মায়ের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পেলেন মেহবুবা মুফতির মেয়ে !

0

মায়ের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি পেলেন কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির মেয়ে সানা ইলতিজা জাভেদ। বৃহস্পতিবার (৫ সেপ্টেম্বর) আদালতে এক পিটিশনের জবাবে সুপ্রিমকোর্ট তাকে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দেন। ওই পিটিশনে সানা ইলতিজা জানান, মা মেহবুবা মুফতির স্বাস্থ্য নিয়ে বেশ উদ্বিগ্ন তিনি। দীর্ঘ এক মাস মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না।

মেহবুবা মুফতি কেমন আছেন, কীভাবে নিজের স্বাস্থ্যের যত্ন নিচ্ছেন তার কিছুই জানতে পারছেন না তিনি। এ জন্য উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তার। আদালতে কাছে মেহবুবা মুফতির মেয়ে বলেন, আমি শ্রীনগরে যেতে চাই এবং মায়ের সঙ্গে আলাদাভাবে দেখা করতে চাই। প্রশাসন থেকে সেই অনুমতিও পেয়েছেন বলে জানান তিনি। এর পরেই আদালত তাকে তার মায়ের সঙ্গে দেখা করার অনুমতি দিয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ৫ আগস্ট ভারত সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপের পর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে ভারতনিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরজুড়ে। বিক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা জম্মু-কাশ্মীর। বিশেষ মর্যাদা তুলে নেয়ার প্রতিবাদে রাস্তায় নেমে আসেন লাখো কাশ্মীরি। বিক্ষোভ বানচাল করতে অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনসহ ১৪৪ ধারা জারি করে ভারত সরকার।

এরই মধ্যে সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিসহ অনেক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করা হয়। তার পর থেকেই মায়ের সঙ্গে দেখা করতে পারছেন না সানা ইলতিজা। এর আগে গত মাসের শুরুর দিকে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে চিঠি লিখে কাশ্মীরে নাগরিকদের পরিস্থিতির কথা জানিয়েছিলেন সানা ইলতিজা। সেই চিঠিতে কাশ্মীরকে পশুর খাঁচার মতো বানিয়ে সেখানকার মানুষকে মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

কাশ্মীর ইস্যুতে কথা বললে তাকে ‘ভয়াবহ পরিণতি’র হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছিলেন সানা। তিনি অমিত শাহকে আরও জানিয়েছিলেন, তাদের কোনো স্বাধীনতা দেয়া হচ্ছে না। এমনকি তারা স্বাভাবিকভাবে চলাফেরারও অনুমতি পাচ্ছেন না।

হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন মুরসীর ছেলে আব্দুল্লাহ

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট শহীদ মুহাম্মাদ মুরসীর ছোটছেলে আব্দুল্লাহ মুরসী হার্ট অ্যাটাক করে মারা গেছেন। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন। বুধবার (৪ সেপ্টেম্বর) হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করে তিনি কায়রোর হাসপাতালে ইন্তেকাল করেছেন বলে পরিবারের সূত্র দিয়ে নিশ্চিত করেছে আনাদোলু এজেন্সি।

তার ভাই আহমেদ মুরসী জানান, সে তার বন্ধুর সাথে কায়রোতে গাড়ি চালাচ্ছিলেন করছিলেন। হঠাৎ তিনি অস্বস্তি অনুভব করলে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়। মুহাম্মাদ মুরসীর ৪ ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে আব্দুল্লাহ মুরসী সবচেয়ে ছোট।

তিনি মিশরের রাজধানী কায়রোতে জন্ম গ্রহণ করেন। উল্লেখ্য, মুহাম্মাদ মুরসী ইসলামী সংগঠন মুসলিম ব্রাদারহুডের প্রথম সারির নেতা ছিলেন। ২০১২ সালে ব্রাদারহুডের প্রার্থী হিসেবে তিনি জনগণের ভোটের মাধ্যমে মিসরের প্রথম নির্বাচিত প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ক্ষমতা গ্রহণের এক বছরের মাথায় ২০১৩ সালে, তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইহুদিবাদী ইসরাইলের দোষর আবদেল ফাত্তাহ আল সিসির নেতৃত্বে এক রক্তক্ষয়ী সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অবৈধভাবে মুহাম্মাদ মুরসীকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। ক্ষমতাচ্যুত করার পর মুরসীকে কারাবন্দি করে পশ্চিমাদের সমর্থন পাওয়া সিসির সরকার।

এরপর রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তিসহ তথাকথিত বিভিন্ন অভিযোগে বিচারের মুখোমুখি করা হয় তাকে। মৃত্যুর আগ থেকেই বিভিন্ন মহল থেকে জানানো হয়েছিল কারাগারে মুরসির শারীরিক অবস্থা মোটেও ভালো নয়, কারাগারে তার মৃত্যুও হতে পারে। ডায়াবেটিস আক্রান্ত মুরসীকে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে না বলে পরিবারের সদস্যদের পক্ষ থেকেও দাবি করা হয়েছিল।

ব্রিটিশ রাজনীতিক ও আইনজীবীদের একটি প্যানেল এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার ফলে মুরসীর শারীরিক অবস্থা যে পর্যায়ে পৌঁছেছে, তাতে তিনি অকালে মারা যেতে পারেন। তবে এসব বক্তব্যকে মোটেও গুরুত্ব দেয়নি মিশরের বর্তমান সরকার। মুসলিম ব্রাদারহুড এবং তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সাবেক প্রেসিডেন্ট মুরসীর মৃত্যুতে মিসরের স্বৈরশাসক আব্দেল ফাত্তাহ সিসি’কে দায়ী করেছেন।