দেশবাসীকে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জামায়াতের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর জনাব মকবুল আহমাদ পবিত্র ঈদুল আয্হা উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে গত ১০ আগস্ট নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেনঃ- নিম্নোক্ত বিবৃতি প্রদান করেছেনঃ-

“কুরবাণীর মহান আদর্শ নিয়ে পবিত্র ঈদুল আয্হা আমাদের দ্বারে সমাগত। এ ঈদ আমাদের সার্বিক ত্যাগের শিক্ষা দেয়। মুসলমানদের নিকট ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আয্হা- এ দু’টি ঈদই আনন্দের দিন।

এ দু’ঈদে মানুষ সকল ভেদাভেদ, হিংসা, বিদ্বেষ ভুলে গিয়ে পরস্পর পরস্পরের নিকটবর্তী হয় এবং ঈদগাহে গিয়ে নামাজ আদায় করে। দু’টি ঈদ আমাদেরকে শুধু আনন্দই দেয় না, মানুষে মানুষে ভেদাভেদ ও

অনৈক্য ভুলে গিয়ে পরস্পরকে ভ্রাতৃত্ব, সম্প্রীতি এবং সৌহার্দ্যরে বন্ধনে আবদ্ধ করে সামাজিক বন্ধনকে সুদৃঢ় করে। ঈদ আমাদের ব্যক্তিগত, সামাজিক ও জাতীয়ভাবে ঐক্যের বন্ধন শক্তিশালী করে।

ঈদুল আযহা মানুষকে ত্যাগ ও কুরবাণীর আদর্শে উজ্জীবিত করে সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বৈষম্য এবং শোষণ দূর করে একটি শোষণমুক্ত ইনসাফ ভিত্তিক সমাজ গঠনের জন্য ত্যাগ স্বীকারে অনুপ্রেরণা দেয়।

আমরা যদি ত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সকলেই বাস্তবজীবনে ইসলামী আদর্শ অনুসরণ করে সমাজে ন্যায় ও ইনসাফ কায়েম করতে পারি তাহলেই আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব হবে। সন্তুষ্টি অর্জন করা সম্ভব হবে।

হযরত ইব্রাহিম (আঃ) ও তাঁর স্ত্রী বিবি হাজেরা এবং তাদের প্রিয় পুত্র হযরত ইসমাইল (আঃ) ত্যাগের যে মহান আদর্শ স্থাপন করে গিয়েছেন সেইভাবে আমরাও যদি আল্লাহর দ্বীনের জন্য নিজেদের প্রিয়বস্তু, ধন-সম্পদ কুরবাণী করার জন্য প্রস্তুত হতে পারি তাহলেই আমাদের কুরবাণী স্বার্থক হবে।

জাতি এমন এক সময় পবিত্র ঈদুল আযহা উদযাপন করতে যাচ্ছে যখন গোটা দেশে অসংখ্য মানুষ ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে কষ্ট পাচ্ছে এবং প্রায় শতাধিক লোক ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি………রাজীঊন)।

তাদের পরিবারে ঈদের আনন্দ নেই। যারা ইন্তেকাল করেছেন তাদের রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং তাদের পরিবার-পরিজন ও ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্তদের প্রতি আমি গভীর সমবেদনা-

জানিয়ে অসুস্থদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি এবং ডেঙ্গুজ্বরের কবল থেকে দেশবাসীকে রক্ষার জন্য আল্লাহর কাছে দোয়া করছি। দেশে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংবিধানিক সংকট চলছে।

সারা দেশে সরকারী দলের নেতা-কর্মীরা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজী, হত্যা, গুম ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। বর্তমানে দেশে এক নৈরাজ্যজনক অবস্থা বিরাজ করছে।

বর্তমানে সমস্যা জর্জরিত দেশবাসীর মনে শান্তি নেই। পবিত্র ঈদুল আযহার পূর্ব মুহূর্তে জম্মু-কাশ্মীরের মুসলমানদের উপর ভারত সরকার চরম জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে। জুলুম-নির্যাতন চালাচ্ছে।

ভারতের জুলুম-নির্যাতন-নিপীড়ন থেকে তাদের রক্ষা করার জন্য এবং পবিত্র মক্কায় হজ্জব্রত পালন করতে গিয়ে সম্প্রতি যারা ইন্তেকাল করেছেন আমি তাদের জান্নাতুল ফিরদৌসে দাখিল করার জন্য আল্লাহ সুবহানাহু তায়ালার নিকট দোয়া করছি ও তাদের শোক সন্তপ্ত পরিবার-পরিজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।

পরিশেষে ঈদুল আয্হা উপলক্ষ্যে আমি দেশবাসী সকলকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি এবং মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করছি তিনি আমাদের সবাইকে সুন্দর পরিবেশে ঈদুল আয্হা উদ্যাপন করার ও এ ঈদের শিক্ষা বাস্তব জীবনে ধারণ করার তাওফিক দান করুন।”

মাদ্রাসা পড়ুয়া ছাত্র ‘আবরার’ হলেন গুগলের ইঞ্জিনিয়ার!

বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলে যোগ দিলেন চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান নাদিমুল আবরার। বুয়েট থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্মাতক করা আবরার দাখিল পাস করেন ফেনী থেকে।

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার আবদুল কাদেরের সন্তান তিনি। শুক্রবার রাতে পোল্যান্ডে গুগলের ওয়ারশ অফিসে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে যোগ দেন তিনি। জানা গেছে, নাদিমুল আবরার এ বছরই বুয়েট থেকে কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন।

পাস করার সঙ্গে সঙ্গে সিঙ্গাপুরের একটি কোম্পানি ও গুগল থেকে তার চাকরির অফার আসে। এরমধ্যে সে গুগলকেই বেছে নেয়। তার চাচা ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এনাম-উল হক এই তথ্য জানান।

তবে বাবার চাকরির সুবাদে তার শৈশব কেটেছে কুমিল্লায়। তার বাবা আবদুল কাদের বর্তমানে কুমিল্লা বার্ড-এর পরিচালক। তবে আরবি মাধ্যমে পড়ালেখার কারণে তার কৈশোর কেটেছে ফেনীতে। বলতে গেলে ফেনী তাদের সেকেন্ড হোম।

ড. এনাম-উল হক জানান, ফেনীর জামিয়াতুল ফালাহিয়া মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাস করে কুমিল্লায় বাবার কর্মস্থলে ফিরে যান নাদিমুল আবরার। এইচএসসি পাস করেন কুমিল্লা ইস্পাহানি পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে।

মাদ্রাসায় পড়াকালীন সময়েই গণিত ও বিজ্ঞানের তুখোড় ছাত্র হিসেবে তার নাম ছাত্র-শিক্ষকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়ে। এইচএসসি পড়াকালীন সময়ে সে গণিত অলিম্পিয়াডে চ্যাম্পিয়ন হয়।

বুয়েটে গিয়ে তার কম্পিউটার প্রোগ্রামিংয়ে নেশা জাগে। ইনফরমেটিক্স অলিম্পিয়াডসহ বিভিন্ন প্রোগ্রামিং কনটেস্টে সে কৃতিত্ব প্রদর্শন করে। আইওআইয়ের জন্য চূড়ান্ত বাছাইয়ে সিলেক্ট হয়েও সে দুর্ভাগ্যবশত অংশগ্রহণ করতে পারেনি।

আবরারের দাদা সীতাকুণ্ড থেকে ফেনী অঞ্চলের কিংবদন্তি আধ্যাত্মিক সাধক ও পীর প্রফেসর নূরুল আবছার। তার চাচারা হলেন- চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. রশীদ আল ফারুকী (খাইরুল বশর), ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি অধ্যাপক ড. এনাম-উল হক, সাংবাদিক আক্তার-উন নবী ও ডা. নুর মোহাম্মদ।