এবার হজ্বে ৭২ দেশের ১৩ হাজার বিশিষ্ট জনকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সৌদি বাদশাহ

এ বছর ৭২টি দেশ থেকে ১৩ হাজার বিশিষ্ট ব্যক্তিকে হজ্বের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ। বাদশাহর পক্ষ থেকে আমন্ত্রিত ব্যক্তিরা সম্পূর্ণ সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থপনায় দেশটির ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়কে এ ব্যবস্থাপনায় হজ্ব পালন করবেন।

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ প্রতিবছর বিভিন্ন দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হজ্বে আমন্ত্রণ জানিয়ে থাকেন। সূত্র: আল আরাবিয়া রোহিঙ্গা মুসলমানদের নাগরিকত্ব দেয়ার ঘোষণা সৌদি বাদশাহর। সৌদি আরবে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলিমদের নাগরিকত্ব দিতে যাচ্ছে সৌদি আরব।

সৌদি বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজের নির্দেশ এই নাগরিকত্ব দেয়া হচ্ছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য ইসলামিক ইনফরমেশন ডটকম। প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ রোহিঙ্গা মুসলিমদের ফ্রি নাগরিত্ব দেয়ার আদেশ দিয়েছেন।

সৌদি আরব সরকার রোহিঙ্গা অভিবাসীদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় কোনো ফ্রি ছাড়াই বিনামূল্যে ইকামাসহ সরবরাহ করবে। বাদশাহ সালমান আরও ঘোষণা করেন যে, মিয়ানমারের ১ মিলিয়ন (১০ লাখ) লোককে ইকামা প্রদান করবে। রোহিঙ্গা মুসলিমদের প্রতি বাদশা সালমানের সহযোগিতা ও সহমর্মিতার জন্য জাতিসংঘ আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন বলেও জানা যায়।

গত ৭০ বছর যাবত অনেক রোহিঙ্গা মুসলিম সৌদি আরবে বসবাস করে আসছে। সৌদি আরবে বসবাসের জন্য সে দেশের নাগরিকসহ সব অভিবাসীরই ইকামা প্রয়োজন হয়। ইকামা ছাড়া কেউ-ই সেখানে বসবাস করতে পারে না। সৌদি আরবে বসবাসরত রোহিঙ্গা মুসলিমরা বিনামূল্যে ইকামা লাভে সৌদি বাদশাহর এ সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেন।

এ ছাড়াও সৌদি আরব বিনামূল্যে রোহিঙ্গা মুসলিমদের শিক্ষার ব্যবস্থার উদ্যোগও গ্রহণ করছে বলে জানা যায়। রোহিঙ্গা মুসলিমদের দেয়া ইকামায় তারা সৌদি আরবের নাগরিকদের মতোই চিকিৎসা ও আবাসন সুযোগ-সুবিধা লাভ করবে বলে জানা যায়।

ব্রিটেনজুড়ে মসজিদে মসজিদে অমুসলিমদের ভিড়

ব্রিটেন জুড়ে মুসলমানদের প্রতি ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের অহেতুক আতঙ্ক দূর করতে এবং ইসলাম সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা দিতে শুরু হয়েছে অভিনব এক কর্মসূচি।

‘আমাদের মসজিদে আসুন’ (Visit my mosque) শিরোনামে বেশকিছু মসজিদ অমুসলিমদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। রোববার থেকে অমুসলিমদের জন্য এসব মসজিদ খুলে দেওয়া হয়।

ইতোমধ্যে লন্ডন, বার্মিংহাম, ম্যানচেস্টার, লিডস, গ্লাসগো, কার্ডিফ, বেলফাস্ট, প্লাইমাউথ এবং ক্যানটারবেরীর অনেক মসজিদ অমুসলিমদের জন্য খুলে দেওয়া হয়েছে। মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেনের (এসসিবি) উদ্যোগে মসজিদগুলো সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হলো।

এই কর্মসূচির ফলে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা মসজিদে এসে ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে জানা ও অালোচনা করার সুযোগ পাচ্ছে। আগতদের আপ্যায়নও করা হচ্ছে। সেই সঙ্গে তারা পেয়ে যাচ্ছেন নিজেদের উত্থাপিত বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর। এ উপলক্ষে বিভিন্ন মসজিদে চিত্র প্রদশর্নী ও আলোচনা সভারও আয়োজন করা হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই কর্মসূচি ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। প্রচুর মানুষ আগ্রহভরে মসজিদে আসছেন। পরে তাদের অভিজ্ঞতা #VisitMyMosque হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করে অন্যদের সঙ্গে শেয়ারও করছেন। অন ইসলামের খবরে কিছু মন্তব্য উল্লেখ করা হয়।

সেগুলো ছিল অনেকটা এমন- ইস্ট লন্ডন মসজিদ পরিদর্শনকারী অ্যালেক্স লিখেছেন, তার সফর ‘উৎফুল্ল’ ছিল। সে মুগ্ধ মুসলিমদের ব্যবহারে। ক্রিস নামের অপরজন বলেছেন, বেশ ‘আকর্ষণীয়’ হয়েছে তার মসজিদ গমন।

ইসাবেলা নামের এক তরুণী লিখেছেন, তাদের ‘উষ্ণ অভ্যর্থনা’র জন্য এডিনবরা কেন্দ্রীয় মসজিদ কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ। অ্যালিসন তার এলাকার স্থানীয় মসজিদ, আয়েশা মসজিদে যান। ২০ বছরে এবারই প্রথম কোনো মুসলিমের সঙ্গে তিনি কথা বলেছেন বলে জানান।

তার ভাষায়, ‘আমি বেশ আড়ষ্ট ছিলাম। কিন্তু তাদের ব্যবহার ও আন্তরিকতায় আমি স্বাভাবিক হয়ে যাই সহজেই। বিশ্বাস করুন, আমি এই প্রথম আরবি লেখা ছুঁয়ে দেখলাম। ওরা আমাকে কোনো বাঁধাই দিলো না!’ এভাবেই লন্ডন সেন্ট্রাল মসজিদে বিভিন্ন ধর্মের লোক ভিড় করেছেন।

নিউক্যাসল কেন্দ্রীয় মসজিদে অনেক রাজনৈতিক নেতা এসেছেন। শুভেচ্ছা বিনিময় করেছেন। আগ্রহীদের ভিড় দেখা গেছে ম্যানচেস্টার রোড মসজিদ, দারুল উম্মাহ মসজিদ, পশ্চিম লন্ডনের ইসলামিক সেন্টারসহ অন্য মসজিদগুলোতেও। গত বছরও অমুসলিমদের পরিদর্শনের জন্য ২০টি মসজিদ খুলে দেওয়া হয়েছিল।

সেদেশের অমুসলিমরা এদিনে মসজিদে এসে মসজিদ পরিদর্শন করেছেন এবং ইসলাম ধর্ম ও মুসলমানদের সম্পর্কে সঠিক তথ্য সংগ্রহ করেছেন। মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেন এ ব্যাপারে জানিয়েছে, অমুসলিমদের সঙ্গে মুসলমানদের সম্পর্ক স্থাপন, ইসলামের বিশ্বাস,

মুসলিম সংস্কৃতিকে পরিচয় করানো এবং ইসলাম ধর্ম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা দূর করার উদ্দেশ্য এ কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। কাউন্সিল আরও জানিয়েছে, স্থানীয় মসজিদে বিভিন্ন ধর্মের নেতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। যে কোনো ধর্মাবলম্বী এবং যে কোনো বিশ্বাসের মানুষই মসজিদে প্রবেশের অনুমতি পাবে। সেখানে যে কোনো প্রশ্ন করার জন্য তাদেরকে সাদরে আমন্ত্রণ জানানো হবে।

তারা মসজিদ ঘুরে দেখতে পারবে এবং চাইলে সেখানে প্রার্থনাও করতে পারবে। উল্লেখ্য, ব্রিটেনে কমপক্ষে ৩০ লাখ মুসলমান বাস করেন। এদের মধ্যে অর্ধেক ব্রিটিশ মুসলিমের জন্ম হয়েছে যুক্তরাজ্যে।

বিমানবন্দর থেকেই ব্রিটিশ গায়িকাকে ফেরত পাঠাল ইরান

বিমানবন্দর থেকেই এক ব্রিটিশ গায়িকাকে ফেরত পাঠিয়েছে ইরান।
জোস স্টোন নামের ওই ব্রিটিশ গায়িকা দাবি করেছেন, ইরান সরকার তাকে দেশটিতে প্রবেশ করতে না দিয়ে ফেরত পাঠিয়েছে। পাশাপাশি ইরানের বিমানবন্দরে আটকে রাখার অভিযোগও করেছেন তিনি।

খবর দ্য টেলিগ্রাফের।
বৃহস্পতিবার ইনস্টাগ্রামে দেয়া এক পোস্টে ব্রিটিশ গায়িকা জোস স্টোন জানান, বিশ্ব ভ্রমণের অংশ হিসেবে অন্যান্য দেশের মতোই তিনি ইরান গিয়েছিলেন। তবে দেশটিতে অবস্থানকালে তিনি প্রকাশ্য স্থানে কনসার্ট আয়োজন করতে পারেন; এমন আশংকায় বিমানবন্দরে তাকে আটকে দেয়া হয়।

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডের জন্য মনোনীত ব্রিটিশ এ গায়িকার দাবি, তিনি জানতেন যে ইরানে নারীদের একক কনসার্টের অনুমতি দেয়া হয় না। তিনি শুধু দেশটি ঘুরে দেখতে চেয়েছিলেন।
৩ জুলাই ইনস্টাগ্রামে একটি ভিডিও পোস্ট করেন জোস স্টোন। মাথায় সাদা স্কার্ফ পরিহিত ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, আমি ইরানে গিয়েছিলাম, সেখানে আমাকে আটক করা হলে আমি ফিরে আসি।

তবে জোস স্টোনকে বিমানবন্দরে আটকে রাখার বিষয়টি অস্বীকার করেছে ইরান। পুলিশকে উদ্ধৃত করে ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, তার প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং এন্ট্রি পারমিট ছিল না।
৩২ বছর বয়সী ওই গায়িকা ইরানে কীপরিকল্পনায় গিয়েছিলেন তা স্পষ্টছিল না বলেও জানায় দেশটির পুলিশ।

বিশ্ব ভ্রমণের অংশ হিসেবে ২০১৪ সাল থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঘুরে বেড়াচ্ছেন জোস স্টোন। প্রতিটি দেশেই স্থানীয় শিল্পীদের সঙ্গে নানা আয়োজনে অংশ নেন তিনি।

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে