খালেদা জিয়ার কিছু হলে দায়ভার সরকারের : ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন

0

ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) নেতারা বলেছেন, কারাবন্দী বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এত অসুস্থ যে তিনি কারো সাহায্য ছাড়া চলাফেরা, খাওয়া দাওয়া এমনকি শরীরের তীব্র ব্যথার কারণে ভালোভাবে ঘুমাতে পারেন না।

যেকোনো সময় তার শারীরিক পঙ্গুত্ব হয়ে যেতে পারে। আমরা আশা করি আদালত তাকে তার প্রাপ্য জামিন দিয়ে মুক্ত পরিবেশে তার পছন্দমত হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়ার সুযোগ দেবে। অন্যথায় চিকিৎসক সমাজ আপামর জনগণকে সাথে নিয়ে দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলন গড়ে তুলবে।

বুধবার (৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ড্যাব ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই হুশিয়ারি উচ্চারণ করেন। এতে লিখিত বক্তব্য দেন ড্যাব ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি ডাঃ সরকার মাহবুব আহমেদ শামীম।

তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে

Highly Active Deforming, Rheamatoid arthritis, Uncontrolled Diabetes Mellitus, Hypertension, Adhesive capsulitis, Recurrent hyponatraemia and Aneamia রোগে ভুগছেন।

এমতাবস্থায় তিনি জেলখানায় সঠিক চিকিৎসা না পাওয়ায় এবং স্বাভাবিক পরিবেশ না থাকায় উক্ত রোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতা দেখা দিয়েছে। যেমন- Rheumatoid arthritis, Diabeties রোগের কারণে তার Bilateral frozen shoulder, flexion deformities of both elbows, Wrist,

Metacarpophalangeal (MCP) joint and Proxima interphalangeal (PIP) joint, Cervical spondylosis, Lumber spndylosis with Radiculopathy, Bilateral Carpal Tunnel Syndrome, Sjogren’s Syndrome.

উক্ত জটিলতার কারণে তার হাত এবং পায়ের ছোট ছোট জয়েন্টগুলোসহ শরীরের ভিবিন্ন জয়েন্ট ফুলে গেছে এবং তাতে তীব্র ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে যার কারনে জয়েন্টগুলি Stiff (শক্ত) এবং deformed (বাঁকা) হতে চলেছে যা কিনা অচিরেই স্থায়ী রুপ ধারন করতে পারে এবং যার কারণে বেগম খালেদা জিয়া বর্তমানে অন্যের সাহায্য ছাড়া চলাফেরা,

ওঠাবসা এমনকি নিজ হাতে খাবার পর্যন্তও খেতে পারছেন না। ডাঃ শামীম বলেন, গত পরশু দিন (সোমবার) ডাক্তাররা বেগম খালেদা জিয়ার ওজন মাপতে বারবার চেষ্টা করেছেন কিন্তু তীব্র ব্যথায় তিনি বিছানা থেকে নামতে পারেননি। তাছাড়া তিনি ব্যাথার কারণে ঘুমাতেও পারছেন না ভালোভাবে।

ভয়ঙ্কর ব্যাপার হলো ওনার ডান পায়ে একটি গুটি উঠেছে যাকে মেডিকেল সায়েন্সের ভাষায় Rheumatic nodule বলে যা highly tender বা স্পর্শ করা মাত্রই তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।যেটি পরবর্তীকালে vasculitis কিংবা gangrene এ পরিণত হতে পারে।

তিনি বলেন, ১৯৯৯ সাল থেকে বেগম জিয়া Methotrexate নামক একটি ওষুধ Rheumatoid Arthritis জন্য খাচ্ছেন যা কিনা লিভার, কিডনিসহ রক্তের সকল সেল কমিয়ে দিয়ে pancytopenia নামক ভয়ংকর এক অবস্থার সৃস্টি করতে পারে ।

তাছাড়া ম্যাডামের ডায়াবেটিস কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না কারণ একটা ছোট বদ্ধ ঘরে এত দিন হাঁটা-চলার সুযোগ পাননি। Sjogren syndrome কারণে চোখ শুকিয়ে যায় তাই দিনে কিছুক্ষণ পরপর artificial tear দিতে হয় ।

ডাঃ শামীম আরো বলেন, আমরা জানি যে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) সংজ্ঞা অনুযায়ী স্বাস্থ্য মানে হলো- কোনো ব্যক্তির Physical, Mental, Spiritual wellbeing. কিন্তু উপরোক্ত তিনটি উপাদানের কোনো একটিও বেগম খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে প্রতিপালিত হচ্ছে না বিধায় দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ভীষণ অসুস্থ

এবং যথাযথ চিকিৎসা না পেলে যে কোনো সময় তার শারীরিক স্থায়ী পঙ্গুত্ব এবং ডায়াবেটিস ও হৃদরোগ জনিত বড় ধরনের জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে। তিনি বলেন, আমরা দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে চাই যে এরকম পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তার দায়ভার সম্পুর্ণরুপে সরকারের, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকবৃন্দ ও সরকারকেই বহন করতে হবে। খালেদা জিয়াকে বন্দী করে বিনা চিকিৎসায় আপনি অমানবিক কষ্ট দিচ্ছেন।

তার প্রতি এই নিষ্ঠুরতা বিশ্বের স্বৈরশাসকরা যে আচরণ করে সেই আচরণেরই সমতুল্য। তাই আমরা ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি যে,

জটিল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ার আগেই দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক দ্বারা তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক এবং মেডিকেল রিপোর্ট মোতাবেক যে কোনো স্বাধীন বিচার ব্যাবস্থায় এই ধরনের মামলায় জামিন হয়। আমরা তার জামিনের আবেদন করছি।

সুত্র: insaf24.com