রাজধানীর মোহাম্মদপুরে নির্মাণ করা হলো আল্লাহর ৯৯ নামের স্তম্ভ

0

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে মহান আল্লাহর ৯৯ নাম সংবলিত দৃষ্টিনন্দন স্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে। মোহাম্মদপুর বাস স্ট্যান্ডে নির্মিত স্তম্ভটির নাম দেয়া হয়েছে ‘দ্য গ্লোরি অব বঙ্গবন্ধু’। স্তম্ভটি খুব শিগগির উদ্বোধন করা হবে বলে জানা গেছে।

ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন ৩৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তারেকুজ্জমান রাজিবের উদ্যোগে এটি নির্মাণ করা হয়।

রায়েরবাজারে দেশের সর্ববৃহৎ কবরস্থান নির্মাণ করে দেয়ায় মোহাম্মদপুরবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উপহারস্বরূপ এই স্তম্ভটি নির্মাণ করেছেন বলে জানিয়েছেন কাউন্সিলর তারেকুজ্জমান রাজিব।

কাউন্সিলর রাজিব বলেন,মোহাম্মদপুর ঐতিহ্যগতভাবেই একটি মুসলিম নাম। আল্লাহর কাছে আমি শুকরিয়া আদায় করছি যে, আমি এই ওয়ার্ডের প্রতিনিধিত্ব করতে পারছি।

আরো সংবাদ

‘ইসলাম আমাকে অপরাধ-জীবন থেকে রক্ষা করেছে’

নীল চোখের শ্মশ্রুমণ্ডিত প্রৌঢ়-ব্যক্তি। নাম রবি মায়েস্ত্রেসি। আট বছর আগে ইসলাম গ্রহণ করেছেন। এর আগে তার জীবন কেটেছে অপরাধ-জগতের অন্ধকারে। নতুন জীবনে তার অভিষেক কেমন ছিল, পরবর্তীকালে কোনো বিপত্তির মুখোমুখি হয়েছেন কিনা—এসব নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার বহু সাংস্কৃতিক ও বহুভাষিক সংবাদমাধ্যম এসবিএসডটকম.এইউর সঙ্গে দীর্ঘ আলাপ করেছেন। বাংলানিউজের পাঠকদের তার সেই আলোচনার সংক্ষিপ্ত অনুবাদ।

জন্ম ও বেড়ে ওঠা

আমার জন্ম ১৯৮১ সালে। অস্ট্রেলিয়ার ব্রিসবেনে। আমি যখন সাত বছর বয়সে, তখন আমরা আমেরিকায় চলে আসি। আমার বাবা-মা আলাদা হয়ে গিয়েছিলেন।

বাবা তখন নুমিয়া ও নিউ ক্যালেডোনিয়ায় হোটেল-ব্যবসায় জড়িত ছিলেন। আর আমেরিকায় মায়ের কিছু বন্ধু-বান্ধব ছিল। আমরা ছুটিতে গিয়েছিলাম। মায়ের তখন একটি কাজ জুটেছিল। কিছুদিন পর মা পুনরায় বিয়ে করেন।

আমরা নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে থাকতাম। আশ্চর্যজনক হলেও সত্য যে, তখন টিভিতে দেখা অভিনয়ের মতো কিছু ঘটছিল। বাচ্চারা সবাই কেমন ক্ষিপ্ত-মাতাল ও উন্মত্ত হয়ে যাচ্ছিলো। এটি হয়তো অনেক আনন্দের ছিল। তবে ‘ভুল ধরনে’র আনন্দ ছিল।

ধর্ম আমার বেড়ে ওঠার অংশ ছিল। এখনো মনে পড়ে, আমি যখন ছোট ছিলাম তখন মা আমাকে প্রার্থনা করতে উত্সাহ দিতেন। তিনি আমাকে গির্জায় নিয়ে যেতেন। কখনো কখনো আমরা ক্যাথলিক কোনো গির্জার কাছে যেতাম। আবার কখনো পেন্টিকোস্টালে যেতাম।

আলী কাদরি, ইমাম উজাইর ও রবি মায়েস্ত্রেসি। ছবি: সংগৃহীততবে আমার যাওয়ার বয়স না হওয়া মাত্রই আমি যাইনি। আমি যুবক থাকাকালীন প্রার্থনা করা বা এখানের বাইরে কিছু নিয়ে ভেবেছি—এমন কথা মনে করতে পারছি না।

আমার যখন ১৬ বছর বয়স, তখন আমরা অস্ট্রেলিয়ায় ফিরে আসি। মা তখন বলেননি আমরা আমেরিকা থেকে কেন ফিরে যাচ্ছি। তবে আমি মনে করি, ফিরে যাওয়ার কারণ ছিলাম আমি নিজেই। কেননা, ভবঘুরে হয়ে আমি যেসব ছেলেপুলের সঙ্গে চলছিলাম, সেটা আমার ভুল পথ ছিল।

আম্মু আমাকে বললেন, আমরা ছুটি কাটাতে অস্ট্রেলিয়ায় আসছি। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল যে, এটা শুধু যাওয়ার টিকিট ছিল। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে, আমাকে এখান থেকে সরিয়ে নেওয়াই তার একমাত্র উপায়।

মন্দ-অপরাধের গহ্বরে আমার হারিয়ে যাওয়া

কয়েক বছর ধরে আমি ঘোরাফেরা করেছিলাম। আমার বন্ধুদের সঙ্গে আমেরিকায় ফিরে যেতে চেয়েছিলাম। না পেরে আমি তখন সত্যিই খুব হতাশাগ্রস্ত হয়ে গিয়েছিলাম। কারণ আমি এখানকার স্কুলে যাওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু সিস্টেম ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। তালিকাভুক্তির ছয় মাসের মধ্যেই আমি বাদ পড়ি।

আমি মার্কেটিংয়ের একটি কাজ পেয়েছিলাম। ঘরে ঘরে গিয়ে কাজটি করতে হতো। কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই স্কুল ছেড়ে এ ধরনের কাজে লেগে গিয়েছিলাম। পরে আমি একটি ব্যাংক ও সেন্টারলিঙ্কে কাজ করেছি। এই দুইটি ভালো কাজ ছিল। তবে বিনোদনমূলক মদ্যপান আমার জীবন-পটভূমিতে সবসময় ছিল। সাপ্তাহিক ছুটিতে বাইরে গিয়ে আমি পার্টি করতাম।

একটি বিষয় আমি পর্যবেক্ষণ করেছি, বিনোদনের জন্য আপনি যখন ড্রাগ নেবেন, তখন এগুলো আপনার জীবনে কিছু একটা ঘটিয়ে বসেব। আবার এগুলো বিনোদনমূলকও আর থাকে না।

আমার সমস্যা ছিল যেখানে

২২ বছর বয়সে আমি বিয়ে করেছিলাম। আমি আমার বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালীন সারাটা সময় ড্রাগ নিয়েছি। এমনকি যখন অনুষ্ঠান শেষ হয়েছে, তখনও আমি মদপান করেছি। তখন আমি পুরো নাকাল হয়ে গিয়েছিলাম। আমার মনে হচ্ছিলো, আমি প্রচলিত জীবনে ব্যর্থ হয়েছি। জীবনটা ভালোভাবে উপভোগ করতে ও কাটাতে পারি না। তখন মাদক ও অপরাধ আমার নিত্যসঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আমি নিজেকে হারিয়ে ফেললাম। খারাপ, অসাধু কাজ ও অপরাধে হারাতে থাকি নিজের অস্তিত্ব। অপরাধ-জগতের উদাহরণ হয়ে উঠি আমি। ড্রাগ-সম্পৃক্ত যেকোনো কিছুতে নিজেকে জড়ানো ছিল আমার জন্য স্বাভাবিক। সুন্দর ও আনন্দের জীবন কাটানো আমার জন্য অসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়। জীবন নিয়ে আমি তৃপ্ত ও খুশি হতে পারছিলাম না।

