সাকিবকে ২ বছর নিষিদ্ধ করেছে আইসিসি

0

বাংলাদেশ জাতীয় দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসানকে দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আইসিসি।

তিনবার ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েও তা না জানানোয় তার বিরুদ্ধে এ শাস্তির ব্যবস্থানিল বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রণসংস্থা।

২০১৮ সালে ঢাকায় ত্রিদেশীয় সিরিজ ও আইপিএলে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য জুয়াড়ির কাছ থেকেপ্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব। কিন্তু বিষয়গুলো অবহেলা করে আইসিসিকে না জানানোয় তাকে এ শাস্তি দেয়া হয়।

তবে এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করতে পারবেন সাকিব। আপিলে তার বক্তব্য যদি আইসিসি সন্তুষ্ঠ হয় তাহলে তার এ শাস্তির মেয়াদ এক বছর কমতে পারে।

এ ব্যাপারে মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, সাকিবেরসঙ্গে যখন যোগাযোগ করেছিল ও গুরুত্ব দেয়নি, আইসিসিকে জানায়নি। নিয়ম হল সঙ্গে সঙ্গে জানানো। এখন আইসিসি যদি ব্যবস্থা নেয়, খুব বেশি কিছু তো আমাদের করার থাকে না।

প্রধানমন্ত্রী আরওবলেন, একটা ভুল সে করেছে এটা ঠিক, এটা সে বুঝতেও পেরেছে। বিসিবি বলেছে তার পাশে থাকবে।

আরো সংবাদ

২ বছরের জন্য নিষিদ্ধ হলেন বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান

সাকিব আল হাসানের কারণে ১০০ কোটি টাকা ক্ষতি হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)। ক্রিকেটারদের ধর্মঘট চলাকালীন গ্রামীণফোনের সঙ্গে চুক্তি করেন তিনি। মূলত এ কারণেই লোকসান গুনতে হচ্ছে বোর্ডকে। খোদ বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন এ দাবি করেছেন।

তিনি বলেন, অতীতে দেখা গেছে, খেলোয়াড়রা আলাদা চুক্তি করলে বোর্ড স্পন্সরশিপ পায় না। তাই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, কোনো ক্রিকেটার টেলিকম কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না। অন্য কোথাও চুক্তি করলে সেটাও বোর্ডকে জানাতে হবে। আর চুক্তি করতে না দেয়া হলে খেলোয়াড়দের ক্ষতিপূরণও দেয়া হয়।এছাড়া কোম্পানিগুলোকেও বলে দেয়া হয়েছে কারও সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না।

তিনি বলেন, আমরা আগামী বছর দলের স্পন্সরশিপ বিক্রি করব। আমরা চেয়েছিলাম, তাতে অংশ নিক টেলিকম কোম্পানিগুলো। এখন তো তারা আসবে না। কারণ, এরই মধ্যে সাকিবের সঙ্গে চুক্তি করে ফেলেছে একটি কোম্পানি। এতে সে ২/৩ কোটি টাকা পাবে। অন্যদিকে বোর্ড কমপক্ষে ১০০ কোটি টাকা হারালো।

এতে অন্য খেলোয়াড়রা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উল্লেখ করে পাপন বলেন, এটা সাকিব আইনগতভাবে পারে না। তার সঙ্গে চুক্তিতে পরিষ্কার লেখা আছে, বোর্ডের অনুমোদন ছাড়া কোনো কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি করতে পারবে না সে। এজন্য জবাব চেয়ে তাকে চিঠি দেয়া হয়েছে। তাতে খেপে গেছেন এক বোর্ড পরিচালক। উনি বলেন- এটা কেন করলেন? করা ঠিক হলো? তো কি করব, সাকিবকে ছেড়ে দেব?

তিনি বলেন, সাকিব যদি ১০০ কোটি টাকা পেতো তাও একরকম ছিল। সে তো পেয়েছে মাত্র ২/৩ কোটি। আর আমাদের এত টাকা লোকসান করে দিল? এটা হতে পারে না।

২ বছর আগে চিহ্নিত জুয়াড়ির কাছ থেকে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের প্রস্তাব পেয়েছিলেন সাকিব। সেটি গ্রহণ না করলেও চেপে যান তিনি। সেই অপরাধে ১৮ মাস আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় পড়তে পারেন বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার।