মুজিবুর রহমান মঞ্জু বহিষ্কৃত নন: জামায়াত

দলের সংস্কার চাওয়ায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন বলে নিজেই জানান ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি মুজিবুর রহমান মঞ্জু। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেলের টক-শো’তেও এ তথ্যটি দেন তিনি। এ পরিপ্রেক্ষিতে নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের উদ্যোগ নেন শিবিরের এই সাবেক নেতা।

অবশ্য মঞ্জুকে বহিষ্কারের ক’দিন আগে জামায়াত থেকে পদত্যাগ করে ব্যাপক আলোচনা তৈরী করেন ইংল্যাণ্ড প্রবাসী নেতা ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক।
তবে, ১৪ এপ্রিল রোববার জামায়াতের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মাওলানা আব্দুল হালিম চেঞ্জ টিভি.প্রেসকে জানান, ‘আমিরে জামায়াতের নির্দেশে মুজিবুর রহমান মঞ্জু’র সদস্য (রোকন) পদ বাতিল হয়েছে। কিন্তু সংগঠন থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়নি। তার প্রাথমিক সদস্যপদ এখনো আছে ।

যেহেতু তিনি বহিষ্কার হন নি, সুতরাং তিনি সংগঠনে এখনো কর্মী বা সমর্থক হিসেবে রয়েছেন। তবে সংগঠন তাকে বহিষ্কার না করার পরও তিনি নিজেকে বহিষ্কৃত দাবি করায় বিভ্রান্তি তৈরী হয়েছে।
মাওলানা আব্দুল হালিম আরো বলেন, ‘সংগঠন এবং সংগঠনের বাইরের মানুষের কাছে সহানুভূতি পেতেই মুজিবুর রহমান মঞ্জু নিজেকে বহিষ্কৃত হিসেবে দাবি করছেন। এর মধ্য দিয়ে জামায়াত বিরোধীদের কাছ থেকেও তিনি বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন।’

এ মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মুজিবুর রহমান মঞ্জু’র কাছে জানতে চাওয়া হয় যে, তিনি কেন নিজেকে বহিষ্কৃত দাবি করছেন ? উত্তরে মঞ্জু চেঞ্জ টিভি.প্রেসকে বলেন, ‘যেহেতু জামায়াত বলছে আমি নিজেকে বহিষ্কৃত দাবি করে অনৈতিক কাজ করেছি, তাহলে তারা এখন আমাকে কেন বহিষ্কার করছে না ? নিশ্চয় সদস্যপদ বাতিলের ওই আদেশই বহিষ্কার হিসেবে গণ্য করেছে তারা।

বরং তারা জামায়াতের জনশক্তির কাছে সার্কুলার জারি করেছে এই বলে যে, কেউ যেন আমার সঙ্গে যোগাযোগ না করে। তাহলে আমি নিজেকে বহিষ্কার ছাড়া আর কি ধরে নেবো? ’
প্রতিউত্তরে মাওলানা আব্দুল হালিম চেঞ্জ টিভি.প্রেসকে জানান, ‘যেহেতু মঞ্জু’র সদস্যপদ বাতিল করা হয়েছে, সুতরাং তার বিষয়ে সারাদেশের কর্মীবাহিনীকে একটি সাধারণ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মঞ্জু বহিষ্কৃত নন: জামায়াত। নিয়মের ব্যত্যয় হয়েছে: মঞ্জুএর মানে এই নয় যে, তিনি বহিষ্কৃত হয়েছেন। দলের শৃঙ্খলা ধরে রাখতেই এ নির্দেশনা। সংগঠনে এরকম অনেক উদাহারণ আছে যে, কারো সদস্যপদ বাতিল হবার পর তিনি আবার নিজের ভুল শুধরে সংগঠনের কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীল হয়েছেন। এক্ষেত্রে মুজিবুর রহমান মঞ্জু নিজেকে বহিষ্কৃত দাবি করে ভুল করেছেন।’

নতুন দল গঠন করার উদ্যোগের পরও মন্জুকে কেন বহিষ্কার করছেন না, এ প্রশ্নের জবাবে, মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, তিনি নিজেকে বহিষ্কৃত দাবি করে নিজেই সংগঠনের শৃঙ্খলার বাইরে কাজ শুরু করে প্রমাণ করেছেন যে, তিনি আর সংগঠনে নেই, সুতরাং এখন বহিষ্কার করা না করার আর গুরুত্ব নেই।

জামায়াতের সর্বোচ্চ ফোরাম নির্বাহী পরিষদের সদস্য এই সদস্য আরো বলেন, ‘মুজিবুর রহমান মঞ্জু এবং তার সহযোগীদের সঙ্গে সংগঠনের কর্মীদের যোগাযোগ করতে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, যাতে শৃঙ্খলা ভঙ্গ না হয়। এটি অমান্য করে কেউ যোগাযোগ রাখলে তার ব্যাপারে সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ীই সিদ্ধান্ত হবে।’
মুজিবুর রহমান মঞ্জু’র বিষয়ে একটি লিখিত বক্তব্যও হাতে এসেছে চেঞ্জ টিভি.প্রেস এর ।

সেটি হুবহু তুলে ধরা হলো:
‘জামায়াতের সদস্যপদ বাতিল একটি স্বাভাবিক সাংগঠনিক প্রক্রিয়া। সাধারণত কারও সদস্যপদ মুলতবি হলে সেটা প্রথমে তাকে জানানো হয় এবং তারপর সেটা কেন্দ্রের উপর ন্যস্ত করা হয়। কিন্তু আমার ব্যাপারে সে স্বাভাবিক প্রক্রিয়া মানা হয়নি। আমার সদস্যপদ মুলতবি করে আমাকে না জানিয়েই সাথে সাথে সারাদেশে সাংগঠনিক সার্কুলার জারি করা হয়েছে। মুলতবি করার স্বল্প সময়ের মধ্যে আমার সদস্যপদ বাতিল করেছে এবং আমাকে মুলতবি ও বাতিলের সংবাদ একসাথে জানানো হয়েছে।

সাধারণত জামায়াতের আমির কারো সদস্যপদ বাতিল করলে তাকে ডেকে ব্যক্তিগত সাক্ষাতের মাধ্যমে তা জানান। আমার ব্যাপারে সেটাও করা হয়নি। টেলিফোনে অন্য একজনকে দিয়ে জানানো হয়েছে। তার আগেই অবশ্য আমি সার্কুলারে বিষয়টি জেনেছি। এটা জামায়াতের ইতিহাসে নজিরবিহীন। জামায়াতের গঠনতন্ত্রে বহিষ্কারের কোন বিধান নেই, শুধু বাতিলের কথাই বলা আছে। কিন্তু যাদেরকে বহিষ্কার করা হয় তাদের সম্পর্কে আভ্যন্তরীন সার্কুলার দিয়ে সকলকে সর্তক করে দেওয়া হয়।

আমার ব্যাপারে তাই করা হয়েছে। কেউ যাতে আমার সাথে যোগাযোগ না রাখে সে বিষয়ে নজরদারি শুরু করে। আমি এ বিষয়ে জামায়াতের আমির বরাবর চিঠি দিলেও কোন জবাব বা প্রতিবিধান পাইনি। যেহেতু আমার ব্যাপারে এরকম লুকোচুরি ও নিয়মের ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছ, তাই আমি নিজেও সন্দিহান হই। ফলে আমার সদস্যপদ বাতিল ও বহিস্কারের বিষয়টি নিজেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জানিয়েছি।

আমার জানামতে, জামায়াত এ ব্যাপারে কোন অফিসিয়াল প্রতিবাদ বা ব্যাখ্যা দেয়নি। এমনকি আমাকে কেউ ফোন করে বা সাক্ষাৎ করে বলেনি যে, আমাকে বহিষ্কার করা হয়নি। অর্থাৎ তারা এটা যে করেছে তা সত্য। এখন এ অনিয়ম ও নজিরবিহীন প্রক্রিয়ার কারণে চাপে পড়ায় তাদের কেউ কেউ এরকম বিভ্রান্তিমূলক কথা বলছে যে, আমাকে বহিষ্কার নয়, বাতিল করা হয়েছে। বাতিল, জামায়াতের নিজস্ব পরিভাষা, যার বাংলা তরজমা বহিষ্কার বলে জানি।


এ বক্তব্য প্রসঙ্গে জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, ‘মুজিবুর রহমান মঞ্জু’র সদস্যপদটি দলের আমিরের নির্দেশে বাতিল হয়েছে, কিন্তু তিনি বহিষ্কৃত হন নি। তাছাড়া এখানে কোন নিয়মের ব্যত্যয়ও হয়নি।’
জামায়াতের সংস্কার প্রসঙ্গে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডাক্তার জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, ‘জামায়াতের সংস্কারপন্থীদেরও ক্ষমা চেয়ে রাজনীতিতে আসতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের দায় এড়িয়ে রাজনীতি করলে তা জাতি কখনোই মেনে নেবেনা।’

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে