আমরা নিজ দেশে পরাধীন হয়ে পড়েছি – কর্ণেল (অব.) অলি

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর লেডিস ক্লাবে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির উদ্যোগে রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গের সম্মানে ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয় -সংগ্রাম

স্টাফ রিপোর্টার : স্বৈরাচারমুক্ত দেশ গড়তে সবার সহযোগিতা চেয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি এলডিপি সভাপতি কর্ণেল অবসরপ্রাপ্ত অলি আহমেদ। তিনি বলেছেন, আজ আমরা নিজের দেশে পরাধীন। আদালতের মাধ্যমে গলাটিপে ধরা হচ্ছে। উন্নয়নের নামে লুটপাট করা হচ্ছে।

দেশের ৭৬ ভাগ শিক্ষার্থী যৌন হয়রাণির শিকার। দাম না পেয়ে কৃষক ধান পোড়াচ্ছে। দেশের আইন-শৃঙ্খলা ক্রমেই অবনতির দিকে যাচ্ছে। আগামি ২/৩ মাসে অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি হবে জানিয়ে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, ডলারের বিপরীতে টাকার দাম পড়ে গেছে। অবস্থা যদি তুরস্কের মত হয় তাহলে বোঝা যাবে দেশ কোন দিকে যাচ্ছে।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর লেডিসক্লাবে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সম্মানে দেওয়া ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এতে ২০ দলের শীর্ষ নেতারা অংশ নেন। সভাপতিত্ব করেন দলের মহাসচিব ড. রেদওয়ান আহমেদ।

২০ দল ভাঙ্গার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে জানিয়ে কর্নেল অলি বলেন, দেশকে বাঁচানোর জন্য প্রেসক্লাবে দায়িত্ব নেওয়ার প্রস্তুাব দিয়েছিলাম। সে কথায় আজও আছি। কোন রকম লোভে সেকথা বলিনি। দেশকে বাচানোর জন্য যুদ্ধ করেছিলাম। আজও যে কাজ করবো দেশের উন্নয়নকে বাধাগ্রস্ত করতে নয়।

তিনি বলেন, আমাদের মধ্যে কিছু লোক আছেন,তারা নিজেকে খালেদা জিয়ার চেয়ে বড় নেতা মনে করেন। এসব নেতা দিয়ে খালেদা জিয়ার মুক্তি আসবে না। আমরা কেবল খালেদা জিয়ার কথাই বলছি। কিন্তু আমাদের লক্ষাধিক কর্মী জেল খাটছেন। তাদের চিন্তা করছি না।

কয়েক লাখ মানুষ মামলার জালে বন্দী তাদেরকেও মামলা মুক্ত করতে হবে। সেইসাথে দেশের ১৮ কোটি মানুষকে ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। আমি মনে করি সৎ পথে থাকলে আল্লাহ সহায় হবেন। স্বৈরাচার, দুর্নীতি যৌন হয়রানি এবং মাদকমুক্ত দেশ গঠনে সবার সহযোগিতা চান ২০ দলের এই নেতা।

আওয়ামী লীগের উন্নয়নের সমালোচনা করে অলি বলেন, আওয়ামী লীগের উন্নয়ন হলো ৭৬ ভাগ শিক্ষার্থী যৌন হয়রাণির শিকার। কৃষক ধান পোড়ায়, মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে লুটপাট।

দেশে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর অবস্থার অবনতি হচ্ছে। আইনের শাসন নাই। কয়েকজনকে ঘরে বন্দি করে গুলি করে হত্যা করে বলা হচ্ছে জঙ্গি দমন করছি। আর কেউ না দেখুক আল্লাহতো দেখছেন। প্রাকৃতিকভাবেই এর একটি প্রতিক্রিয়া হবে।

আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে কিছু বলা যাবে না উচ্চ আদালতের এমন নির্দেশনার কথা উল্লেখ করে বলেন, আদালতের মাধ্যমে গলাটিপে ধরা হচ্ছে। আমরা নিজের দেশে পরাধীন।

আলোচনায় অংশ নিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ডা. মো.শফিকুর রহমান বলেন, বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া এবং বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর শীর্ষ নেতা আল্লামা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীসহ আরও অনেক রাজনৈতিক নেতা প্রতিহিংসার শিকার হয়ে কারাগারে বন্দী আছেন। কার্যত গোটা দেশকে কারাগারে পরিণত করা হয়েছে। দেশের মানুষকে ভোটের অধিকার এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

বর্তমান সরকার মধ্য রাতে নির্বাচন করে নির্বাচনী ক্যুর মাধ্যমে ক্ষমতায় বসে আছে উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণ সংগ্রামের জন্য প্রস্তুত আছে। জাতীয় নেতৃবৃন্দকে নেতৃত্ব দিতে হবে। তাহলে জনগণ গর্জে ওঠবে। তিনি বলেন, এখন বক্তৃতা দেওয়ার সময় নয়; আমল (কাজ) করার সময়।

তিনি বলেন, আমি অনুরোধ জানাই মজলুম নেতৃবৃন্দ এবং জনগণের মুক্তির জন্য আসুন নতুন করে যুদ্ধে নামার শপথ নেই। অতীতে আমরা পেরেছি। আবারো পারবো আমাদের পারতেই হবে।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেন, খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে যা করা দরকার ছিল বিএনপি তা করতে পারেনি। তবে এই দেশের জনগণ তাতে দমে যাওয়ার নয়। তারা শুধু সুযোগ খুঁজছে। একটা কথাই বলবো ২০ দলকে দাবিয়ে রাখা যাবে না।

এলডিপির ইফতার মাহফিলে ২০ দলের অন্য নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান, শওকত মাহমুদ, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আ.হালিম,

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম ভূইয়া, ড.মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরা সদস্য আ.রহমান মুসা, লস্কর মুহাম্মাদ তাসলিম, এনপিপির চেয়ারম্যান ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমদ আবদুল কাদের, বিএনপি নেতা গোলাম মাওলা রনি, লুৎফর রহমান এমএম আমিনুর রশিদ, জামায়াতে ইসলামীর এডভোকেট কামাল উদ্দিন,হাতিরঝিল থানা আমীর আতাউর রহমান সরকার প্রমুখ।

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে