পীযুষের গ্রেফতারের দাবীতে শুক্রবার বিক্ষোভের ডাক দিয়েছে ইসলামী ঐক্যজোট !

দাঁড়ী টুপি ও টাখনুর উপর কাপড় পড়া ‘জঙ্গিবাদের’ (সন্ত্রাসবাদের) লক্ষণ বলে কটুক্তি করায় ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ” এর প্রধান পীযুষ বন্দোপাধ্যায়ের গ্রেফতার ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ” সংগঠনকে নিষিদ্ধের দাবীতে আগামী শুক্রবার বাদ রাজধানীর বায়তুল মোকাররম উত্তর গেইটে বিক্ষোভ মিছিলের কর্মসূচী ঘোষণা করেছে ইসলামী ঐক্যজোট।

এছাড়াও সারা দেশের প্রতিটি মসজিদ থেকে বাদ জুমা বিক্ষোভ মিছিল করার আহবান জানানো হয় মুসল্লিদের প্রতি। মঙ্গলবার (১৪ মে) লালবাগস্থ কার্যালয় মিলনায়তনে ইসলামী ঐক্যজোট আয়োজিত ইফতার মাহফিলে এ কর্মসূচী ঘোষনা করা হয়।

ইফতার মাহফিলে ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুল লতিফ নিজামী বলেন, যারা বলে দাঁড়ী টুপি ও টাখনুর উপর কাপড় পড়া জঙ্গিবাদের আলামত মূলত তারাই প্রকৃত জঙ্গি। এই কুচক্রি মহল চায় না এদেশে ইসলামের সৌন্দর্য ফুটে উঠুক।

‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ” নামক সংগঠন ইহুদীদের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছে। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে সকল মুুসলমানকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ইসলামী ঐক্যজোটের মহাসচিব মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, সম্প্রতি তথাকথিত ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ”

এর প্রধান পীযুষ বন্দোপাধ্যায় দাঁড়ী টুপি ও টাখনুর উপর কাপড় পড়া জঙ্গি লক্ষণ বলে মুসলমানদের ধর্মীয় বিশ্বাসের উপর হামলা করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি মনে করি পীযুষ বন্দোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে অমুসলিমদেরও প্রতিবাদ করার আহবান জানাচ্ছি।

সরকারকে অবিলম্বে পীযুষ বন্দোপাধ্যা কে গ্রেফতার ও “সম্প্রীতি বাংলাদেশ” নামক উগ্রবাদী সংগঠন নিষিদ্ধ ঘোষণার জোর দাবি জানাচ্ছি। তা না হলে এদেশের ইসলামপ্রিয় জনতা আগামীতে যে কোন সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবেন। মুফতী ফয়জুল্লাহ বলেন, জং ফারসী শব্দ। এর অর্থ যুদ্ধ, সংগ্রাম ।

জঙ্গি মানে যুদ্ধপ্রিয়, শ্রেষ্ঠ, যুদ্ধা, সংগ্রামী। জঙ্গিবাদ বলতে কোন কিছু আছে কি না জানি না তবে সন্ত্রাসবাদ তো সারা দুনিয়ার সমস্যা। সন্ত্রাসবাদ সম্পর্কে এ দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ওলামায়ে কেরাম যতটা সচেতনতা তৈরি করেছেন এবং করছেন আর কেউ তার সিকিভাগও করতে পারেননি।

তিনি বলেন, প্রচলিত সন্ত্রাস অথবা জঙ্গিবাদের সঙ্গে ইসলামের কোনো সম্পর্ক নেই। ওলামায়ে কেরাম বিভিন্নভাবে বহু বার তা স্পষ্ট করেছেন। মনে রাখতে হবে, সন্ত্রাসবাদ রাজনৈতিক সমস্যা, ধর্মীয় সমস্যা নয়। হাজার বছর ধরে কোরআন ও হাদিস পৃথিবীতে আছে, একটা নির্দিষ্ট সময়ে নির্দিষ্ট কোন গোষ্ঠী কোরআন ও হাদিসকে মাধ্যম বানিয়ে সহিংসতা করলে এর দায় ধর্মের ওপর চাপানো যাবে না।

ইফতার মাহফিলে আরো বক্তব্য রাখেন মাওলানা জাফরুল্লাহ খান, মাওলানা আবুল হাসানাত আমিনী, মাওলানা আব্দুর রশিদ মজুমদার, মাওলানা যোবায়ের আহমদ, মাওলানা জসিমউদ্দিন, যুগ্ম মহাসচিব মুফতী তৈয়্যব হোসাইন, মাওলানা ফজলুর রহমান,

মাওলানা আবুল কাশেম, মাওলানা শেখ লোকমান হোসাইন, মাওলানা আলতাফ হোসাইন, মাওলানা সাইফুল্লাহ হাবিবী প্রমুখ।

সুত্র: ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে