বিধর্মীদের হাজার বাঁধার মুখেও সারা বিশ্বে দিন দিন ইসলামের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ছে !

0

ইসলাম প্রকৃতির ধর্ম। এর প্রতিটি বিধান প্রকৃতিসম্মত ও মানুষের স্বভাববান্ধব। প্রথমে ঈমান নিয়ে বললে বলতে হয়, মানুষ মাত্রই বিশ্বাসের শক্তি চায়। নির্ভর করতে চায়। আস্থা রাখতে চায়। নিজের দুঃখ, কষ্ট দুর্বলতা, অসহায়ত্ব থেকে রক্ষার জন্য মানসিক বল আশা করে। নিজের সব অক্ষমতা উতরে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত একটি ভরসা চায়।

নিজের মনের আকুতি, নৈবেদ্য, ভক্তি অর্পণের জন্য একটি পরম শক্তি চায়। এসব মানুষের স্বভাব। মানুষের সৃষ্টি ও গঠনও এমন চাহিদাকে সাপোর্ট করে। যে চাহিদা বা নিবেদন আল্লাহ পূরণ করেছেন। তিনি নিজেকে অনন্ত গুণের অধিকারী অসংখ্য নামের অধিকারী পরম ক্ষমতাধর ও অপার করুণাময় রূপে পরিচিত করিয়েছেন। মানুষের সব বিনয় ও বন্দেগী যেন শুধু তারই উদ্দেশে নিবেদিত হয়, এ বিধানও জারি করেছেন।

বলেছেন, মানুষ তোমরা বল ‘হে আল্লাহ, আমরা শুধু তোমারই ইবাদত করি। আর কেবল তোমারই সাহায্য প্রার্থনা করি।’ আল্লাহর সাথে আর কারও তুলনা হয় না। উপমা হয় না। তার কোনো শরীক নেই। সমকক্ষ নেই। তিনি এক একক ও অদ্বিতীয়। এ বিশ্বাসের নাম ঈমান। এর পাশাপাশি আল্লাহর রাসূলগণ, আসমানি সব কিতাব, আল্লাহর ফেরেশতা, পরকাল,

ভাগ্যের ভালো মন্দ আল্লাহর হুকুমেই হয় এবং মৃত্যুর পর মানুষের পুনরুত্থান ইত্যাদিও ঈমানের অংশ। এ ঈমান বা বিশ্বাস মানুষকে তার জীবনযুদ্ধে সফল হতে দারুণভাবে সাহায্য করে। যার বিশ্বাস নেই, সে মানসিকভাবে দুর্বল মানুষ। আধ্যাত্মিকভাবে মৃত মানুষ। তার প্রকাশ্য শক্তি সামর্থ থাকলেও এ শক্তি জৈবিক ও পাশবিক। মানবিক শক্তির জন্য ঈমান অপরিহার্য।

ফেরেশতাসুলভ সৌজন্য আসে ঈমান থেকেই। বর্তমানে পৃথিবীর জ্ঞানী-গুণিরা মানুষের পূর্ণতার জন্য ঈমানকে অপরিহার্য মনে করছেন।

উগ্রবাদী হিন্দুদের থেকে মুসলিম তরুণকে বাঁচিয়ে বিপদে শিখ পুলিশ !

গগনদীপ সিং উগ্রবাদী হিন্দুদের থেকে মুসলিম তরুণকে বাঁচিয়ে বিপদে শিখ পুলিশ। ছবি – সংগৃহীত ভারতে জনতার হাতে পিটুনি থেকে এক মুসলিম যুবককে রক্ষা করেছিলেন এক ভারতীয় পুলিশ কর্মকর্তা।

কিন্তু এজন্যে এখন তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় রাজ্য উত্তরাখন্ডের পুলিশ কর্মকর্তা গগনদীপ সিং যখন এক মুসলিমকে উন্মত্ত হিন্দু জনতার কবল থেকে উদ্ধার করেন, তখন সেই ঘটনার ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছিল সোশ্যাল মিডিয়ায়। এটি তাকে রাতারাতি খ্যাতিও এনে দিয়েছিল।

সেই মুসলিম যুবক তার হিন্দু বান্ধবীকে নিয়ে যখন একটি মন্দিরে যান, তখন তার ওপর হামলা চালানো হয়েছিল। মন্দিরের হিন্দু জনতা তাকে ঘিরে ফেলে এবং মারধোর করার চেষ্টা চালায় এই বলে যে, সে ‘লাভ জিহাদ’ এর চেষ্টা করছে। ভারতে যখন কোন মুসলিম কোন হিন্দু নারীর সঙ্গে প্রেম করে বা বিয়ে করার চেষ্টা করে, তখন কট্টরপন্থী হিন্দু গোষ্ঠীগুলো তাকে ‘লাভ জিহাদ’ বলে বর্ণনা করছে ইদানিং।

হিন্দু গোষ্ঠীগুলো দাবি করছে মুসলিম পুরুষরা ষড়যন্ত্র করে হিন্দু নারীদের বিয়ে করে বা প্রেম করে ধর্মান্তরিত করার চেষ্টা করছে। সেদিনের ঐ ঘটনায় মুসলিম পুরুষটিকে রক্ষায় এগিয়ে এসেছিলেন পুলিশ কর্মকর্তা গগনদীপ সিং। সোশ্যাল মিডিয়ায় তখন তার সাহসী ভূমিকার জন্য ব্যাপক প্রশংসা করেছিলেন অনেকে। অনেক পত্রিকায় ছাপা হয়েছিল তার সাহসী ভূমিকার কথা এবং সেই ঘটনার ছবি।

গগনদীপ সিং তখন বলেছিলেন, তিনি কেবল তার দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, যদি সেসময় তিনি ইউনিফর্ম পরা অবস্থাতেও না থাকতেন, তারপরও তিনি সেই কাজটাই করতেন। কিন্তু গগনদীপ সিং এখন উল্টোদিক থেকে সমালোচনার সম্মুখীন হচ্ছেন। তাকে হত্যার হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ কারণে আপাতত গগনদীপ সিংকে ছুটিতে পাঠানো হয়েছে।

অনেক রাজনীতিক এমনকী সেদিন উন্মত্ত জনতা যে আচরণ করেছে, তারও সাফাই গাইতে শুরু করেছে। বিজেপির একজন এমএলএ রাকেশ নৈনওয়াল এমনকী এমন মন্তব্যও করেছেন যে ‘এই মুসলিম পুরুষরা তাদের হিন্দু বান্ধবীদেরকে আমাদের মন্দিরে নিয়ে আসে, সেটা ঠিক নয়। তারা তো জানে যে এটা মন্দির এবং পবিত্র জায়গা।’

আরেক বিজেপি এমএলএ রাজকুমার ঠাকরাল বলেছেন, ‘এই মুসলিম পুরুষটি আসলে হিন্দু সমাজের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেয়ার চেষ্টা করছিল। আমরা তো মসজিদে যাই না, কারণ সেখানে আমাদের যাওয়ার অধিকার নেই। এরা কেন আমাদের হিন্দুদের সংস্কৃতি ধ্বংস করার জন্য আমাদের মন্দিরে যায়?’ তবে যে রামনগর জেলায় এই ঘটনা ঘটেছিল সেখানকার মানুষ এ ঘটনায় বিরক্ত।

যখন একটা ছেলে আর একটা মেয়ে একসঙ্গে কোথাও যায়, সেটা তাদের ব্যাপার। কীভাবে এসব লোকজন এটাকে ‘লাভ জিহাদ’ বলে তাদের ওপর হামলা চালায়! প্রশ্ন তুলেছেন রামনগরের একজন বাসিন্দা অজিত সাহনি। আরো দেখুন: ভারতে মুসলমানদের অনেকেই অচ্ছুত ‘অস্পৃশ্যতা দাসত্বের চেয়ে খারাপ’ বলেছেন ভারতীয় দলিত সম্প্রদায়ের অবিসংবাদিত নেতা ড. ভিমরাও আম্বেদকর।

হিন্দু বর্ণভেদ প্রথার কারণে ভারতে দলিতদেরকে সমাজের একেবারে ‘নীচু জাত’ হিসেবে বিবেচনা করে অত্যন্ত ঘৃণা ও উপেক্ষার চোখে দেখা হয়। কিন্তু কেবল হিন্দু সম্প্রদায়েই নয়, ভারতীয় মুসলমানদের মধ্যেও যে ‘অস্পৃশ্য’ বা ‘দলিত’ মুসলিম আছে— সেই তথ্যই উঠে এসেছে দেশটিতে পরিচালিত সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। ভারতে বর্তমানে প্রায় ১৪ কোটি মুসলিম নাগরিক আছে। এদের একটা বিরাট অংশই হিন্দু থেকে ধর্মান্তরিত।

মনে করা হয়, হিন্দু জাত-পাত প্রথার নিগ্রহ থেকে রক্ষা পেতেই নিম্নবর্ণের হিন্দুদের এই ধর্ম বদল। সাধারণত, ইসলাম সকল মানুষের সমতার কথা বলে। আর মুসলিমদের ধর্মগ্রন্থেও বর্ণভেদ প্রথার কোনো উল্লেখ নেই। তাই, সামাজিক-চর্চায় অস্পৃশ্যতার বিষয়টি বিরাজমান থাকলেও এর বিরুদ্ধে মুসলিম সমাজ তেমন উচ্চ-বাচ্য নেই। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে কথা বলার সময় এসেছে বলেই মনে করছেন গবেষকেরা।

গবেষক প্রশান্ত কে ত্রিবেদী, শ্রীনিবাস গোলি, ফাহিমুদ্দিন ও সুরিন্দর কুমার মিলে ভারতের ১৪টি জেলার মোট সাত হাজারের বেশি বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। ২০১৪ এর অক্টোবর থেকে ২০১৫ এর এপ্রিল পর্যন্ত ভারতের উত্তর প্রদেশে চলে এই গবেষণার তথ্য সংগ্রহ।গবেষণায় যা উঠে এসেছে: এলাকার ধনী প্রতিবেশীদের বাড়িতে কোনো বিয়ে-সাদীর অনুষ্ঠানে দলিত মুসলিমদের নিমন্ত্রণ করা হয় না। কোনো সামাজিক অনুষ্ঠানে দলিত মুসলিমদের নিমন্ত্রণ করা হলেও তাদেরকে বসানো হয় আলাদা এবং তাদেরকে খাবার পরিবেশন করা হয় উচ্চবর্ণের মুসলিমদের খাওয়া শেষে।

এমনকি কোনো-কোনো জায়গায় দলিত মুসলিমদেরকে ভিন্ন ধরণের প্লেটে খাবার পরিবেশন করা হয় বলেও উল্লেখ করেছেন গবেষণায় অংশ নেয়া অনেক দলিত। অনেকে মনে করেন, দলিত মুসলিম এবং খ্রিষ্টানদের জন্য কিছু পদক্ষেপ নেয়া জরুরী। গবেষণায় অংশ নেয়াদের মধ্যে অন্তত ৮ ভাগ দলিত মুসলিম জানিয়েছেন যে, তাদের শিশু সন্তানদেরকেও উচ্চবর্ণের শিশুদের চেয়ে আলাদা সারিতে বসানো হয়। এমনকি স্কুলেও দুপুরের খাবার গ্রহণের সময় তাদের সন্তানেরা আলাদা সারিতেই বসে। উচ্চবর্ণের মুসলিমদের জন্য যে গোরস্থান রয়েছে সেখানে দলিতদের সাধারণত কবর দিতে দেয়া হয় না বলে উঠে এসেছে এই গবেষণায়। তাদের জন্য রয়েছে আলাদা কবরস্থান।

আর যদি কোনো দলিত কাউকে উচ্চবর্ণের কবরস্থানে গোর দেয়া হয় তবে সেই লাশের জায়গা হয় একেবারে কোনো একটা কোণায়। বেশিরভাগ মুসলিম একই মসজিদে নামাজ আদায় করলেও দলিত মুসলিমদের অনেকেই বলছেন যে তারা প্রায় সময়ই বোধ করেন তাদের প্রতি অন্যদের এক ধরণের উপেক্ষা বা বৈষম্য। সাধারণত নিচু জাতের সব কাজ করাই দলিত মুসলিমদের কাজ বলেও মনে করা হয়। গবেষণায় অংশ নেয়া অন্তত ১৩ ভাগ দলিত মুসলিম জানিয়েছে যে,

উচ্চ বর্ণের কোনো মুসলমানের বাড়িতে যদি তাদেরকে খাবার বা পানি দেয়া হয় তাহলে তা পরিবেশন করা হয় ভিন্ন পাত্রে। এছাড়া মুসলিম দলিতদেরকে ভিন্ন পাত্রে খাবার ও পানি পরিবেশন করার প্রবণতা হিন্দুদের মধ্যে আরো প্রকট।