কাশ্মীর পরিস্থিতি সম্পর্কে অমিত শাহর উচিৎ সত্য কথা বলা : ওয়াইসি

0

ভারতের মজলিশ-ই-ইত্তেহাদুল মুসলেমিন বা ‘মিম’ প্রধান ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি বলেছেন, কাশ্মীর পরিস্থিতি সম্পর্কে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উচিত সত্য কথা বলা। সোমবার হায়দ্রাবাদে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই মন্তব্য করেন তিনি। খবর পার্সটুডে’র। রোববার ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দাবি করেন, কাশ্মীরে কোনও বিধিনিষেধ নেই।

এপ্রসঙ্গে তিনি বিরোধীদের সমালোচনা করে বলেন, নিষেধাজ্ঞা কোথায়? এটি কেবল আপনাদের মনের মধ্যে আছে। কোনও বিধিনিষেধ নেই। কেবল অপপ্রচার করা হচ্ছে।’ আসাদউদ্দিন ওয়াইসি আজ সেই প্রসঙ্গে ওই মন্তব্য করেছেন। ওয়াইসি বলেন, ‘অমিত শাহ সাহেব ভুল কথা বলছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার সুবাদে তাঁর ভুল বলা উচিত নয়।

সত্যি কথা বলা উচিত। এবং সত্যি এটাই যে, কংগ্রেসের নেতা গুলাম নবী আজাদ যিনি জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, তাঁকে দু’বার রাজ্যে যেতে বাধা দেয়া হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিয়ে তাঁকে সেখানে যেতে হয়েছে। সুপ্রিম কোর্ট বলেছিল রাজনৈতিক কোনও কথা না বলার জন্য। রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহেবুবা মুফতির মেয়েকে সুপ্রিম কোর্ট থেকে অনুমতি নিতে হয়েছিল।

সিপিএমের মহাসচিব সীতারাম ইয়েচুরিকে তাঁর দলীয় অসুস্থ এক বিধায়ককে চিকিৎসার জন্য আনতে সুপ্রিম কোর্টের অনুমতি নিতে হয়েছে। সুতরাং, যেসব কথা উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) বলছেন, তা সত্যি কথা বলছেন না। সংসদে উনি ভুল বলেছিলেন যে, ফারুক আব্দুল্লাহ মুক্ত আছেন। কিন্তু ঘটনা এটাই যে ফারুক আব্দুল্লাহকে জননিরাপত্তা আইনে আটক রাখা হয়েছে।’

কাশ্মীরে নিষেধাজ্ঞা নেই বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ যে মন্তব্য করেছেন সেই প্রসঙ্গে ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি বলেন, ‘যদি উনি সত্যি কথা বলেন তাহলে কাশ্মীরে অঘোষিত জরুরি অবস্থা কেন? সেখানকার আপেল বিক্রেতারা কি আপেল বিক্রি করতে চাচ্ছেন না? কেন সেখানে স্কুল খুলছে না। উনি (স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী) যেটা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা মনে রয়েছে।

যদি সেটা সত্যি হয় তাহলে সেল ফোনকে কেন খুলে দেয়া হচ্ছে না? কে আপনাকে বাধা দিচ্ছে?’ যদি উনি ভাবেন এভাবে ভুল কথা বললেও সবাই সত্যি বলে মনে করবে তা ঠিক নয়। মানুষ তা সত্যি মনে করবে না বলেও ব্যারিস্টার আসাদউদ্দিন ওয়াইসি এমপি মন্তব্য করেন

এবার সহযোগিতার হাত বাড়াতে আগামী মাসেই পাকিস্তানে যাচ্ছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট এরদোগান !

সহযোগিতা বাড়াতে আগামী মাসেই পাকিস্তান সফরে আসছেন মুসলিম বিশ্বের প্রভাবশালী নেতা তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে তার পাকিস্তান সফরের কথা রয়েছে।

এরদোগানের এ সফরের এজেন্ডায় কাশ্মীর, আফগানিস্তান ইস্যুর পাশাপাশি দ্বি-পাক্ষিক বানিজ্যিক চুক্তি রয়েছে বলেও জানিয়েছে পাকিস্তানের দ্য ন্যশন ইন্টারন্যাশনাল। তুর্কি প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগান জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে কাশ্মীরের বিষয়টি সবচেয়ে জোরালোভাবে উত্থাপন করেছিলেন এবং তার আসন্ন পাকিস্তান সফরে কাশ্মীরের বিষয়ে আরও আলোচনা হবে।

তুর্কি প্রেসিডেন্টের এ সফরে দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সহযোগিতার জন্য একটি বিস্তৃত কৌশলগত অর্থনৈতিক কাঠামো (এসইএফ) এবং প্ল্যান অব অ্যাকশন (পিওএ) নথি স্বাক্ষরিত হবে বলে জানা গেছে।

পশ্চিমাদের বুঝতে হবে যে রাসুল (সাঃ)-কে অবমাননা করলে আমাদের হৃদয়ে আঘাত লাগে : ইমরান খান

বার বার ইসলাম ও মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের অবমাননা করা পশ্চিমা বিশ্বের কঠোর সমালোচনা করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গত শুক্রবার (২৭ সেপ্টেম্বর) নিউ ইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে দেয়া ভাষণে তিনি বলেন, একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার সবাইকে বুঝতে হবে যে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের হৃদয়ে সমাসীন।

যখন তাকে অবমাননা করা হয়, তখন আমাদের হৃদয়ে আঘাত লাগে। আর প্রত্যেক ব্যক্তিই জানেন হৃদয়ের আঘাত খুবই ভয়ানক। তাই যখন রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননা করা হয় তখন মুসলিমরা প্রতিক্রিয়া দেখায়, কিন্তু পশ্চিমারা এটা বুঝতে পারে না। তিনি বলেন, আমি কিশোর বয়সে ইংল্যান্ড থাকতে দেখেছি যীশু খৃস্টকে নিয়ে কমেডি ছবি নির্মাণ করতে।

এটা আমাদের মুসলিম সমাজে অকল্পনীয় বিষয়। যে সকল বিষয় অন্য মানুষদের হৃদয়ে আঘাত করে সেসব আমাদের অবশ্যই পরিহার করতে হবে। পশ্চিমাদের উদ্দেশ্য করে পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমা সমাজে হলোকাস্টকে একটি স্পর্শকাতর ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কারণ, এটি ইহুদী কমিউনিটিকে আঘাত করেছে। আমরাও একই শ্রদ্ধাবোধ প্রত্যাশা করি।

আপনার বাকস্বাধীনতাকে অপব্যবহার করে আমাদের পবিত্র নবীরাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননা করে আমাদের আঘাত করবেন না। তিনি আরো বলেন, বিশ্বে ১৩০ কোটি মুসলমানের বাস। লক্ষ-কোটি মুসলমান ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে সংখ্যালঘু হিসেবে বাস করছে। ৯/১১ এর পর হতে ইসলামোফোবিয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং এটি বিপদজনক। এটি বিভাজন সৃষ্টি করছে।

মুসলিম নারীর হিজাব পরিধান করাকে সমস্যা হিসেবে দেখা হচ্ছে। হিজাবকে দেখা হচ্ছে অস্ত্র হিসেবে। কিছু দেশে নারীর পোশাক খোলার স্বাধীনতা রয়েছে, কিন্তু পোশাক পরিধান করার স্বাধীনতা নেই! এটা কেন ঘটছে? ইসলাম ফোবিয়ার কারণে এমনটা ঘটছে। এটা কখন শুরু হয়েছে? ৯/১১ এর পর ইসলাম ফোবিয়া শুরু হয়েছে। কেন?

কারণ, কিছু পশ্চিমা নেতা সন্ত্রাসবাদ আর ইসলামকে এক করে দেখেন। যেমন : ইসলামি সন্ত্রাসবাদ, মৌলবাদী ইসলাম । মৌলবাদী ইসলাম কী? ইসলাম তো কেবল একটাই। আমরা তো কেবল হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ইসলামের অনুসরণ করি। এছাড়া আর কোন ইসলাম নেই। ইসলামি সন্ত্রাসবাদ ও মৌলবাদী বলে তারা মানু্ষের কাছে কী মেসেজ দিতে চায়?

কিভাবে তারা মডারেট মুসলিম আর মৌলবাদী মুসলিমের মাঝে পার্থক্য করে? সন্ত্রাসের সাথে কোনো ধর্মেরই কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, বিদেশ ভ্রমণ এর সময় আমরা মুসলমানরা ইসলামোফোবিয়ার শিকার হই। ইউরোপিয়ান দেশসমূহে মুসলিম কমিউনিটিকে একঘরে করে রাখার প্রবণতা দেখা হচ্ছে। এসব প্রান্তিকতাই জন্ম দিচ্ছে চরমপন্থার।

আমাদের অবশ্যই এই ইস্যুটি স্পষ্ট করতে হবে। ইসলাম মৌলবাদী নয়, তেমনি ইহুদি, খ্রিস্টান ও হিন্দু ধর্মও মৌলবাদী নয়। কোনো ধর্মইমৌলবাদ প্রচার করে না। সকল ধর্মের ভিত্তি হলো পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ন্যায়পরায়ণতা, যা মানুষকে পশুর থেকে আলাদা করে। তিনি আরো বলেন, দুঃখজনকভাবে মুসলিম নেতারা মৌলবাদ নিয়ে কথা বলতে ভয় পান। কারণ তারা মডারেট হতে চান।

মডারেট হওয়ার জন্য অনেকে পশ্চিমা পোশাক পরেন এবং এমনকি ইংরেজিতে দক্ষতা না থাকা সত্ত্বেও মডারেট হওয়ার জন্য ইংরেজিতে কথা বলেন। আত্মঘাতী হামলাকে ইসলামের সাথে একীভূত করে দেখা হয়, অথচ ৯/১১ এর আগে বিশ্বে সবচেয়ে বেশি আত্মঘাতী হামলা করেছিল তামিল টাইগাররা। তারা হিন্দু। এজন্য কেউ হিন্দু ধর্মকে দোষারোপ করে না। হিন্দু ধর্মের সাথে আত্মঘাতী হামলাকে মিলানো হয় না।

সাবেক এই ক্রিকেট অধিনায়ক বলেন, আমি পশ্চিমে ক্রিকেট খেলেছি, অনেক সময় ব্যয় করেছি এখানে এবং এখানকার মানুষের মনস্তত্ত্ব সম্পর্কে আমার জানা আছে। তাদের মাঝে ইসলাম সম্পর্কে ভুল ধারণা প্রচলিত। এর অন্যতম প্রধান কারণ হচ্ছে ইসলামোফোবিয়া। ১৯৮৯ সালে আমাদের রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অপবাদ দিয়ে, উপহাস করে অবমাননকার বই প্রকাশ করা হয়।

তখন মুসলিম বিশ্বে প্রতিক্রিয়া হয়েছিল। পশ্চিমা দেশগুলো সমস্যা কোথায় বুঝতে ব্যর্থ হয়েছিল। তাদের চোখে ইসলাম একটি অসহিষ্ণু ধর্ম। প্রতি ২-৩ বৎসর পর পর কেউ একজন আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে অবমাননা করে, মুসলমানরা প্রতিক্রিয়া দেখায় আর পশ্চিমে মুসলমানরা অসহিষ্ণু হিসেবে পরিচিত পায়।

এজন্য পশ্চিমের গুটিকয়েক লোক দায়ী, যাদের আচরণ মুসলমানদের বিক্ষুব্ধ করে। কিন্তু পশ্চিমের অধিকাংশ লোক সেটা বুঝতে পারে না। তিনি বলেন, মুসলিম নেতৃবৃন্দের ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন যে, মহানবী হজরত মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদের কী বার্তা দিয়েছেন? মহানবী স্বর্গীয় গ্রন্থ পবিত্র কুরআনের সাক্ষ্যদাতা।

পবিত্র কুরআন হচ্ছে সেই মহাগ্রন্থ যা মুসলমানদের জীবনের চলার পথনির্দেশনা। কুরআন আমাদের কী নির্দেশনা দিয়েছেন সে বিষয়ে মহানবী ছিলেন জীবন্ত