এবারের ঈদযাত্রায় নিহত ২৪৭, আহত ৬৬৪ জন

বুধবার (১২ জুন) বেলা পৌনে ১২টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে ‘ঈদযাত্রায় সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিবেদন ২০১৯’ প্রকাশ উপলক্ষে যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এতথ্য জানানো হয়।

ঈদযাত্রায় ১২ দিনে ১৮৫ সড়ক দুর্ঘটনায় সারাদেশে ২২১ জন নিহত হয়েছেন। মহাসড়কে দুর্ঘটনায় মোট ৬৫২ জন আহত ও ৩৭৫ জন পঙ্গু হয়েছেন। তবে সড়ক, রেল ও নৌপথে সম্মিলিত ২১২ দুর্ঘটনায় ২৪৭ নিহত ও ৬৬৪ জন আহত হয়েছেন।

সংগঠনের সভাপতি ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) কামরুল ইসলাম লিখিত বক্তব্যে বলেন, সাড়ে ৫ কোটি মানুষ ঈদযাত্রায় বাড়ি ফিরেছেন। ৩০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত ১২ দিনে মহাসড়কে ২২১ জন নিহত হয়েছেন।

নৌপথে ৫ দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। রেলপথে ট্রেনে কাটা পড়ে পূর্বাঞ্চলে ১৩ জন ও পশ্চিমাঞ্চলে ৯ জনসহ মোট ২২ জন নিহত হয়েছেন।

তিনি বলেন, ৬৩টি বাস, ৩৮টি ট্রাক-কাভার্ড ভ্যান ও পিকআপ, ১৯টি কার-মাইক্রো, ৩০টি নছিমন-করিমন, ৬৪টি মোটরসাইকেল ও ২৬টি অন্য যানবাহনে এসব দুর্ঘটনায় জড়িত ছিলো। ৫১টি গাড়িচাপায়, ৮১টি সংঘর্ষ, ১৯টি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খাদে পড়ে ও অন্যান্য কারণে ৩৪টি দুর্ঘটনা ঘটে।

কামরুল ইসলাম বলেন, আমাদেরকে ঈদে বাড়ি ফেরার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। নতুবা ঈদের সময় পার্শ্ববর্তী দেশ থেকে গাড়ি ভাড়া করে এনে যাত্রী সেবার ব্যবস্থা করতে হবে।

নিরাপদ সড়কের জন্য তিনি ১০টি সুপারিশ তুলে ধরে বলেন, বছরের প্রথম থেকেই পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে, যাতে যেকোনো উৎসবে যাত্রা নিরাপদ হয়।

সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক কামরুল ইসলাম, যাত্রী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের অর্থ সম্পাদক সাইমুন নাহার এবং প্রচার ও প্রকাশনা আবুল বাশার হাওলাদার প্রমুখ।

সুত্র: নিউজ বাংলাদেশ ২৪

হিজাব না থাাকয় নারী যাত্রীকে ট্যাক্সি থেকে নামিয়ে দিলেন চালক!

ইরানে হিজাব না পরায় এক নারীকে মাঝ রাস্তায় ট্যাক্সি থেকে নামিয়ে দিয়েছেন চালক। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশটির সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা স্ন্যাপ নামের জনপ্রিয় একটি ট্যাক্সি অ্যাপ বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।

ওই নারী টুইটারে ট্যাক্সি চালকের ছবি দিয়ে লিখেছেন, এই সেই চালক যিনি মাঝ রাস্তায় আমাকে ট্যাক্সি থেকে নামিয়ে দিয়েছেন। এই ঘটনায় স্ন্যাপ নামের ওই অ্যাপ কোম্পানি থেকে অভিযোগকারীর কাছে ক্ষমা চাওয়া হয়েছে।

ওই নারী আরও জানান, কোম্পানির তরফ থেকে ওই চালককে কড়া ভাবে শাসানো হবে বলেও তাকে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে। এদিকে দেশটির রক্ষণশীলরা স্ন্যাপ-এর এমন সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেছেন।

তারা বলছেন, যারা ইসলামের মূল্যবোধকে সম্মান জানাতে পারেন না তাদের সামনে মাথা নত করা উচিত নয়। পারসিয়ান ভাষায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হ্যাশট্যাগ ‘বয়কট স্ন্যাপ’ চালু করা হয়েছে।

শনিবার থেকে ৬৬ হাজার বারের বেশি এই হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করা হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম টুইটারে একজন লিখেছেন, ওই নারীর অশালীন আদব-কায়দার জন্য যদি কোম্পানির ম্যানেজার ক্ষমা চেয়ে থাকে তাহলে স্ন্যাপ অ্যাপ বন্ধের পাশাপাশি তাকে ইসলামিক প্যানেল কোডে বিচার করা উচিত।

কারণ তিনি ওই চালককে শাসানোর মাধ্যমে নারীদের এ ধরণের অশালীনতাকে উস্কে দিয়েছেন। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর ইরান দেশটিতে নারীদের জন্য হিজাব পরা বাধ্যতামূলক করে।

দেশটির একটি টেলিভিশন চ্যানেলে এক সাক্ষাতকারে ওই ট্যাক্সির চালক সায়িদ আবেদ বলেছেন, যদি পুলিশ দেখতো তার যাত্রী হিজাব পরে নেই তাহলে তাকে জরিমানা করতো। তিনি মনে করছেন, তিনি যা করেছেন সেটা ছিল তার ধর্মীয় দায়িত্ব।

এদিকে এরোস্পেস কমান্ডার অব দ্য ইসলামিক রেভ্যুলিউশন গার্ডস কর্পস এর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আমির আলী হাজিজেদেহ ওই চালকের সঙ্গে দেখা করে তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এতসব চাপের মুখে দুটি ঘটনা ঘটেছে। প্রথমটি হল স্ন্যাপ কোম্পানি ওই চালকের কাছে ক্ষমা চেয়েছে। এক বিবৃতিতে বলেছে, চালক তাদের কোম্পানিতে সানন্দে কাজ করতে পারেন।

অন্যদিকে ওই নারী তার প্রথম টুইটটি মুছে ফেলেছেন এবং তিনিও ক্ষমা চেয়েছেন। তিনি লিখেছেন, আমি স্ন্যাপ কোম্পানি, চালক এবং যারা এই ঘটনা শুনে কষ্ট পেয়েছেন তাদের সবার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।

তিনি আরও বলেন, আমি ঘোষণা করছি আমি আমার দেশের আইন মানতে বাধ্য। দেশটির পুলিশ সতর্ক করে বলেছে, হিজাবের বিরুদ্ধে কোন প্রকার বিক্ষোভে অংশ নিলে ১০ বছর পর্যন্ত সাজা হতে পারে।

এক সময় কট্টর খ্রিস্টান মৌলবাদী ধর্ম প্রচারক ছিলেন। টানা ৭ বছর ধরে করেছেন খ্রিস্টান ধর্মের প্রচার। কিন্তু শেষমেশ ইসলাম ধর্মের মহিমায় মুগ্ধ হয়ে হয়েছেন মুসলিম। ওই নারীর নাম সুই ওয়াটসন।

ইসলাম গ্রহণ করার পর নাম পরিবর্তন করে রাখেন খাদিজা ওয়াটসন। যক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম। ধর্মতত্ত্বের ওপর রয়েছে তার সর্বোচ্চ শিক্ষা ও গবেষণা।

ইসলাম গ্রহণ করা সম্পর্কে তিনি আরব নিউজকে বলেন, আমি একদিন এক নারীর সঙ্গে দেখা করি যিনি ইসলাম গ্রহণ করেছেন। আমি তাকে ইসলামের চোখে কীভাবে নারীদের দেখা হয় তা জানতে চাই।

আমি তার উত্তর শুনে অবাক হই যে নারীদের সমান ও শ্রদ্ধার চোখে দেখা হয় ইসলামে। এরপর আমি তার কাছে আল্লাহ এবং হযরত মোহাম্মদ (সা.) সম্পর্কে জানতে চাই। এর জবাবে তিনি আমায় এক ইসলামিক সেন্টারে নিয়ে যান।

সেখানে তারা আমায় কিছু বই দিয়ে তা পড়তে বলে। তা পড়ে আমি মুগ্ধ হয়ে যাই। যতই এসব পড়তে থাকি আমার ইসলামের প্রতি মুগ্ধতা বাড়তেই থাকে। শেষমেশ ইসলাম গ্রহণ করি। বর্তমানে খাদিজা সৌদি আরবের জেদ্দায় আল-হামরা এডুকেশন ফাউন্ডেশনের শিক্ষক।

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে