এবার রোজা রেখেই বিশ্বকাপ খেলবেন ক্রিকেটর হাশিম আমলা !

বিশ্ব ক্রিকেটের জনপ্রিয় নামগুলোর একটি। দক্ষিণ আফ্রিকা দলে ব্যাট হাতে নিয়মিতই আস্থার প্রতিদান দেন। তাই নিয়মিতই থাকেন আলোচনায়। আমলা আলোচনায় থাকেন আরো একটি কারণে।

যে কোনো পরিস্থিতিতেই মেনে চলেন ধর্মীয় অনুশাসন। সামনেই বিশ্বকাপ। এ বিশ্বকাপের শুরুটা হবে মুসলমানদের পবিত্র মাস রমজান চলা অবস্থায়ই। রোজা রেখে শরীর কিছুটা ক্লান্ত হয়ে পড়াই স্বাভাবিক, এই অবস্থায় খেলা যে কারোর জন্যই কষ্টকর।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকার মুসলিম ক্রিকেটার হাশিম আমলা জানিয়েছেন, রোজা তাকে বরং ভালো খেলায় সহায়তা করে। প্রোটিয়া এই ওপেনার রোজা রেখে খেলার বিষয়ে বলেন, ‘এটা সত্যিই আমাকে দারুণভাবে সহায়তা করে। আমি সবসময়ই রোজার দিকে তাকিয়ে থাকি। এটা বছরের সেরা মাস।

আমি এটাকে মানসিক ও আত্মিক ব্যায়াম হিসেবে দেখি।’ বিশ্বকাপ কঠিন টুর্নামেন্ট। এখানে একাদশে জায়গা ধরে রাখা কঠিন। উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি ককের সঙ্গে ইনিংস সূচনায় আমলার প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে আছেন এইডেন মাকরাম।

তবে এসব নিয়ে ভাবছেন না আমলা। দলের জন্য ভালো খেলাটাই গুরুত্বপূর্ণ তার কাছে। আমলা বলেন, ‘আমার কাছে রান করাটাই সবসময় গুরুত্বপূর্ণ। আমি একাদশে থাকছি অথবা থাকছি না, এটা আমার জন্য কখনো গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমি যা জানি,

তা মাঠে দেখাতে চাই। আর সেটা যাতে দলের উপকারে আসে।’ বিশ্বকাপের আগে ভালো খেললেও বরাবরই মূল টুর্নামেন্টে খেই হারিয়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। যে জন্য তাদের নামের আগে বসে গেছে ‘চোকার্স’ তকমা। তবে আমলা নেতিবাচক এই রেকর্ড নিয়ে দুশ্চিন্তায় ভুগতে নারাজ।

তিনি বলেন ‘এটা এমন একটা জিনিস আপনি চাইলেই তা বদলে ফেলতে পারবেন না। এটা স্বাভাবিকভাবেই ঘটে যাবে। এটা নিয়ে যতই সজাগ থাকি না কেনো, যে কোনোভাবে তা ঘটবেই। আমার মনে হয় আমাদের ক্রিকেটার এবং কোচিং স্টাফ সবাই অভিজ্ঞ। তাই এখানে জ্ঞানের অভাব নেই।’

উৎসঃ জাগোনিউজ

রোজা রাখলে ক্যান্সারের কোষও মারা যায়:নোবেল জয়ী জাপানি গবেষক ওশিনরি ওসুমি

একজন জাপানি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ভার্জিনিয়া টেক থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন, চাকরি করছেন একটা প্রাইভেট ফার্মের বড় পদে। তিনি প্রতিবছর রোজা রাখেন।

তবে তিনি কেন রোজা রাখেন এ সর্ম্পকে এক সাক্ষাতকারে মুসলমানদের পবিত্র রোজা সম্পর্কে এক বিস্ময়কর তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মুসলমানরা যাকে রোজা বলে, আমি তাকে বলি ‘অটোফেজি’। রোজার মাসে খাবার-দাবারের ঝামেলা, তাই এই মাসটা আমি অটোফেজি করি।

অটোফেজি কি তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুসলমানরা তাদের ধর্মের বিধান অনুযায়ী যে রোজা পালন করেন তার উপর গবেষণা করে জাপানি গবেষক ওশিনরি ওসুমি ২০১৬ সালে ‘অটোফেজি আবিষ্কার করে নোবেল জয় করেছেন! অটোফেজি শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ অটো ও ফাজেইন থেকে।

বাংলায় এর অর্থ হচ্ছে আত্ম ভক্ষণ বা নিজেকে খেয়ে ফেলা। উপবাসের সময় মানুষের শরীরের সক্রিয় কোষ গুলো চুপচাপ বসে না থেকে সারা বছরে তৈরি হওয়া ক্ষতিকারক আর নিষ্ক্রিয় কোষগুলোকে খেয়ে ফেলে শরীরকে নিরাপদ আর পরিষ্কার করে দেয়। এটাই ‘অটোফেজি।

‘অটোফেজি আবিষ্কারের পর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের বা ধর্ম মানে না অনেক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ সারা বছরে বিভিন্ন সময়ে ‘অটোফেজি করে শরীরটাকে সুস্থ রাখে। অটোফেজি তে ক্যান্সারের কোষও মারা যায়! ‘অটোফেজি আবিষ্কার হলো ২০১৬ তে, অন্য ধর্মাবলম্বীরা এখন ‘অটোফেজি করছে এর উপকারীতা জেনে।

আর মুসলিমরা ‘অটোফেজি করে আসছে হাজার বছর ধরে কিছু না জেনে; শুধু বিশ্বাস করে । অনেক কিছুতেই হয়তো আপনি মানে খুঁজে পাননা কিন্তু এটাই সত্য যে ইসলামে অকল্যাণের কিছু নেই!

ওসুমি জাপানের ফুকুকায় জন্মগ্রহণ করেন। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৭ সালে বিজ্ঞানে স্নাতক ও ১৯৭৪ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল ফেলো ছিলেন।

১৯৭৭ সালে সহযোগী গবেষক হিসেবে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। ১৯৮৬ সালে প্রভাষক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। ১৯৯৬ সালে ওকাজাকি সিটিতে অবস্থিত জাতীয় বেসিক বায়োলজি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরিত হন। সেখানে তিনি অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত হেয়ামার গ্র্যাজুয়েট এডভান্সড স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়েও অধ্যাপকের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৪ সালে অবসর নেয়ার পরও ইনোভেটিভ গবেষণা ইনস্টিটিউট ও টোকিও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে অধ্যাপকের দায়িত্ব চালিয়ে যান। রোজার উপর গবেষণা করে নোবেল জয় করলেন ভিনধর্মী ওসুমি।

২০১৬ সালে নোবেল কমিটি জাপানের ডাক্তার ’ওশিনরি ওসুমি’-কে অটোফেজি আবিষ্কারের জন্যে পুরষ্কার দেয়। এরপর থেকে আধুনিক মানুষেরা ব্যাপকভাবে রোজা রাখতে শুরু করে। সুত্র বাংলাদেশ টুডে

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে