৩০৩ আসনে বিজেপি জয়ী হলেও এনডিএ’র কাছে কেবল একমাত্র মুসলিম আছে, বিজেপি’র কোনো মুসলিম প্রার্থী জয়ী হননি। ওনার (প্রধানমন্ত্রীর) যে কথা, ‘সবার সঙ্গে সকলের উন্নয়ন’ এটা একদমই সত্যি নয়। এজন্য আমি বলতে চাই মুসলিম রাজনৈতিক নির্মূলকরণ বাড়বে এবং এটা আমাদের গণতন্ত্রের জন্য ঠিক নয়।’

ওয়াইসি বলেন, ‘এটা অবশ্যই বলার যে বিরোধী দলগুলো বারবার যে বলছে ইভিএম কারচুপি হয়েছে, আমি মনে করি বিগত পাঁচ বছরে নরেন্দ্র মোদি ও আরএসএস হিন্দু মনে কারচুপি করেছে। জাতীয়তাবাদ ও আগ্রাসী হিন্দু পরিচিতিকে সামনে রেখে ওরা সফল হয়েছে, বিরোধীরা যার মোকাবিলা করতে পারেনি। ফলে বেকারত্ব থেকে বিভিন্ন ইস্যু সামনে আসেইনি।’

লোকসভা নির্বাচনে হায়দ্রাবাদ থেকে ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি পুনরায় নির্বাচিত হয়েছেন। অন্যদিকে, মহারাষ্ট্রের আওরঙ্গবাদ থেকে জয়ী হয়েছেন ‘মিম’ প্রার্থী ইমতিয়াজ জলিল।

ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে