অবশেষে তুরস্কের হাতে নিয়ন্ত্রণ তুলে দিতে বাধ্য হল কুর্দিরা !

0

তুরস্কের সামরিক অভিযানের মুখে উত্তর সিরিয়ায় সীমান্তবর্তী শহর রাস আল আইন শহর ছেড়ে দিয়েছে কুর্দি বিদ্রোহীরা। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় করা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী যো’দ্ধাদের প্রত্যাহার করে নেয়া হয়েছে বলে কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) জানিয়েছে।

শহরটি ছেড়ে দেয়ার পর তুর্কি বাহিনী ও এর মিত্রদের কাছে শহরটির নিয়ন্ত্রণ হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছে তারা। তুর্কি-মার্কিন সমঝোতা অনুযায়ী রোববার বিকালে বিদ্রোহীরা শহরটি ত্যাগ করে বলে জানা গেছে। কুর্দি বিদ্রোহীদের শহরটি ছেড়ে যাওয়ার বিষয়টি আঙ্কারার পক্ষ থেকেও নিশ্চিত করা হয়েছে।

তুরস্ক প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, শনিবার বিকালে ৮৬টি গাড়ির একটি বহর নিয়ে কুর্দি এসডিএফ বিদ্রোহীরা শহরটি ত্যাগ করেছে।তুরস্কের বাহিনীগুলো ও তাদের সমর্থিত সিরীয় বিদ্রোহীরা প্রায় চারদিক থেকে শহরটি ঘিরে রেখেছে। কুর্দিশ ওয়াইপিজি যো’দ্ধাদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরুর দিকেই সীমান্তবর্তী শহর রাস আল আইন নিয়ন্ত্রণে নিয়েছিল তুরস্ক।

এদিকে তুরস্কের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নিতে ইসরাইলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিরিয়ার কুর্দিরা। সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্সেস (এসডিএফ)-এর মুখপাত্রের বরাত দিয়ে এ খবর নিশ্চিত করেছে ইসরাইলের শীর্ষস্থানীয় সংবাদ মাধ্যম দ্য টাইমস অব ইসরাইল।

প্রতিবেদনে বলা হয়, কুর্দিদের এখন ভরসা-ইসরাইলের ইহুদীরা তাদের অবহেলা করবে না। তারা বলেছে, তুরস্কের সামরিক অভিযানে নারী ও শিশুদেরও প্রা’ণহানি হচ্ছে। টাইমস অব ইসরাইলের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, অ’স্ত্রবিরতির মার্কিন ঘোষণার পরও সীমান্ তুরস্কের সঙ্গে কুর্দিদের সামান্য লড়াই চলছে।

প্রসঙ্গত, সীমান্ত নিরাপদ, সিরিয়ার অখণ্ডতা ও সিরিয়ান শরণার্থীদের নিরাপদে ফিরিয়ে দিতে চলতি মাসের ৯ অক্টোবর থেকে উত্তর সিরিয়ায় অপারেশন পিস স্প্রিং শুরু করেছে তুর্কি সরকার। উত্তর সিরিয়ার পূর্ব ফোরাত নদী পিকেকে/পিওয়াইডি ও ওয়াইপিজে মুক্ত করতে চায় আঙ্কারা।

৩০ বছর ধরে পিকেকে স’ন্ত্রাসীদের বি’রুদ্ধে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে তুরস্ক। পিকেকে সংগঠনকে স’ন্ত্রাসী হিসেবে তুরস্ক, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন তালিকাভুক্ত করেছে। ওই সংগঠনটির হাতে এ পর্যন্ত নারী, কিশোর ও শিশুসহ ৪০ হাজার মানুষ নি’হত হয়েছেন।

আফ্রিকায় প্রথম আজান হওয়া ঐতিহাসিক উকবা মসজিদ

আফ্রিকা মহাদেশের একেবারে উত্তরে ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী ছোট্ট দেশ তিউনিসিয়া। দেশটির উপকুলে ইসলামের আলো ছড়ানো মসজিদ কাইরুয়ান। যে মসজিদ থেকে আফ্রিকা মহাদেশে প্রথম আজান শুরু হয়। ইসলামের আগমন বার্তা প্রচারিত হতে থাকে সমুদ্র তীরবর্তী এ মসজিদ থেকে। ৫০ হিজরি সালে নির্মিত হয় এ মসজিদ।

সে হিসেবে মসজিদটি প্রায় হাজার বছরের পুরোনো। আফ্রিকা মহাদেশের এ প্রাচীন মসজিদটি স্থাপন করেন হজরত উকবা বিন নাফি রাহমাতুল্লাহি। ইসলামের অন্যতম খলিফা হজরত আমীর মুয়াবিয়া রাদিয়াল্লাহু আনহুর সেরা সামরিক কমান্ডার এ উকবা বিন নাফি। তিনিই ৯ হাজার বর্গমিটার জায়গাজুড়ে এ মসজিদটি নির্মাণ করেন।

আর এ মসজিদ থেকেই আফ্রিকা মহাদেশে সর্বপ্রথম আজানের ধ্বনি উচ্চারিত হয়। তিউনিসিয়া দেশটি ছোট্ট হলেও এর প্রায় সব নাগরিকই মুসলিম। দেশটি ১৮৮১ সাল থেকে ফ্রান্সের অধীন ছিল। দীর্ঘদিন পর ১৯৫৬ সালে দেশটি ফ্রান্সের উপনিবেশ থেকে স্বাধীনতা লাভ করেন। বর্তমানে দেশটির রাষ্ট্রধর্মও ইসলাম।

আফ্রিকা মহাদেশের মুসলিম অধ্যুষিত ছোট্ট দেশটি বিভিন্ন কারণে পর্যটকদের জন্য জনপ্রিয় দর্শণীয় স্থান। তিউনিসিয়ার আবহাওয়া চমৎকার। সমুদ্র তীরবর্তী দেশটির রৌদ্রোজ্জ্বল আবহাওয়া ও নয়নজুড়ানো বেলাভূমিই পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। এ মসজিদটি স্থানীয় শহরের নামেই পরিচিত। কাইরুয়ান শহরের এ মসজিদটি স্থানীয় নাম ছাড়াও উকবা জামে মসজিদ নামেও পরিচিতি।

আফ্রিকা মহাদেশে এ মসজিদ থেকে প্রথম আজান দেয়ার কারণে ইসলামের ইতিহাসেও এ মসজিদের গুরুত্ব অপরিসীম। বাহির থেকে দেখতে মসজিদটিকে একটি শক্তিশালী দুর্গ মনে হয়। ৫ গম্বুজ ও ৯ প্রবেশ গেটে নির্মাণ করা হয়েছে এ মসজিদ। মসজিদের মেহরাবের কাছে ছোট নিচু ছাদ বিশিষ্ট ‘মাকসুরা’ নামে একটি কক্ষও রয়েছে।