২০০৭ সালে আমি গ্রেফতার হই। মাদকসংক্রান্ত অপরাধের জন্য আমাকে ১০ মাসের কারাদন্ডে দেওয়া হয়। সত্যি কথা বলতে, সেই সময়টা আমার জন্য খুব ভালো ছিল।

ব্রিসবেনের হল্যান্ড পার্কের এ মসজিদে রবি অনেক সময় কাটিয়েছেন। ছবি: সংগৃহীতগ্রেফতারের সময় আমার শরীর- স্বাস্থ্য ভালো ছিল না। কারণ আমি টানা দুই-তিন রাত জেগে থাকতাম। কখনো কখনো এরচেয়ে বেশিও হতো। পার্টি-ফূর্তি ইত্যাদিতে লিপ্ত থাকতাম। ভালো করে খাওয়া-দাওয়া করতাম না। কিন্তু যখন গ্রেফতার হলাম, তখন ঠিকমতো খাবার ও ঘুম পেয়ে আবার সুস্থ হয়ে উঠতে এটি আমার জন্য আশীর্বাদ ছিল।

জেল-জীবন আমার চোখ খুলে দেয়। কিন্তু যখন কারাগার থেকে বের হলাম, তখন আমি সরাসরি আগের অন্ধকার জগতে ফিরে যাই। সামান্য বিরতিও নেইনি। এক মুহূর্তও আমার মনে হয়নি যে, আমি এদের সঙ্গে চলিনি। কারণ এই লোকদের সঙ্গেই ঠিক আগে আমি একই কাজ করে এসেছি।

পুরোনো অভ্যাস পরিবর্তন

কখনো আমার মতো মানুষদের জীবনে ভিন্নতা দেখা দেয়। আমি এই অঙ্গনে খারাপ কাজে আসক্ত থাকার পর নিজের আধ্যাত্মিক যত্ন-চর্চায় আগ্রহী হয়ে উঠি। নিজের ব্যক্তিত্ব ও আমার চরিত্রের প্রতি নজর দিতে শুরু করি। বুঝতে পেরেছিলাম যে, আমি নিজের কাছে সবচেয়ে খারাপ সংস্করণে পরিণত হয়েছি।

আমি পুরোনো অভ্যাসগুলো পরিবর্তন করতে শুরু করি। নিজের কাছে এবং অন্যান্য মানুষের সঙ্গে সৎ হয়েই এমনটা আরম্ভ করি। আমি গোল্ড কোস্টের ব্যাপটিস্ট গির্জায় যাওয়া শুরু করি। এই অঞ্চলের অভাবীদের পানাহার করানো সঙ্গে নিজেজে জড়িত করি। বৃহস্পতিবার দুপুরে খাবার রান্না করে তাদের জন্য নিয়ে যেতাম। এই জাতীয় কাজগুলো করে আমি বুঝতে পারছিলাম যে, নিজেকে পরিবর্তন করা এত কঠিন নয়। আমি চাইলে পরিবর্তন করতে পারবো।

যেসব লোক ধর্মানুরাগী এবং সৎনিষ্ঠ কাজে জড়িত—তাদের সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করা আমার জন্য ভালো দিক ছিল। কেননা আমি ধর্মহীন যাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম, তারা একে অপরের প্রতি সত্যই খারাপ-মন্দ আচরণ করতো। মাদকাসক্তি, মাদক বিক্রি, মাদক ও লেনদেন সংক্রান্ত কাজের জন্য একে অপরের আর্থিক এবং বিভিন্ন ক্ষতি করার অভ্যস্ত ছিল। মূলত এটি ছিল ‘নিকষ আঁধারির মাঝে আলো হারিয়ে যাওয়া’।

আমি ইশ্বরের প্রতি বিশ্বাসী ছিলাম। কিন্তু ধর্মতাত্ত্বিকভাবে আমি খ্রিস্ট