ট্রাম্পের জামাই কুশনারের সাথে বৈঠক, ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান !

জেরুজালেম বা আল-কুদসকে রাজধানী করে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করার জন্য আমেরিকার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন জর্দানের রাজা দ্বিতীয় আবদুল্লাহ।

তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডানাল্ড ট্রাম্পের জামাই ও সিনিয়র উপদেষ্টা জারেড কুশনারের সঙ্গে গতকাল (বুধবার) রাজধানী আম্মানে এক বৈঠকে এ আহ্বান জানান। রাজা আবদুল্লাহ বলেন, ১৯৬৭ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের আগের সীমানা নিয়ে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে।

যদিও তিনি জেরুজালেমকে নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠনের আহ্বান জানিয়েছেন কিন্তু মার্কিন প্রেসিডেন্ট আগেই জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছেন। সে ক্ষেত্রে জর্দানের রাজার এ আহ্বান আমেরিকার কাছে নিতান্তই গুরুত্বহীন।

জেরুজালেম শহরে অবস্থিত বায়তুল আকসা মসজিদের দেখভালের দায়িত্ব পালন করেন জর্দানের রাজা। গতকালের বৈঠকে তিনি কথিত দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের বিষয়ে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

এ সময় তিনি দুই রাষ্ট্রকেন্দ্রীক সমাধানের ওপর ভিত্তি করে পূর্ণাঙ্গ ও টেকসই শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য প্রচেষ্টা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বৈঠকে দু পক্ষ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক ঘটনাবলী নিয়েও আলোচনা করে।

সুত্র: পাসটুডে

ফিলিস্তিনের জেরুজালেমের ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেয়ার অধিকার আমেরিকার নেই!

জেরুজালেম আল-কুদস ফিলিস্তিনি জাতির সম্পদ। কাজেই এ ব্যাপারে আমেরিকা বা ইহুদিবাদী ইসরায়েল সিদ্ধান্ত নিতে পারবে না।ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ এ কথা বলেছেন। বুধবার নিজের অফিসিয়াল টুইটার পেজে প্রকাশিত এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি ।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ জারিফ বলেন, আল-কুদস (জেরুজালেম) আমেরিকার কোনো বিষয় নয় যে সে দিয়ে দেবে এবং ইসরায়েলেরও কোনো বিষয় নয় যে, সে নিয়ে নেবে।

অথবা এই নগরী কোনো পণ্য নয় যে কেউ তা বেচাকেনা করবে। এটি ফিলিস্তিনিদের উত্তরাধিকার এবং তাদেরই থাকবে। বুধবার সন্ধ্যায় তেহরানে নিযুক্ত মুসলিম দেশগুলোর রাষ্ট্রদূতদের সম্মানে এক ইফতার মাহফিলের আয়োজন করেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। সেখানে তিনি বলেন, আল-কুদস হচ্ছে মুসলমানদের প্রথম কেবলা এবং তাদের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতীক।

মোহাম্মাদ জাওয়াদ জারিফ মুসলিম বিশ্বের বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘অত্যন্ত বেদনাদায়ক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এর চেয়ে কষ্টদায়ক আর কিছু হতে পারে না যে, আমেরিকা ও ইসরায়েল মিলে আল-কুদসের ভবিষ্যত নির্ধারণের যে লজ্জাজনক পরিকল্পনা তৈরি করেছে তার প্রতি সমর্থন দিচ্ছে মধ্যপ্রাচ্যেরই কিছু আরব দেশ।

উল্লেখ্য, ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার চিরতরে নির্মূল করে দেয়ার লক্ষ্যে আমেরিকা কথিত ‘শতাব্দির সেরা চুক্তি’ নামক পরিকল্পনা তৈরি করেছে। সৌদি আরবসহ কয়েকটি আরব দেশ এই পরিকল্পনার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। এই পরিকল্পনায় আল-কুদসকে ইহুদিবাদী ইসরাইলের হাতে ন্যস্ত করার কথা বলা হয়েছে এবং ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের মাতৃভূমিতে ফিরে আসার অধিকার চিরতরে খর্ব করা হয়েছে।

এই ন্যক্কারজনক পরিকল্পনায় আরো বলা হয়েছে, জর্দান নদীর পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার যতটুকু অংশে এখন ফিলিস্তিনিরা ঘেরাও হয়ে রয়েছে ততটুকু অংশ নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠিত হবে।

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে