এবার সরকারি খরচে হজ্বে যাচ্ছেন হেফাজতের ৫৫ শীর্ষ আলেম !

হাজীদের ধর্মীয় পরামর্শক হিসেবে সরকারি খরচে সৌদি আরব যাচ্ছেন হেফাজতের ৫৫ জন শীর্ষ আলেম। সৌদি আরবে বাংলাদেশি হজযাত্রীদের হজ পালনে ধর্মীয় পরামর্শ দিতে ধর্ম মন্ত্রণালয় গঠিত ওলামা মাশায়েখ টিমের সদস্যও তারা। রাষ্ট্রীয় খরচে যাওয়া এই হজযাত্রীদের প্যাকেজের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও দেয়া হবে।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব শিব্বির আহমদ উছমানি স্বাক্ষরিত এ প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়। এরমধ্যে চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ জন ও গোপালগঞ্জ জেলার ১১ জন আলেম রয়েছেন। ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট ওলামা মাশায়েখদের এ দলে রয়েছেন হেফাজতে ইসলামের আমির শাহ আহমদ শফীর ছেলে মাওলানা আনাস মাদানীসহ হেফাজতের শীর্ষ ও বয়োবৃদ্ধ নেতারা।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, আগামী ৪ ও ৫ আগস্টের হজ ফ্লাইটে ওলামা মাশায়েখদের দলটি সৌদি আরব যাবেন। ২৩ আগস্ট তারা দেশে ফিরে আসবেন। এটি রাষ্ট্রীয় খরচে হজ সফর হিসেবে গণ্য হবে। তাদের ভ্রমণ ব্যয়, এ বছর ধর্ম মন্ত্রণালয়ের ‘বাংলাদেশের বাহিরে হজ বাবদ ব্যয়’ খাতে বরাদ্দ রাখা অর্থ থেকে বহন করা হবে।

পরামর্শদাতা হিসেবে তালিকায় থাকা আলেমরা হলেন, ৫৫ সদস্যবিশিষ্ট ওলামা মাশায়েখ টিমের তালিকায় প্রথমেই আছেন হেফাজত নেতা ও আল হাইয়াতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমিয়্যা’র কো-চেয়ারম্যান মাওলানা আশরাফ আলী, পটিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা আব্দুল হালিম বোখারী, গওহরডাঙ্গা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা রুহুল আমীন ও তার ছেলে মাওলানা ওসামা আমিন,

ঢাকার গেন্ডারিয়ার মাদরাসা বায়তুল উলুমের প্রিন্সিপাল মাওলানা জাফর আহমাদ, কিশোরগঞ্জের চকমপুর ইসলামিয়া দাখিল মাদরাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা ইয়াকুব আলী খন্দকার, চট্টগ্রামের জিরি মাদরাসার মাওলানা শাহ মো. তৈয়্যব, আহমদ শফীর ছেলে চট্টগ্রাম হাটহাজারী মাদরাসার মুহাদ্দিস মাওলানা আনাস মাদানী, হেফাজত নেতা ও বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার মহাসচিব মাওলানা আব্দুল কুদ্দুস,

শোলাকিয়া ঈদগাহের ইমাম ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ, মাওলানা সালাহউদ্দীন নানুপুরী, চরমোনাই পিরের ভাই ও চরমোনাই কামিল মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মুসাদ্দিক বিল্লাহ মাদানী, পিরোজপুরের শর্ষিনা দারুস সুন্নাত আলিয়া মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ শরাফত আলী, হেফাজত নেতা ও আকবর কমপ্লেক্সের প্রধান মুফতি মাওলানা দিলাওয়ার হুসাইন,

শায়াখ জাকারিয়া ইসলামিক রিসার্স সেন্টার কুড়িলের মুহতামিম মুফতি মীযানুর রহমান সাঈদ, বনশ্রীর দারুল উলুম রামপুরা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা ইয়াহইয়া, মুফতি মোহাম্মদ আলী, জামিয়া কুরআনিয়া লালবাগ মাদরাসার মুফতি মুহাম্মদ ইয়াহইয়া, মাওলানা নিয়ামত উল্লাহ ফরিদী, মাওলানা শামছুল হুদা খান, হেফাজত নেতা ও বড় কাটারা মাদরাসার প্রিন্সিপাল মুফতি সাইফুল ইসলাম, সিলেটের গওহরপুর মাদরাসার প্রিন্সিপাল মাওলানা মোসলেউদ্দীন রাজু,

ইকরা বাংলাদেশের প্রিন্সিপাল মাওলানা সদরুদ্দীন মাকনুন, মাওলানা আবদুর রাজ্জাক, মাওলানা ওসমান গনি, পটিয়া মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা রেজাউল করীম ও মাওলানা আবুল কাশেম ফজলুল হক প্রমুখ।

বিশ্বে প্রথম সুঁই-সুতোয় কুরআন তৈরি করলেন পাকিস্তানি নারী নাসিম আখতার!

বিশ্বে প্রথম সুঁই-সুতোয় তৈরি হলো কুরআন- সুই-সুতোর বুননে বিশ্বের প্রথম হাতে সেলাই করা কুরআনের পাণ্ডুলিপি সম্পন্ন করেছেন পাকিস্তানি নারী নাসিম আখতার। ৩২ বছরের নিরলস চেষ্টায় তিনি এ পাণ্ডুলিপিটি তৈরি সমাপ্ত করেন। অনেক মানুষই ইসলামের জন্য কিছু করতে চান।

ইসলামের প্রতি একান্ত ভালোবাসাই মানুষ অনেক কঠিন কাজ বাস্তবে রূপ দেন। এমনই একটি দুঃসাহসিক কাজ হাতে সেলাই করা কুরআনের পাণ্ডুলিপি। ৩২ বছরের নিরলস প্রচেষ্টায় নসিম আখতার বিশ্বের প্রথম হাতে লিখিত কুরআনের পাণ্ডুলিপিটি তৈরি করেছেন।

ইসলামের জন্য তাঁর প্রচেষ্টা ও ভালবাসায় আজ তিনি বিশ্ব মুসলিমের সামনে সম্মানের আসনে আসীন। নিঃসন্দেহে এটি একটি চমৎকার পরিবেশন। হাতে সেলাই করা এ কুরআনের ওজন ৬০ কেজি। এটি তুলা দিয়ে তৈরি। সোনালী রংয়ের কারুকাজ করে প্রতিটি পৃষ্ঠাকে সুসজ্জিত করা হয়েছে।

কাভারে সিল্কের সুতা দ্বারা সুন্দরভাবে সজ্জিত করা হয়েছে। নাসিম আখতার যখন এই কাজ শুরু করেন তখন তিনি কম বয়সী ছিলেন। ৩২ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমে সুই-সুতোয় কুরআনের পাণ্ডুলিপি তৈরি করে তিনি তার স্বপ্নের বাস্তবায়ন করেন।

কুরআনের অসামান্য পাণ্ডুলিপিটি সুন্দরভাবে সম্পন্ন করতে পেরে সে এক বিশাল মাইল ফলক অর্জন করেছেন। আর এ কাজে তিনি শান্তি ও স্বস্তি বোধ করেন। নাসিম আখতারকে তার অসামান্য কাজের খবর পেয়ে সৌদি আরব তাকে আমন্ত্রণ জানায়।

পবিত্র কুরআনের এ পাণ্ডুলিপিটি তারা সংরক্ষণে দায়িত্ব নেয়। নাসিম আখতারের হাতে লেখা এ পাণ্ডুলিপিটি মসজিদে নববির কুরআর সংরক্ষণ মিউজিয়ামে সংরক্ষণ করা হয়।

মসজিদে নববির ৫নং গেট দিয়ে প্রবেশ করে বাম দিকে গেলেই চোখে পড়বে নাসিম আখতারের হাতে লেখা সুই-সুতোর বুননে পবিত্র কুরআনুল কারিমের তৈরি পাণ্ডুলিপিটি। আল্লাহ তাআলা নাসিক আখতারের এ কাজকে কবুল করুন। আমিন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে