জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত: রাজনৈতিক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া!

সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে জোটের পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন জোটটির নেতারা। ঐক্যফ্রন্টের এই যোগাযোগে সরকারবিরোধী দলগুলো ইতিবাচক সাড়া দিয়েছে।

এ প্রসঙ্গে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ঐক্যফ্রন্ট ঐক্যবদ্ধ থাকুক, এটাই সরকারি দলের প্রত্যাশা। একটি ঐক্যবদ্ধ শক্তিশালী বিরোধী দল গণতন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য ভালো। মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দলের যৌথ সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ঐক্যফ্রন্ট নিয়ে এমনই মন্তব্য ওবায়দুল কাদের। তিনি আরো বলেন, ‘শক্তিশালী দায়িত্বশীল বিরোধী দল আমরা চাই।

সংসদের ভেতরে ও বাইরে বিরোধী দল যথাযথ ভূমিকা পালন করবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ সংরক্ষিত নারী আসনে বিএনপির সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার পর রুমিন ফারহানা সংসদকে অবৈধ বলে মন্তব্য করেন। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘সংসদে এসে সংসদের বিরুদ্ধে বলুক। সরকারের বিরুদ্ধে বলুক।

এতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। তারপর সংসদে তো এসেছেন। সংসদ সদস্য হয়ে কীভাবে এই সংসদকে অবৈধ বললেন, তার মীমাংসা সংসদ অধিবেশনেই হবে।’ এর আগে, সোমবার ঐক্যফ্রন্টের ‘স্টিয়ারিং কমিটির’র এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর সৃষ্ট টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত বৈঠকে জোটের অনেক নেতা তাদের ক্ষুব্ধ মনোভাব প্রকাশ করেন।

ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির সদস্য ও জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রবের বাসায় অনুষ্ঠিত ঈদ-পরবর্তী বৈঠক শেষে আ স ম রব বলেন, সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে জোটের পরিধি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগও করেছেন জোটটির নেতারা।

তিনি আরও বলেন, ‘সরকারবিরোধী যত রাজনৈতিক দল আছে, সেসব দলকে নিয়ে বৃহত্তর ঐক্য গড়ার মাধ্যমে স্বৈরাচারী সরকারের হাত থেকে গণতন্ত্র উদ্ধারের আন্দোলন অব্যাহত রাখা হবে।’ এ প্রসঙ্গে বাম গণতান্ত্রিক জোটের সাবেক সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি সাইফুল হক রেডিও তেহরানকে বলেছেন, ‘৩০ জানুয়ারির নির্বাচনের তামাশার সংসদ বাতিল, নিরপেক্ষ তদারকি সরকারের অধীনে পুনর্নির্বাচনের ও ভোটাধিকার দাবিতে বাম জোট গণশুনানিও করেছে।

এসব দাবিতে আমাদের জোট ধারাবাহিক আন্দোলনে রয়েছে। আমরা অন্যদের বলেছি রাজপথে নামুন। বর্তমান দুঃশাসন মোকাবিলায় সমস্ত গণতান্ত্রিক অংশের রাজপথে নামা এখন সময়ের দাবি। সেক্ষেত্রে যার যার জোট ও দল ঠিক রেখেও রাজপথে আন্দোলনের মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব। আর রাজপথের ঐক্য গড়ে উঠলে জনগণ আস্থার একটা জায়গা পাবে। তারাও রাস্তায় নামতে পারে।’

এদিকে সরকারবিরোধী অন্যান্য দলগুলোর নেতারাও বলছেন, আনুষ্ঠানিভাবে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট থেকে জোটে যাওয়া বা রাজপথে কর্মসূচিভিত্তিক জোট গঠন করার প্রস্তাব এখনও তারা পায়নি। তবে অনানুষ্ঠানিকভাবে ঐক্যফ্রন্টের নেতারা বিভিন্ন সময় এ নিয়ে আলাপ-আলোচনা করেছেন।

সেক্ষেত্রে ন্যূনতম কর্মসূচির বা দাবির প্রেক্ষিতে জোট হতে পারে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে এককভাবে তিনশ’ আসনে প্রার্থী দিয়েছিল ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। দলটির সঙ্গেও নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ গণমাধ্যমকে বলেছেন, আনুষ্ঠানিকভাবে জোটে যাওয়ার জন্য ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি। তবে ঐক্যফ্রন্টের অনেক নেতার সংগে তাদের রমজান ও ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় হয়েছে।

আরো সংবাদ পরতে পারেন

মতামত দেওয়া বন্ধ আছে