রসায়নে তিন বিজ্ঞানীর নোবেল পুরস্কার লাভ !

0

মোবাইল ফোনসেট থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক নানা যন্ত্রে ব্যবহৃত লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির উন্নয়ন ঘটিয়ে এবার রসায়নে নোবেল পুরস্কার লাভ করেছেন তিন বিজ্ঞানী।

রয়েল সুইডিশ অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস বুধবার নোবেলজয়ী হিসেবে জার্মান বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক জন বি গুডএনাফ, ব্রিটিশ-আমেরিকান এম স্ট্যানলি হুইটিংহাম ও জাপানের ইয়োশিনোর নাম ঘোষণা করে। পুরস্কারের ৯০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা সমানভাবে ভাগ করে নেবেন তারা।

আগামী ১০ ডিসেম্বর সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেয়া হবে। বিবিসি বলছে, ৯৭ বছরে নোবেল জয় করে অধ্যাপক গুডএনাফ সবচেয়ে বেশি বয়সে সবচেয়ে সম্মানজনক এই পুরস্কার জয়ের রেকর্ড গড়েন। রসায়নের অধ্যাপক উলফ রামস্ট্রোম বলেন, লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির ফলেই মোবাইল বিশ্ব সচল রয়েছে।

হালকা ওজনের এই রিচার্জেবল ব্যাটারি মোবাইল ফোনসেট, ল্যাপটপ থেকে শুরু করে বৈদ্যুতিক গাড়িতেও ব্যবহৃত হয়। রসায়নে নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণার পর নোবেল কমিটি বলে, বিশ্বব্যাপী পোর্টেবল ইলেকট্রনিক্স সচল রাখতে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি ব্যবহৃত হচ্ছে। যার মাধ্যমে আমরা যোগাযোগ, কর্ম, পড়ালেখা, গান শোনা ও জ্ঞানার্জন করছি।

কমিটির সদস্য সারা স্নোগেরাপ লিনসে বলেন, এর ফলে আমরা প্রযুক্তিগত বিপ্লবের সঙ্গে সংযোগ ঘটাতে সক্ষম হয়েছি। সিএনএন বলছে, হুইটিংগাম ১৯৭০-এর দশকে প্রথম ব্যবহারযোগ্য লিথিয়াম ব্যাটারির উন্নয়ন ঘটান। এরপর গুডএনাফ ওই ব্যাটারির ক্ষমতাকে দ্বিগুণ করে তোলেন। এরপর আকিরা ইয়োশিনো ওই ব্যাটারি থেকে খাঁটি লিথিয়াম দূর করে লিথিয়াম আয়ন প্রযুক্তির উন্নয়ন ঘটনা।

এই প্রযুক্তি খাঁটি লিথিয়াম থেকে বেশি নিরাপদ। এর ফলেই প্রাত্যহিক জীবনে এই ব্যাটারি ব্যবহার সহজ হয়েছে। বরাবরের মতোই চিকিৎসা বিভাগের পুরস্কার ঘোষণার মধ্য দিয়ে গত সোমবার চলতি বছরের নোবেল মৌসুম শুরু হয়। সেদিন চিকিৎসায় এবং মঙ্গলবার পদার্থবিদ্যায় নোবেলজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হয়। আজ বৃহস্পতিবার ঘোষণা করা হবে সাহিত্যের নোবেলজয়ীদের নাম।

এক জুরির স্বামীর বিরুদ্ধে ওঠা যৌন নিপীড়নের অভিযোগকে কেন্দ্র করে বিতর্কের মধ্যে গত বছর সাহিত্যের নোবেল পুরস্কার স্থগিত করেছিল রয়্যাল সুইডিশ অ্যাকাডেমি। এবার তাই একসঙ্গে ২০১৮ ও ২০১৯ সালের নোবেলবিজয়ীদের নাম জানানো হবে। আগামী শুক্রবার শান্তি এবং ১৪ অক্টোবর অর্থনীতিতে নোবেল বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে

মহাকাশ জয়ী গর্বিত ১১ মুসলিম নভোচারী !

মহাকাশ নিয়ে মানুষের জানার আগ্রহ অনেক বেশি। সে কারণেই মহাকাশ নিয়ে মানুষের গবেষণার শেষ নেই। মৃ’ত্যুকে নিশ্চিত জেনেও মানুষ এ মহাকাশ ভ্রমণের দুঃসাহসিক অভিযানে অংশগ্রহণ করে। মহাকাশ জয়ের এ অভিযানে অন্যদের পাশাপাশি অবদান রেখেছে গর্বিত ১১ মুসলিম নভোচারী। সর্বশেষ গত ২৫ সেপ্টেম্বর মহাকাশ ভ্রমণে গিয়ে ৩ অক্টোবর ফিরে এসেছেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের মুসলিম নভোচারী হাজ্জা আল-মানসুরি। তারা মুসলিম বিশ্বের জন্য গর্ব।

গর্বিত ১১ জন মুসলিম মহাকাশ নভোচারির সদস্যরা হলেন- >> সুলতান বিন সালমান আল-সৌদি (সৌদি আরব) সুলতান বিন সালমান প্রথম মুসলিম নভোচারী। যিনি মহাকাশ ভ্রমণের সৌভাগ্য অর্জন করেন। তিনি প্রথম মুসলিম ও আরব নাগরিক হিসেবে ১৯৮৫ সালের ১৭ জুন ‘এসটিএস-৫১ জি’ মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৫৬ সালের ২৭ জুন জন্ম নেয়া সুলতান বিন সালমান ২৯ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করেন।

>> মোহাম্মদ ফরিস (সিরিয়া) মোহাম্মাদ ফারিস দ্বিতীয় মুসলিম মহাকাশ নভোচারী। যিনি ১৯৮৭ সালের ২২ জুলাই ‘মীর ইপি-১’ মহাকাশযানে প্রথম সিরীয় নাগরিক ও দ্বিতীয় আরব হিসেবে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৫১ সালের ২৬ মে জন্ম নেয়া ৩৬ বছর বয়সী ফারিস নভোচারীর খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি অর্ডার অব লেলিন ও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন পুরস্কারসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

মুসা মানারোভ (আজারবাইজান(আজারবাইজান) তৃতীয় মহাকাশ নভোচারী গর্বিত মুসলিম সদস্য হলেন মুসা মানারোভ। যিনি সবচেয়ে বেশি সময় ধরে ২ বার মহাকাশ ভ্রমণে অবস্থান করেন। ৫৪১ দিন মহাকাশে অবস্থান করেন তিনি। তিনি ১৯৮৭ সালে ‘মীর নিউ-৩’ মহাকাশযানে প্রথম বার এবং দ্বিতীয়বার ১৯৯০ সালে ‘সুয়েজ টিএম-১১’তে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ১৯৫১ সালের ২২ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন। প্রথমবার মহাকাশ ভ্রমণের সময় তার বয়স হয়েছিল ৩৬ বছর। তিনিও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন ও অর্ডার অব লেলিনসহ বিভিন্ন পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।

>> আবদুল আহাদ মোহামান্দ (আফগানিস্তান) আবদুল আহাদ মোহামান্দ ৪র্থ মুসলিম এবং প্রথম আফগান হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ১৯৮৮ সালের ২৯ আগস্ট ‘মীর ইপি-৩’মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৫৯ সালের ১ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন তিনি। মহাকাশ ভ্রমণের সময় তার বয়স হয়েছিল ২৯ বছর। তিনি মহাকাশে ৯ দিন অতিবাহিত করেন। তিনিই প্রথম মহাকাশ নভোচারী যিনি মহাকাশে পবিত্র কুরআনুল কারিম নিয়ে ভ্রমণ করেন।

>> তোক্তার আউবাকিরভ (কাজাখাস্তান) কাজাখাস্তানের প্রথম ও পঞ্চম মুসলিম হিসেবে তোক্তার আউবাকিরভ মহাকাশ নভোচারী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেন। তিনি ১৯৯১ সালের ২ অক্টোবর ‘সুয়েজ এম-১৩’মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। ১৯৪৬ সালের ২৭ জুলাই জন্ম নেয়া তোক্তার ৪৫ বছর বয়সে এ ভ্রমণ করেন। তাকে হিরো অব দ্য কাজাখাস্তান ও হিরো অব দ্য সোভিয়াত ইউনিয়ন পুরস্কারসহ আরও বেশ কিছু সংস্থা কর্তৃক মহাকাশবিষয়ক সম্মাননায় ভূষিত হয়।

>> তালগাত মুসাবায়েভ (কাজাখাস্তান) তালগাত মুসাবায়েভ। কাজাখাস্তানের দ্বিতীয় নভোচারী ও ৬ষ্ঠ মুসলিম হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সময় মহাকাশে অবস্থান করেন। ৩ বারের মহাকাশ ভ্রমণে তিনি ৩৪১ দিন ৯ ঘণ্টা ৪৮ মিনিট অবস্থান করেন। মুসাবায়েভ প্রথমবার ১৯৯৪ সালের ৪ নভেম্বর, দ্বিতীয়বার ১৯৯৮ সালের ২৫ অগস্ট এবং তৃতীয় বার ২০০১ সালের ৬ মে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। ১৯৫১ সালের ৭ জানুয়ারি জন্ম নেয়া এ নভোচারী ৪৩ বছর বয়সে প্রথম মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি কাজাখাস্তান জাতীয় মহাকাশ সংস্থার প্রধান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

>> সালিজান শারিপভ (রাশিয়া) সপ্তম মুসলিম নভোচারি হিসেবে রাশিয়ার সালিজান শারিপভ মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি ১৯৯৮ সালের ২০ জানুয়ারি ‘এসটিএস-৮৯’মহাকাশযানে প্রথমবার এ ভ্রমণ করেন। তিনি ২ বারের মহাকাশ ভ্রমণে তৃতীয় সর্বোচ্চ ২০১ দিন মহাকাশে অবস্থান করেন। দ্বিতীয়বার ২০০৪ সালের ১৪ অক্টোবরে তিনি মহাকাশ ভ্রমণ করেন। ১৯৬৪ সালের ২৪ আগস্ট জন্ম নেয়া এ নভোচারী সর্বপ্রথম ৩৪ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করেন।

তিনি হিরো অব দ্য রাশিয়ান ফাউন্ডেশন পুরস্কার লাভ করেন। কিরগিজ প্রজাতন্ত্রের উজবেক জাতীয়তাবাদী প্রথম মহাকাশ নভোচারীর তালিকায়ও তিনি নাম লেখান। নুশেহ আনসারি অষ্টম ব্যক্তি হিসেবে প্রথম মুসলিম নারী ইরানি বংশোদ্ভূত আমেরিকান নাগরিক আনুশেহ আনসারি মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি প্রথম ইরানি-আমেরিকান মুসলিম হিসেবে ‘সুয়েজ টিএমএ-৯’ মহাকাশযানে ২০০৬ সালে ১৮ সেপ্টেম্বর এ ভ্রমণ করেন।

তিনি ব্যক্তিগত খরচে মহাকাশ ভ্রমণকারী প্রথম নারী ও চতুর্থ ব্যক্তি। ১৯৬৬ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ইরানে জন্ম নেয়া আনুশেহ ৪০ বছর বয়সে মহাকাশ ভ্রমণ করেন। তিনি জর্জ ম্যাসন বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোক্তা অ্যাক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ও ইয়াং এন্টারপ্রেনিয়ার অব দ্য ইয়ার অ্যাওয়ার্ডসসহ বিভিন্ন সম্মাননায় ভূষিত হন।

>> শেখ মুসজাফার শুকুর (মালয়েশিয়া) মহাকাশ নভোচারী মালয়েশিয়ান নাগরিক শেখ মুসজাফর। নবম ব্যক্তি হিসেবে তিনি ২০০৭ সালের ১০ অক্টোবর ‘সুয়েজ টিএমএ-১১’ মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। নভোচারী মুসজাফার শুকুর মহাকাশে সর্বপ্রথম নামাজ আদায় করেন এবং নামাজের সে দৃশ্য ভিডিও প্রচার করে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। ১৯৭২ সালে জন্ম নেয়া এ মালয়েশিয়ান মহাকাশে ১০ দিন ২০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট অবস্থান করেন। তখন তার বয়স ছিল ৩৫ বছর।

>> আইদিন আইমবেটোভ (কাজাখাস্তান) কাজাখাস্তানের তৃতীয় নাগরিক হিসেবে মহাকাশ ভ্রমণ করেন দেশটির এয়ার ফোর্সের মেজর জেনারেল আইদিন আইমবেটোভ। তিনিই প্রথম মহাকাশে কাজাখাস্তানের পতাকা বহন করেন। ২০১৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর ‘সুয়েজ টিএমএ-১৮এম’মহাকাশযানে এ ভ্রমণ করেন। নভোচারী আইদিন মহাকাশে ৯ দিন ২০ ঘণ্টা ১৪ মিনিট অবস্থান করেন। ১৯৭৮ সালের ২৭ জুলাই জন্ম নেয়া এ নভোচারীর মহাকাশ ভ্রমণের সময় বয়স ছিল ৩৭ বছর।

>> হাজ্জা আল মানসুরি (সংযুক্ত আরব আমিরাত) মুসলিম বিশ্বের সর্বশেষ নভোচারী সংযুক্ত আরব আমিরাতে নাগরিক হাজ্জা আল-মানসুরি। তিনি ‘সুয়েজ এমএস-১৫’ নামক মিশনে ২০১৯ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মহাকাশ ভ্রমণ করেন। মহাকাশ ভ্রমণে তিনি পবিত্র কুরআন সঙ্গে নিয়ে যান। মহাকাশ থেকে তিনি পবিত