বুলগেরিয়ায় ৭০০ বছরের পুরনো মসজিদ ফের চালু করল তুরস্ক !

দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর বুলগেরিয়ায় উসমানী সাম্রাজ্যের সবচেয়ে পুরোনো ইস্কি মসজিদটি নতুন করে চালু করা হয়েছে। তুরস্কের ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে নতুন করে মসজিদটি চালু করা হয়। খবর ইয়েনি শাফাক ও তুর্কি প্রেসের।

রোববার তুর্কি সরকারের প্রধান ধর্মীয় উপদেষ্টা আলি ইরবাশ বুলগেরিয়ার হাস্কো অঞ্চলের এই মসজিদটি পুনঃউদ্বোধন করেন। ফলশ্রুতিতে ১৩৯৪ সালে নির্মিত প্রাচীন এ মসজিদটি তার মূলভিত্তিতে ফিরে আসলো। আলি ইরবাশ তার বক্তৃতায় ইস্কি মসজিদ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যারা অবদান রেখেছেন সবাইকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

এসময় তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, এ ধরণের সাংস্কৃতিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। এর ফলে বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম পূর্বপুরুষদের সংস্কৃতি ও সভ্যতার পরিচয় লাভে সমর্থ হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সোফিয়ায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত হাসান উলুসী, বুলগেরিয়ার মুফতি মুস্তাফা হাজি আলইয়াশ,

প্রসিদ্ধ মুফতি বুসরা আমিন আফেন্দী এবং বিশিষ্ট ধর্মীয় দায়ী ও স্কলারগণ উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আলি ইরবাশ মসজিদে নামাজের ইমামতিও করেন। দীর্ঘসময় বন্ধ থাকা ইস্কি জামে মসজিদ পুনঃপ্রতিষ্ঠায় সহযোগিতা করার জন্য বুলগেরিয়া সরকারকে তুরস্কের পক্ষ থেকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানানো হয়েছে।

উৎসঃ যুগান্তর

ভারতকে ধমক আমেরিকার

রাশিয়ার কাছ থেকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এস-৪০০ কেনায় ভারতকে ধমক দিয়েছে আমেরিকা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেয়োর আসন্ন দিল্লি সফর ও ওসাকায় ‘জি-২০’ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নির্ধারিত বৈঠকের আগে ভারতকে এই হুঁশিয়ারি দিলো আমেরিকা।

রোববার এ খবর জানিয়েছে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অ্যালিস ওয়েলস বলেছেন,‘কোন সমরাস্ত্র ব্যবস্থা কেনার আগে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ দেশগুলোকে যথেষ্ট ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

তিনি বলেন,আমরা দিল্লিকে জানিয়ে দিয়েছি প্রতিরক্ষায় ভারতকে আমরা যতটা সম্ভব সাহায্য করতে রাজি আছি।প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরো অনেক চুক্তি করতে রাজি আছি ভারতের সঙ্গে।কিন্তু দিল্লিকেও বুঝতে হবে, মার্কিন কংগ্রেস তাদের ‘প্রধান প্রতিরক্ষা সহযোগী’র মর্যাদা দিয়ে কী আশা করছে তাদের কাছ থেকে।

দিল্লি যদি রুশ এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী ব্যবস্থা কেনা থেকে পিছু না হঠে, তা হলে আমাদেরও অন্য কথা ভাবতে হবে।

আমেরিকার ওপর প্রতিশোধের হুমকি তুরস্কের

রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কেনা নিয়ে আমেরিকা তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করলে আঙ্কারাও ওয়াশিংটনের ওপর প্রতিশোধ নেবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত কাভুসগলু।

শুক্রবার তুরস্কের একটি টেলিভিশকে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। কাভুসগলু বলেন,আমরা এস-৪০০ ইস্যুতে পরিণতি যাই হোক পিছু হটবো না।এতে আমেরিকা যদি আমাদের ব্যাপারে কোনো নেতিবাচক পদক্ষেপ নেয়, তাহলে আমরা পাল্টা পদক্ষেপ নেবো।

তুরস্ক এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার ঘোষণা দেয়ার পর আমেরিকার সাথে তাদের বৈরী সম্পর্ক তৈরী হয়েছে। ইতিমধ্যে সর্বাধুনিক এফ-৩৫ বিমান চালনায় তুরস্কের পাইলটদের প্রশিক্ষণ বন্ধ করে দিয়েছে আমেরিকা।এস-৪০০ কেনার জন্য তুর্কি পাইলটদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ওয়াশিংটন।

পেন্টাগনের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইক অ্যান্ড্রু বলেছেন, তুর্কি পাইলটরা এখন আর অ্যারিজোনার বিমানঘাঁটিতে এফ-৩৫ বিমান চালানোর প্রশিক্ষণ পাচ্ছেন না।তুরস্ক রাশিয়া থেকে এস-৪০০ কেনার চুক্তি বাতিল না করা পর্যন্ত আমেরিকা এ নীতি অনুসরণ করতে থাকবে।

এর আগে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান বলেছেন,‘এস-৪০০ কেনার জন্য মস্কোর সঙ্গে করা চুক্তি একটি ‘সম্পন্ন চুক্তি’।এস-৪০০ কেনা নিয়ে আমেরিকার পক্ষ থেকে যে হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছিলো তার জবাবে এরদোগান এসব কথা বলেন। তিনি বলেনে,‘তুরস্ক এরই মধ্যে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনে ফেলেছে।আগামী মাসের মধ্যে এটি তুরস্কের কাছে হস্তান্তর করবে রাশিয়া।

এর আগে আমেরিকা রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পরিকল্পনা বাতিল করার জন্য তুরস্ককে চলতি বছরের জুলাই মাস পর্যন্ত সময় বেধে দিয়েছিলো আমেরিকা। এ সময়ের মধ্যে এটি বাতিল করতে ব্যর্থ হলে আঙ্কারাকে এফ-৩৫ জঙ্গিবিমান দেবে না বলে হুমকি দিয়েছিলো ওয়াশিংটন।

রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০তে সর্বাধুনিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম স্থাপন করা রয়েছে, যা ইতিপূর্বে পশ্চিমা বিশ্ব কোনো দেশকে দিতে পারেনি। এস-৪০০’র রাডার, সেন্সর এবং মিসাইল একটি বিরাট এরিয়ায় প্রভাব বিস্তার করতে পারে। এর রাডারে ক্ষমতা প্রায় ৬০০ কিলোমিটার আর মিসাইলের ক্ষমতা ৪০০ কিলোমিটার পর্যন্ত।

এই ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থায় একত্রে একাধিক লক্ষ্যে নজর রাখতে পারে। এছাড়া এটি এক মিনিটের মধ্যেই স্থান পরিবর্তন করতে পারে। এটা এমনি একটি সিস্টেম যা একের মধ্যে সব রয়েছে। এটি একত্রে দূরবর্তী, মধ্যবর্তী বা নিকটবর্তী লক্ষ্য নির্ধারণ করতে পারে। এটি নির্ভর করে এর ব্যবহারের ওপর। এস-৪০০ যে কোনো দেশের জন্য উপযোগী। এই সিস্টেমটি স্থানান্তর বা চলাচলের জন্য যেমন কোনো জটিলতা নেই।

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে