অর্থ সম্পদের জন্য মানুষ পাগল, কবরে যেতে হবে একথা চিন্তা করে না: প্রধানমন্ত্রী

0

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, সম্পদের লোভে মানুষ অন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু এটা ভুলে যায় যে মরে গেলে কিছু সাথে নেওয়া যাবে না, কবরে একাই যেতে হবে।তিনি বলেন, দুনিয়াতে যা রেখে যাবে সেটা আর কোনোদিন কাজে লাগবে না। আর যদি বেশি রেখে যায় তবে ছেলে-মেয়ের সম্পর্ক নষ্ট হয়ে যায়।সম্পদ নিয়ে মারামারি কাটাকাটি শুরু হয়ে যাবে।

এখন যেটা যথেষ্ট দেখা যায়।রোববার (১৮ আগস্ট) সকালে প্রধানমন্ত্রী তার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে পবিত্র ঈদুল আজহা পরবর্তী শুভেচ্ছা বিনিময়কালে এ কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী ঘুষদাতার সমালোচনা করে বলেন, যে ঘুষ নেবে তার বিরুদ্ধে তো ব্যবস্থা নিতে হবেই, যে ঘুষ দেবে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নিতে হবে।তিনি বলেন, দুর্নীতিতে যে ঘুষ নেবে শুধু সে অপরাধী নয়, যে দেবে সেও অপরাধী।

এই জিনিসটা মাথায় রাখা এবং সেভাবে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।তাহলে আমাদের অনেক কাজ দ্রুত হবে।তিনি ‍আরও বলেন, এই অন্ধের মত ছুটে বেড়ানো। আর নিজের সবকিছু নষ্ট করার কী অর্থ থাকে? কার কত আয়, আয় বুঝে ব্যয়; জীবনটা সবার ভালোভাবে চলুক সেটা আমরা চাই।কর্মকর্তা কে কত খরচ করলো তার একটা হিসাব নেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।

মতবিনিময়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সচিবসহ তার কার্যালয়ের কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেনইতিহাসের উজ্জ্বল নক্ষত্র ইবনে সিনা রহ.ইসলামের শ্রেষ্ঠ চার বিজ্ঞানীদের মধ্যে ইবনে সীনা একজন। ল্যাটিন ইউরোপে তিনি ‘অ্যাভিসেনা’ (Av icenna) পরিচিত।

তার পুরো নাম হলো আল শাইখ আল বাইম আবূ আলী আল হোসেইন ইবনে আবদুল্লাহ ইবন সিনা আল বুখারী।ইরানের একটি প্রদেশের নাম খোরাসান। এখানে শাসন করতেন আবদুল্লাহ।তাঁর পুত্র ছিলেন ইবনে সিনা। মায়ের নাম সিতারা বিবি। তিনি ৯৮০ খ্রিষ্টাব্দে বুখারার নিকটবর্তী আফশানাতে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১০৩৭ খ্রিষ্টাব্দে ইসফাহানে মৃত্যুবরণ করেন।

ইবনে সীনা ছিলে সর্বকালের সেরা বিজ্ঞানীদের একজন।তাঁর চিকিত্সাশাস্ত্রে অবদান এতটাই গুরুত্বপূর্ণ যে, প্রায় আঠারো শতকের শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭০০ বছর ধরে তাঁর লিখিত বইগুলো অক্সফোর্ড, কেমব্রিজসহ ইউরোপের নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গুরুত্বসহকারে পড়ানো হত।

পুত্রের জন্মের কিছুকাল পরেই আবদুল্লাহ তাকে বোখারায় নিয়ে আসেন। সে সময় বোখারা ছিল মুসলিম জাহানের জ্ঞান বিজ্ঞানের অন্যতম কেন্দ্র।শিশুপুত্রের মেধাদীপ্ত কথা-বার্তায় পিতা বুঝলেন কালে এ ছেলে দুনিয়া জোড়া খ্যাতি অর্জন করবে। তাই তিনি ছেলের সুশিক্ষার যাবতীয় ব্যবস্থা সুসম্পন্ন করেন।

ইবনে সীনার মেধা ছোটকাল থেকেই সবার নজরে আসে এবং তাঁকে তখনকার সময়ের বিস্ময় হিসেবে ধরা হয়। মাত্র দশ বছরেই ইবনে সিনা পবিত্র কোরআনের ৩০ পারা মুখস্ত করে ফেলেন। তাঁর পিতা ছেলের জন্য ৩জন গৃহ শিক্ষক নিযুক্ত করেন। এদের মধ্যে ইসমাইল সুফী শিখাতেন ধর্মতত্ত্ব, ফিকাহ্ ও তাফসীর।

মাহমুদ মাসসাহ শিক্ষা দিতেন গনিত শাস্ত্র ও বিখ্যাত দার্শনিক আল না’তেলী শিক্ষা দিতেন দর্শন, ন্যায় শাস্ত্র, জ্যামিতি, টলেমির আল মাজেস্ট জওয়াহেরে মানতেক প্রভৃতি। এ সময় তার বয়স ১৭ বছর। তিনি তখনকার দিনে প্রচলিত সকল জ্ঞান লাভ করে ফেলেন। বিখ্যাত দার্শনিক আল নাতেলী ইবনে সিনাকে সকল বিষয়ে জ্ঞান দান করেন।

তিনি ইবনে সিনাকে স্বাধীনভাবে গবেষণা করার পরামর্শ দেন। ইবনে সিনা চিকিৎসা বিজ্ঞানে পারদর্শীদা অর্জনের সিদ্ধান্ত নেন। এজন্যে চিকিৎসার মাধ্যমে দুঃস্থ মানবতার সেবা করার জন্য মনস্থির করেন। এজন্যে চিকিৎসা বিষয়ক যাবতীয় গ্রন্থ সংগ্রহ করে তিনি গবেষণা শুরু করেন।

তিনি একজন খাঁটি মুসলমান ছিলেন।একজন খাঁটি মুসলমান কোন লক্ষ্য অর্জনের জন্য যেমন নিয়ম অনুযায়ী কাজ করেন তেমনিই আবার কামনা করে থাকেন। ইবনে সিনা কোন বিষয়ে যখন বুঝতে পারতেন না। তখন দু’রাকাত নফল নামাজ পড়ে আল্লাহ পাকের সাহায্য চাইতেন।

কান্নাকাটি করে বলতেন, হে আল্লাহ তুমি আমার জ্ঞানের দরজাকে খুলে দাও।আল্লাহ পাক পরম দয়ালু।বান্দার কাতর আবেদন মঞ্জুর না করে থাকতে পারেন না। কাজেই ইবনে সিনার দোয়া কবুল হত। ইবনে সিনা যখন ক্লান্তিতে ঘুমিয়ে পড়তেন তখন অমীমাংসিত প্রশ্নগুলো তার মানসপটে স্বপ্নের মত ভাসতো। তার জ্ঞানের দরজা খুলে যেত।

ঘুম থেকে উঠে তিনি সমস্যার সমাধান করে ফেলতেন। একজন বিখ্যাত চিকিৎসক হিসাবে সর্বত্র তার নাম ছড়িয়ে পড়ে। তিনি জটিল রোগের চিকিৎসায় সাফল্য লাভ করেন।বোখারায় তখন বাদশাহ ছিলেন নূহ বিন মনসুর। তিনি একবার এক কঠিন রোগে আক্রান্ত হন। চিকিৎসা জগতের চুনোপুটি থেকে শুরু করে রাঘব বোয়ালদের কেউই তাকে সুস্থ করে তুলতে পারছিলেন না। বাদশাহ ইবনে সিনার সুখ্যাতি শুনেছেন।

তাই তাকে ডেকে পাঠালেন। ইবনে সিনা বাদশাহকে গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে তার রোগ সম্পর্কে অবহিত হলেন।পরে মাত্র কয়েকদিনের চিকিৎসায় তিনি সুস্থ হয়ে ওঠেন। বাদশাহ ইবনে সিনার ওপর খুবই খুশী হলেন। তাকে জিজ্ঞেস করলেন, আপনি কি পেলে খুশী হবেন?

ইবনে সিনা বললেন, জাঁহাপনা লাইব্রেরী বই পুস্তক যদি আমাকে পাঠ করার সুযোগ দেন তবে আমি সবচেয়ে বেশী খুশী হব। বাদশাহ সে সুযোগ দিলেন। ইবনে সিনা লাইব্রেরীর সব বই মুখস্থ করে ফেলেন।মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি জ্ঞানের সকল দিক ও বিভাগে অসামান্য পান্ডিত্য অর্জন করেন।

তিনি বিজ্ঞান, দর্শন, ইতিহাস, অর্থনীতি, রাজনীতি, গণিত, জ্যামিতি, ন্যায়শাস্ত্র, খোদাতত্ত্ব, চিকিৎসা বিজ্ঞান, কাব্য ও সাহিত্য বিষয়ে অসীম জ্ঞান লাভ করেন। ২১ বছর বয়সে তিনিআল মুজমুয়া নামে একটি বিশ্ব কোষ রচনা করেন। এর মধ্যে গণিত ছাড়া সকল বিষয় লিপিবদ্ধ করেন।ইবনে সিনার পিতা আবদুল্লাহ ইন্তেকাল করেন ১০০১ সালে

এ সময ইবনে সিনার বয়স ছিল ২২ বছর। পিতার মৃত্যুর পর তার জীবনে শুরু হয় রাজনৈতিক দুর্যোগ। তিনি সকলের অনুরোধ পিতার পদে বসেন। কিন্তু তিনি বেশী দিন খোরাসানে শাসনকর্তার পদে থাকতে পারলেন না। গজনীর সুলতান মাহমুদ খোরাসান দখল করে নেন।ফলে ১০০৪ খৃষ্টাব্দে তিনি খাওয়ারিজমে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন। এ সময় খাওয়ারিজমের বাদশাহ ছিলেন মামুন বিন মাহমুদ।ইবনে সিনা সেখানে ১০১০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত নির্বিঘ্নে কাটান।

ইবনে সিনার সুখ্যাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়লে গজনীর সুলতান মাহমুদ জ্ঞানী গুনীদের খুব পছন্দ করতেন। তিনি তাদের সম্মানে তার দরবারে স্থান দিতেন। তিনি পন্ডিত লোকদের মনিমুক্তা উপহার দিতেন।সুলতান মাহমুদ ইবনে সিনার ৪০টি প্রতিকৃতি তৈরী করে সমগ্র ইরান ও এশিয়া মাইনরের রাজাদের কাছে পাঠান।

ইবনে সিনাকে যেন গজনীতে পাঠানো হয় সেজন্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেন।খাওয়ারিজমের বাদশাহ মামুন বিন মাহমুদরে কাছেও সুলতান মাহমুদের লোক এল। তার কাছে সুলতানের পত্র হস্তান্তর করা হল। পত্রে পরোক্ষভাবে নির্দেশ দেয়া হয়।ইবনে সিনা ছিলেন স্বাধীন চেতা। তাঁর আত্ম মর্যাদাবোধ ছিল প্রবল।

তিনি ধন সম্পদের লোভ করতেন না। বরং জ্ঞান অর্জনই ছিল তার জীবনের লক্ষ্য। তিনি সামান্য টাকা পয়সার বিনিময়ে মান সম্মান ও স্বাধীনভাবে চলাফেরার অধিকার বিকিয়ে দিতে রাজী ছিলেন না।তিনি অন্যায় ভাবে কারো কাছে মাথা নত করতে জানতেন না। গজনীর সুলতান মাহমুদ সেযুগে মহাপ্রতাপশালী বাদশাহ ছিলেন।

তার দৌর্দান্ত প্রতাপে অন্যান্য রাজা বাদশাহগণ পর্যন্ত থরহরি কম্পমান থাকতেন। তাই গজনীতে গেলে হয়তো স্বাধীনভাবে মর্যাদার সাথে চলাফেরা করতে পারবেনা- এই ভয়ে ইবনে সিনা সেখানে যেতে চাননি।

খাওয়ারিজমে থাকা নিরাপদে নয় ভেবে তিনি ১০১৫ খৃষ্টাব্দে অনিশ্চিত পথে যাত্রা শুরু করেন।প্রথমে আবিওয়াদি, পরে তুস, নিশাপুর ও শেষে গুর