নারী ধর্ষণ ও নির্যাতন নিয়ে রমাদান মাসে কথা বলতে হবে তা কখনো ভাবিনি – জামায়াত

নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং নির্যাতন লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. শফিকুর রহমান। শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি এই উদ্বেগ জানান।

বিবৃতিতে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং নির্যাতন লাগামহীনভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনায় গোটা দেশবাসীসহ আমরা সবাই গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। দেশে বর্তমানে খুন, ধর্ষণ ও মাদকদ্রব্য সেবনের মচ্ছব চলছে।

পবিত্র মাহে রমাদান মাসেও নারী এবং শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন, খুন, সন্ত্রাস চলছে অব্যাহতভাবে। এ পবিত্র মাসেও এ নিয়ে কথা বলতে হবে তা কখনো ভাবিনি। কিন্তু বাস্তব পরিস্থিতির কারণেই এ বিষয়ে বিবৃতি দিতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং নির্যাতনের যেসব ঘটনা ঘটেছে তার অধিকাংশই সরকারি প্রশাসনের ছত্র-ছায়ায় সরকারি দলের নেতা-কর্মীরাই ঘটাচ্ছে। ফেনীর সোনাগাজীতে নুসরাতকে ধর্ষণে ব্যর্থ হয়ে তাকে পুড়িয়ে হত্যা, সিলেটে একজন ইন্টার্নী মহিলা ডাক্তারকে ধর্ষণের হুমকি,

কিশোরগঞ্জে একজন নার্সকে বাসে ধর্ষণ করে মাথা থেতলিয়ে হত্যা, গত ৩১ ডিসেম্বরে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচরে নৌকায় ভোট না দেয়ায় জনৈক মহিলাকে ধর্ষণের ঘটনাসহ অধিকাংশ ঘটনার সাথে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরাই জড়িত।

ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাতকে পুলিশ প্রশাসনের ছত্রছায়ায় স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা হত্যা করেছে। সিলেটে মহিলা ইন্টার্নী ডাক্তারকে ধর্ষণের হুমকি প্রদানকারী ছাত্রলীগের নেতাকে পুলিশ গ্রেফতার করার সাথে সাথেই তাকে মুক্তি দিতে বাধ্য করা হয়েছে।

এসব ঘটনার দ্বারাই প্রমাণিত হয় যে, সরকারের ছত্রছায়ায় দেশে নারী ও শিশু ধর্ষণ এবং হত্যা, নির্যাতন চরম আকার ধারণ করেছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, অফিস-আদালতে, বাসে-লঞ্চে কোথাও নারী এবং শিশুদের নিরাপত্তা নেই। এ অবস্থা জাতির জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক।

‘মানুষের জন্য ফাইন্ডেশন’-এর এক গবেষণা প্রতিবেদনের পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে যে, গত একবছরে সারাদেশে ৪৩৩টি কন্যা শিশু ধর্ষিত হয়েছে। তাদের মধ্যে ২৮টি কন্যা শিশু মারা গিয়েছে। ধর্ষণ, যৌন নির্যাতন ও শারীরিক নির্যাতনে নিহত হয়েছে ২৭১টি কন্যা শিশু।

গত ৯ মে ঐ সংস্থার প্রকাশিত আরেক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, গত ১ থেকে ৮ মে পর্যন্ত ৪১টি কন্যা শিশু ধর্ষিত হয়েছে। মহিলা পরিষদের এক প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে যে, ২০১৬ সালে দেশে এক হাজার ৫০ জন মহিলা ধর্ষিত হয়েছে।

আইন ও শালীস কেন্দ্রের প্রতিবেদনে দেখা যায় যে, ২০১৭ সালে ৮১৫ জন নারী এবং ২০১৮ সালে ৭৩২ জন নারী ধর্ষিত হয়েছে। বিচারের নামে দীর্ঘসূত্রিতা ও বিচারহীনতার সংস্কৃতির কারণেই ধর্ষণসহ নানা ধরণের অপরাধ বাড়ছে।

এসব পরিসংখ্যান থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যে, দেশে নৈতিক অবক্ষয় কী সাংঘাতিক ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। নীতি-আদর্শহীন কর্তৃত্ববাদী অগণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থা এবং ধর্মনিরপেক্ষতার নামে ধর্মহীন শিক্ষা ব্যবস্থার কারণেই যুবক-যুবতীরা ধর্মহীন সংস্কৃতি চর্চা করে মাদকদ্রব্য ও যৌন উত্তেজক ঔষধ সেবন করে নিজেদের মানুষ নামের পশুতে পরিণত করেছে।

এ অবস্থা থেকে জাতিকে মুক্ত করার জন্য শিক্ষা ব্যবস্থায় ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা অন্তর্ভূক্ত করতে হবে এবং ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে কঠোরভাবে ইসলামী আদর্শ মেনে চলতে হবে এবং অপরাধ দমনে ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

নারী ও শিশু ধর্ষণ, নির্যাতন এবং হত্যা বন্ধের লক্ষ্যে ঐ সব অপকর্মের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

সুত্র: নয়া দিগন্ত

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে