আফগানিস্তানে আমেরিকার পরাজয়ের জন্য পাকিস্তান দায়ী নয়’

0

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, আফগানিস্তান যুদ্ধে আমেরিকার পরাজয়ের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করা উচিত নয়। তিনি আজ রাশিয়ার নিউজ চ্যানেল রাশা টুডে’কে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ মন্তব্য করেন।

২০০১ সালে ইঙ্গো-মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান দখল করার পর থেকেই তেহরিকে ইনসাফ পাকিস্তান দলের প্রধান হিসেবে ইমরান খান ওই আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়ে আসছিলেন। তিনি আফগানিস্তানে আমেরিকার যুদ্ধে পাকিস্তান সরকারের জড়িত হওয়ারও ঘোর বিরোধিতা করেন।

আফগানিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে মার্কিন সেনারা
রাশা টুডেকে আজ ইমরান খান বলেন, আফগানিস্তানে মার্কিন আগ্রাসনে যোগ দিয়ে পাকিস্তানের মস্তবড় ক্ষতি হয়েছে। আফগান যুদ্ধের কারণে হাজার হাজার পাকিস্তানি নাগরিক নিহত হয়েছে এবং দেশটির অবকাঠামোর অপূরণীয় ক্ষতি হয়েছে। পাক প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ অবস্থায় ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে আফগানিস্তান যুদ্ধে পরাজয়ের জন্য ইসলামাবাদকে দায়ী করা হবে মারাত্মক অন্যায়।

ইমরান খান বলেন, আমেরিকা আফগানিস্তানে আগ্রাসন চালিয়ে তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি।

সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের নামে আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলো ২০০১ সালে আফগানিস্তান দখল করে। কিন্তু গত ১৮ বছরের যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী আফগানিস্তান থেকে সন্ত্রাসবাদের মূলোৎপাটন এবং দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। উল্টো এই দেড় যুগে আফগানিস্তানের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। আফগানিস্তানের জনগণ বহু বছর ধরে তাদের দেশ থেকে দখলদার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে আসছেন।

আরো সংবাদ

কাপুরুষরাই নিপীড়ন চালায়, মোদিকে ইমরান

আবারো কাশ্মিরের জনগনের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, কাশ্মির ইস্যু আজ আন্তর্জাতিক রূপ লাভ করেছে। আর ভীরু মোদি কাশ্মিরে নির্যাতন চালাচ্ছেন। শুক্রবার আজাদ কাশ্মিরের রাজধানী মুজাফফরাবাদে এক সংহতি সমাবেশে তিনি একথা বলেন।

ইমরান বলেন, আমি নিজেকে কাশ্মিরী জনগনের দূত হিসেবে উপস্থাপন করেছি কারণ- আমি একজন পাকিস্তানি, একজন মুসলমান ও সর্বোপরি একজন মানুষ। কাশ্মির ইস্যু এখন একটি মানবিক সঙ্কট।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সমালোচনা করে ইমরান খান বলেন, জনগনের বিরুদ্ধে এমন নিষ্ঠুরতা শুধুমাত্র ভীরুরাই চালাতে পারে। আজ ৯ লাখ ভারতীয় সেনা অধিকৃত কাশ্মিরের জনগনের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালাচ্ছে। কোন সাহসী লোক এমন করতে পারে না। তবে যত অন্যায়ই করুন না কেন, আপনি সফল হতে পারবেন না। কারণ কাশ্মিরের মানুষরা মৃত্যুকে ভয় পায় না।

ইমরান খান বলেন, আমাদের সবার জানা উচিত যে নরেন্দ্র মোদি ছোটবেলা থেকেই আরএসএসের সদস্য। এটি একটি হিন্দুত্ববাদী উগ্রবাদী গ্রুপ। তারা মুসলমান, খৃষ্টানসহ সব সংখ্যালঘুদের ঘৃণা করে। তারা হিটলারের নাৎসী পার্টির মতো আচরণ করছে, যে দলটি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে নৃশংসতা চালিয়েছিল।

ইমরান খান বলেন, কাশ্মির ইস্যুত আজ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পৌছে গেছে। জাতিসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদ গত ৫০ বছরের মধ্যে এই প্রথম কাশ্মির নিয়ে বৈঠক করেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রথমবারের মতো কাশ্মির ইস্যু জাতিসংঘ প্রস্তাব অনুযায়ী সমাধানে দাবি জানিয়েছে। ওআইসি বলেছে, ভারতকে অবশ্যই কাশ্মির থেকে কারফিউ তুলে নিতে হবে।

ইমরান আরো বলেন, ব্রিটেনের ৪০ জনেরও বেশি এমপি কাশ্মির নিয়ে কথা বলেছেন। মার্কিন সিনেটররা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে কাশ্মির ইস্যুতে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছে চিঠি লিখেছেন। আমি জাতিসঙ্ঘের সাধারণ অধিবেশনে যাচ্ছি। সেখানেও কাশ্মিরের জনগনের পক্ষে কথা বলবো।

সকল আন্তর্জাতিক ফোরামে কাশ্মির প্রসঙ্গ তোলার অঙ্গীকার করেন ইমরান খান