হেযবুত তাওহীদকে অবিলম্বে নিষিদ্ধ ঘোষণা করতে হবে: আল্লামা বাবুনগরী

আরিফ মুসতাহসান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের মহাসচিব আল্লামা জুনাইদ বাবুনগরী বলেছেন, হেযবুত তাওহীদ যেসকল কার্যক্রম পরিচালনা করে তা সম্পূর্ণ ইসলামের সাথে সাংঘর্ষিক।

তারা ইসলামের নামে যেসব সন্ত্রাসবাদের কথা বলে তা ইসলাম সমর্থন করেনা। রবিবার (২৬ মে) ইসলামি আকিদা সংরক্ষণ পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত পুরানা পল্টনস্থ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন মিলনায়তনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আল্লামা বাবুনগরী এসব কথা বলেন।

আল্লামা বাবুনগরী বলেন, হেযবুত তাওহীদ একটি ভ্রান্ত ইসলাম বিদ্বেষী অপশক্তি। তারা ইসলামের ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে সরলমনা মুসলমানদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তারা যদি এভাবে কার্যক্রম চালিয়ে যায় তাহলে এটা রাষ্ট্রের জন্য বড় ধরণের হুমকির কারণ হবে।

আল্লামা বাবুনগরী সরকারের নিকট দাবী পেশ করে বলেন, আমরা খতমে নবুওতের ব্যানারে কাদিয়ানীদেরকে অমুসলিম ঘোষণা করার দাবী জানিয়েছি। এখন আমাদের দাবী হলো কাদিয়ানীদের সাথে হেযবুত তাওহীদকেও রাষ্ট্রীয় ভাবে অমুসলিম ঘোষণা করতে হবে।

তারা বাংলাদেশের আনাচে কানাচে যত কার্যক্রম পরিচালিত করে তা সরকারি বাহিনীর মাধ্যমে সমূলে উৎখাত করতে হবে। তাদের কোনো কার্যক্রম হতে দেওয়া যাবেনা। তারা নানানভাবে আমাদের উলামায়ে কেরামগণকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে। উলামায়ে কেরাম হচ্ছেন নবীর উত্তরসূরী।

অবিলম্বে উলামায়ে কেরামগণের বিরুদ্ধে করা সকল মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। আল্লামা বাবুনগরী আরো বলেন, আমাদের কোনো ভূমিকা সরকারের বিরুদ্ধে নেই। কেউ যখন ইসলামের বিরুদ্ধে আওয়াজ তুলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করি, আন্দোলন করি।

নাস্তিক-মুরতাদ, কাদিয়ানী ও হেযবুত তাওহীদ সহ সকল ইসলাম বিদ্বেষী অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে। সংগঠনের আহ্বায়ক মুফতী রিজওয়ান রফিকীর সভাপতিত্বে এতে আরো বক্তব্য রাখেন,

মাওলানা গাজী ইয়াকুব, মুফতী আবদুল্লাহ ইয়াহইয়া, মুফতী লুতফুর রহমান ফরায়েজী, মাওলানা আব্দুর রহীম আল মাদানী, মাওলানা ইসমাঈল বেলায়েত হুসাইন, মুফতী ইলিয়াস হামিদী, মুফতী ওমর ফারুক যুক্তিবাদী প্রমুখ।

সুত্র: ইনসাফ টোয়েন্টিফোর ডটকম

রোজা রাখলে ক্যান্সারের কোষও মারা যায়:নোবেল জয়ী জাপানি গবেষক ওশিনরি ওসুমি

একজন জাপানি নাগরিক যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয় ভার্জিনিয়া টেক থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেছেন, চাকরি করছেন একটা প্রাইভেট ফার্মের বড় পদে। তিনি প্রতিবছর রোজা রাখেন।

তবে তিনি কেন রোজা রাখেন এ সর্ম্পকে এক সাক্ষাতকারে মুসলমানদের পবিত্র রোজা সম্পর্কে এক বিস্ময়কর তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, মুসলমানরা যাকে রোজা বলে, আমি তাকে বলি ‘অটোফেজি’। রোজার মাসে খাবার-দাবারের ঝামেলা, তাই এই মাসটা আমি অটোফেজি করি।

অটোফেজি কি তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, মুসলমানরা তাদের ধর্মের বিধান অনুযায়ী যে রোজা পালন করেন তার উপর গবেষণা করে জাপানি গবেষক ওশিনরি ওসুমি ২০১৬ সালে ‘অটোফেজি আবিষ্কার করে নোবেল জয় করেছেন! অটোফেজি শব্দটি এসেছে গ্রিক শব্দ অটো ও ফাজেইন থেকে।

বাংলায় এর অর্থ হচ্ছে আত্ম ভক্ষণ বা নিজেকে খেয়ে ফেলা। উপবাসের সময় মানুষের শরীরের সক্রিয় কোষ গুলো চুপচাপ বসে না থেকে সারা বছরে তৈরি হওয়া ক্ষতিকারক আর নিষ্ক্রিয় কোষগুলোকে খেয়ে ফেলে শরীরকে নিরাপদ আর পরিষ্কার করে দেয়। এটাই ‘অটোফেজি।

‘অটোফেজি আবিষ্কারের পর থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন ধর্মের বা ধর্ম মানে না অনেক স্বাস্থ্য সচেতন মানুষ সারা বছরে বিভিন্ন সময়ে ‘অটোফেজি করে শরীরটাকে সুস্থ রাখে। অটোফেজি তে ক্যান্সারের কোষও মারা যায়! ‘অটোফেজি আবিষ্কার হলো ২০১৬ তে, অন্য ধর্মাবলম্বীরা এখন ‘অটোফেজি করছে এর উপকারীতা জেনে।

আর মুসলিমরা ‘অটোফেজি করে আসছে হাজার বছর ধরে কিছু না জেনে; শুধু বিশ্বাস করে । অনেক কিছুতেই হয়তো আপনি মানে খুঁজে পাননা কিন্তু এটাই সত্য যে ইসলামে অকল্যাণের কিছু নেই!

ওসুমি জাপানের ফুকুকায় জন্মগ্রহণ করেন। টোকিও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯৬৭ সালে বিজ্ঞানে স্নাতক ও ১৯৭৪ সালে ডক্টরেট ডিগ্রি লাভ করেন। ১৯৭৪ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত নিউইয়র্ক সিটির রকফেলার বিশ্ববিদ্যালয়ে পোস্টডক্টরাল ফেলো ছিলেন।

১৯৭৭ সালে সহযোগী গবেষক হিসেবে টোকিও বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিরে আসেন। ১৯৮৬ সালে প্রভাষক হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৯৮৮ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে পদোন্নতি পান। ১৯৯৬ সালে ওকাজাকি সিটিতে অবস্থিত জাতীয় বেসিক বায়োলজি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তরিত হন। সেখানে তিনি অধ্যাপকের দায়িত্ব পালন করেন।

২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত হেয়ামার গ্র্যাজুয়েট এডভান্সড স্টাডিজ বিশ্ববিদ্যালয়েও অধ্যাপকের দায়িত্বে ছিলেন। ২০১৪ সালে অবসর নেয়ার পরও ইনোভেটিভ গবেষণা ইনস্টিটিউট ও টোকিও প্রযুক্তি ইনস্টিটিউটে অধ্যাপকের দায়িত্ব চালিয়ে যান। রোজার উপর গবেষণা করে নোবেল জয় করলেন ভিনধর্মী ওসুমি।

২০১৬ সালে নোবেল কমিটি জাপানের ডাক্তার ’ওশিনরি ওসুমি’-কে অটোফেজি আবিষ্কারের জন্যে পুরষ্কার দেয়। এরপর থেকে আধুনিক মানুষেরা ব্যাপকভাবে রোজা রাখতে শুরু করে।

সুত্র : বাংলাদেশ টুডে

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে