খোকার জানাজায় এক কাতারে বিএনপি-আওয়ামী লীগ !

0

দল-মত ভুলিয়ে সবাইকে এক কাতারে দাঁড় করালেন খোকা। বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও অবিভক্ত ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র সাদেক হোসেন খোকার দ্বিতীয় নামাজের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার কিছু সময় পর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় এই মুক্তিযোদ্ধার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

দেশের মাটিতে এটিই তার প্রথম জানাজা। এখানে দল মত ভুলে সবাইকেই হাজির হতে দেখা গেছে। যারা সবসময় পাল্টাপাল্টি বক্তব্য আর তর্ক-বিতর্কে ব্যস্ত থাকেন, তারাই আজ এক কাতারে দাঁড়িয়ে খোকার জানাজায় অংশ নিয়েছেন। জানাজায় ছিলেন সাবেক রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদ সদস্য, জাতীয় সংসদের সদস্য, বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ নেতারা।

পাশাপাশি দাঁড়িয়ে জানাজা পড়েছেন জানাজায় অংশ নেন ডা. একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরী, তোফায়েল আহম্মেদ, মওদুদ আহমেদ, আ স ম ফিরোজ, মেজর অব. আবদুল মান্নান, বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী, রাশেদ খান মেনন, মশিউর রহমান রাঙা, ড. মাহবুব উল্লাহ, মেজর জেনারেল অব. সৈয়দ মুহম্মদ ইবরাহিম, সাবের হোসেন চৌধুরী, শামসুল হক টুকু,

ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র আতিকুল ইসলাম। জানাজায় আরও অংশ নেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, মেজর অব. হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিনহা, জাফরুল ইসলাম চৌধুরী, জয়নুল আবদিন ফারুক, আবুল খায়ের ভূঁইয়া, হারুন অর রশিদ, উকিল আব্দুস সাত্তার, জাহিদুর রহমান, এম মোরশেদ খান,

মেজর অব. আখতারুজ্জামান, নাজিম উদ্দিন আলম, রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, রুহুল আলম চৌধুরী, এমরান সালেহ প্রিন্স প্রমুখ। জানাজার আগে খোকার পরিবারের পক্ষ থেকে কথা বলেন তার বড় ছেলে প্রকৌশলী ইশরাক হোসেন। তিনি তার বাবার রুহের মাগফেরাত কামনায় সবার কাছে দোয়া চান।

এ সময় খোকার মরদেহ দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগীতা করায় সরকারকে ধন্যবাদ জানান তিনি। প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ সময় সোমবার দুপুর ১টা ৫০ মিনিটে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের মেমোরিয়াল স্লোয়ান ক্যাটারিং ক্যানসার সেন্টারে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মা’রা যান সাদেক হোসেন খোকা। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ক্যান্সারে ভুগছিলেন।

সোনালি স্বপ্নের দ্বারপ্রান্তে মুসলিমবিশ্ব !

আমরা ইতিহাসের এমন একটি বিশেষ সময়ে দাঁড়িয়ে আছি, যেখানে সামগ্রিকভাবে মুসলিম রাষ্ট্রগুলো এবং বিশেষভাবে বাংলাদেশ ইতিহাসের অনিবার্য ধারাবাহিকতার উন্নয়নের স্বর্ণযুগের দ্বারপ্রান্তে।

চলতি শতক হবে মুসলিম শতক। কেউ পছন্দ করুক আর নাই করুক, এই শতাব্দীতে মুসলিম জনসংখ্যা যে অন্য সব ধর্মবিশ্বাসীদের ছাড়িয়ে যাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। যেসব মহাকারণে একবিংশ শতাব্দী মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর জন্য, বিশেষ করে বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বর্ণযুগ হতে যাচ্ছে তার প্রধান তিনটি কারণ জনসংখ্যার সাথে সংশ্লিষ্ট।

প্রথমত, মুসলিম জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার হার বিশ্বের গড় জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়া হারের তুলনায় বেশি; দ্বিতীয়ত, তরুণ মুসলিম জনসংখ্যা বিশ্বের গড় তরুণ জনসংখ্যার তুলনায় বেশি; এবং তৃতীয়ত, মুসলিম জনসংখ্যা পুনঃস্থাপনের হার বিশ্বের সমগ্র জনসংখ্যা পুনঃস্থাপনের তুলনায় দ্রুত। আমার এই বক্তব্যকে সমর্থন করছে বিশ্বের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ গবেষণা সংস্থাগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্রের পিউ রিসার্ন সেন্টার।

বিশ্বের বর্তমান জনসংখ্যা ৭৩০ কোটি। যার মধ্যে ২৩০ কোটি খ্রিষ্টান, ১৮০ কোটি মুসলমান, হিন্দু ১১০ কোটি, ১১০ কোটি মানুষের বিশেষ কোনো ধর্ম নেই এবং বাকিরা অন্যান্য ধর্মাবলম্বী। বর্তমান বিশ্বে খ্রিষ্টান মায়েরা সবচেয়ে বেশি শিশুর জন্ম দিচ্ছে। কিন্তু পিউ রিসার্চ বলছে, আগামী ১৫-১৬ বছর তথা ২০৩৫ সাল নাগাদ এই চিত্র বদলাতে শুরু করবে।

২০১০ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে বিশ্বে ২২ কোটি ৩০ লাখ খ্রিষ্টান শিশু জন্ম নেয়। আর মুসলিম শিশুর জন্ম হয় ২১ কোটি ৩০ লাখ। কিন্তু ২০৩০-৩৫ মেয়াদে ২২ কোটি ৪০ লাখ খ্রিষ্টান শিশু এবং ২২ কোটি ৫০ লাখ মুসলিম শিশুর জন্ম নেবে। এখন থেকে আগামী দশকগুলোতে মুসলমানরা হবে সবচেয়ে বর্ধিষ্ণু ধর্মীয় সম্প্রদায়।

এর লক্ষণ এরই মধ্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। ২০১০-১৫ মেয়াদে বিশ্ব জনসংখ্যার ৩১.২% ছিল খ্রিষ্টান ও মুসলমানরা ছিল ২৪.১%। কিন্তু অনুপাতের বিচারে এই মেয়াদে বিশ্বে জন্ম নেয়া শিশুর ৩৩% ছিল খ্রিষ্টান আর ৩১% মুসলমান। আবার, একই সময়ে বিশ্বে যত মানুষ মারা গেছে তার ৩৭% ছিল খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী। অন্যদিকে মুসলিম ছিল ২১%। এই চিত্রটি বিশেষ করে ইউরোপের জন্য সত্য। সেখানে খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী বয়স্ক মানুষের সংখ্যাও তুলনামূলক বেশি।

এ ক্ষেত্রে পিউ রিসার্চ জার্মানির উদাহরণ দেয়। সেখানে ২০১০-১৫ মেয়াদে যত খ্রিষ্টান শিশু জন্ম নেয় তার চেয়ে ১৪ লাখ বেশি খ্রিষ্ট ধর্মাবলম্বী মারা যায়। ২০৩০-৩৫ মেয়াদে খ্রিষ্টানদের চেয়ে বেশি মুসলিম শিশু জন্মগ্রহণের কারণ হবে মূলত মুসলিম তরুণ জনগোষ্ঠী হবে বড় এবং মুসলিম নারীদের সন্তান জন্মদানের হার হবে বেশি।

এই মেয়াদে খ্রিষ্টানেরা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় সম্প্রদায়ের মর্যাদা ধরে রাখবে। কিন্তু তার ২০ বছর বাদেই চিত্রটি বদলে যাবে। পিউ রিসার্চ আভাস বা প্রজেকশন দিয়েছে যে, ২০৫৫-৬০ মেয়াদে বিশ্বের সবচেয়ে বড় দুই ধর্মীয় গ্রুপ মুসলমান ও খ্রিষ্টানদের মধ্যে শিশু জন্মের পার্থক্য হবে ছয় লাখ। এই মেয়াদে মুসলিম ও খ্রিষ্টান শিশুর জন্ম হবে যথাক্রমে ২৩ কোটি ২০ লাখ ও ২২ কোটি ৬০ লাখ।

এই সময়ে বিশ্বে জন্ম নেয়া ১০টি শিশুর মধ্যে সাতটি মুসলিম (৩৬%) বা খ্রিষ্টান (৩৫%) ধর্মের হবে। গবেষণা আরো বলছে, শিশুরা সাধারণত মায়ের ধর্ম গ্রহণ করে। তবে সব শিশু যে তার মায়ের ধর্মীয় পরিচয় গ্রহণ করবে এবং সেই ধর্মের অনুসারি হবে তার নিশ্চয়তা নেই। যুক্তরাষ্ট্রে এই প্রবণতা বেশি। সেখানে অনেককে শিশুকালের ধর্ম পরিচয় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ত্যাগ করতে দেখা যায়।

কেউ হয়তো শিশুকালে খ্রিষ্ট ধর্মের ছিল কিন্তু প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ার পর ধর্মত্যাগ করছে। আবার এর উল্টোটাও ঘটছে। অবশ্য বিশ্বের অনেক দেশে ধর্মীয় পরিচয় বদল করার আইন নেই। দেখা গেছে, ধর্মীয় পরিচয় বদল করে ধর্মীয় পরিচয়বিহীন হওয়া মানুষের সংখ্যা বেশি। আর এই প্রক্রিয়াতেও খ্রিষ্টধর্ম বিশ্বাসী সংখ্যা কমেছে। ২০১০-১৫ মেয়াদে খ্রিষ্টানদের সংখ্যা স্বাভাবিক বেড়েছে (জন্ম থেকে মৃত্যু বাদ দেয়ার পর) হয়েছে ১১ কোটি ৬০ লাখ।

কিন্তু ধর্মীয় পরিচয় বদলের কারণে এই সংখ্যা কমেছে ৯০ লাখ। একই সময়ে মুসলিমদের সংখ্যা স্বাভাবিক বেড়েছে ১৫ কোটি ২০ লাখ। পাশাপাশি অন্য ধর্ম থেকে মুসলমান হয়েছে পাঁচ লাখ। ২০৬০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা ৯৬০ কোটিতে দাঁড়াবে বলে আভাস দেয়া হয়েছে। কিন্তু ২০১৫ থেকে ২০৬০ সালের মধ্যে, ৩৫ বছরে, মুসলিমদের সংখ্যা বাড়বে ৭০%।

মুসলিমদের জনগোষ্ঠীতে তরুণদের সংখ্যা হবে বেশি এবং প্রজনন (Fertility) হারও থাকবে বেশি। এই সময়ে খ্রিষ্টান জনসংখ্যা বেড়ে হওয়ার হার হবে ৩৪%। গবেষণা বলছে, ২০৬০ সালে বিশ্বে মুসলমানদের সংখ্যা হবে ৩০০ কোটি (মোট জনসংখ্যার ৩১%), আর খ্রিষ্টান হবে ৩.১ বিলিয়ন (মোট জনসংখ্যার ৩২%)। ২০২০-৬০ সাল পর্যন্ত ৪০ বছরে খ্রিষ্টান ধর্মাবলম্বী সংখ্যা বাড়বে চার লাখ (৩.১-২.৩)।

অন্য দিকে, মুসলিম জনগোষ্ঠীর বাড়বে ১২০ কোটি (৩.০-১.৮)। এই আভাসকে পরবর্তী ৪০ বছরের জন্য, অর্থাৎ ২১০০ সাল পর্যন্ত এক্সট্রাপুলেট (extrapolate) করা গেলে নিশ্চিতভাবে বলা যায় যে চলতি শতাব্দীর শেষ নাগাদ মুসলমানরাই হবে বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনগোষ্ঠী। ২০৬০ সাল নাগাদ মুসলমান ও খ্রিষ্টান ছাড়া বিশ্বের বাকি বড় ধর্মগুলো হবে বিশ্ব জনসংখ্যার ক্ষুদ্র অংশ।

হিন্দু, ইহুদি ও লোকধর্মবিশ্বাসী (folk religions) জনসংখ্যা নিরঙ্কুশ সংখ্যায় বাড়লেও এগুলো বিশ্ব জনসংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সাথে তাল মেলাতে পারবে না। এই সময়ে হিন্দু হবে বিশ্ব জনসংখ্যার ২৭% বা ১৪০ কোটি। ইহুদি সংখ্যা ২০১৫ সালের ১ কোটি ৪৩ লাখ থেকে বেড়ে ২০৬০ সালে হবে ১ কোটি ৬০ লাখ।

আর লোকধর্ম বিশ্বাসী সংখ্যা বর্তমানের ৪১ কোট ৮০ লাখ থেকে হবে ৪৪ কোটি ১০ লাখ। লোকধর্ম বিশ্বাসীদের মধ্যে রয়েছে আফ্রিকান উপজাতি, চীনা লোকধর্ম বিশ্বাসী, আমেরিকান আদিবাসী, অস্ট্রেলিয়ান আদিবাসী ও অন্যরা। ২০৬০ সাল নাগাদ বিশ্বের জনসংখ্যা ৩২% বাড়বে। আর প্রধান ধর্মগুলোর মধ্যে মুসলমান সংখ্যা বাড়বে ৭০%, খ্রিষ্টান